সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থাপনা সংরক্ষণের উদ্যোগে সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধি দল। জাতীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ডিও লেটারের প্রেক্ষিতে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘর, দক্ষিণডিহি, ফুলতলা, খুলনার সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়া শ্যামনগরের বংশীপুর শাহী মসজিদ, ঐতিহাসিক হাবসীখানা, ভুরুলিয়ার জাহাজঘাটা, নকিপুরের প্রাচীন জমিদারবাড়ি এবং নহবতখানা পরিদর্শন করেন। এসব স্থাপনার বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে সংরক্ষণযোগ্যতা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন।
পরিদর্শনকালে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন শ্যামনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস. এম. মোস্তফা কামালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর অতীত ঐতিহ্য, বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
জানা যায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়াকে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্যামনগরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা বহু শতাব্দীর ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। বংশীপুর শাহী মসজিদ এলাকায় একটি দীর্ঘাকৃতির প্রাচীন কবর রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরের নিকটবর্তী হওয়ায় এলাকাটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া হাবসীখানা, নকিপুরের জমিদারবাড়ি, নহবতখানা এবং ভুরুলিয়ার জাহাজঘাটা অতীতের সামাজিক, প্রশাসনিক ও সামরিক ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে এসব স্থাপনার অনেকাংশই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। কোথাও দেয়াল ভেঙে পড়ছে, কোথাও স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে দ্রুত সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য ও স্থাপত্য নিদর্শন চিরতরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর মতে, শ্যামনগর সুন্দরবনসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক এ অঞ্চলে আসেন। ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পরিদর্শন শেষে সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়া সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, সরকারি উদ্যোগে দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে শ্যামনগরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

বিশেষ প্রতিনিধি 




















