প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আনসার বাহিনীকে আধুনিক ও বহুমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রযুক্তিনির্ভর আনসার গড়ার ঘোষণা

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও বহুমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আনসার বাহিনী ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বুধবার (২০ মে) সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমির সফিপুর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ, বিশেষ মহড়া ও সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আনসার বাহিনী এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাহিনী নয়; এটি দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিল্পাঞ্চল, সমুদ্রবন্দর, পার্বত্য এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আনসার বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও বাহিনীটির অবদান প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আনসার ও ভিডিপির ১৩ হাজারেরও বেশি সদস্য বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে টিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ততায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সঞ্জীবন প্রকল্প, আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।” সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আনসার বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বাহিনী দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সকাল ৯টায় ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি আনসার সদস্যদের বিভিন্ন মৌলিক ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী ও মহড়ায় অংশ নেওয়া সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তনে বিভিন্ন জেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সদস্যদের কল্যাণে সরকার ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান- এই দুই খাতকে সমন্বয় করে আনসার বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ দেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আনসার বাহিনী ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে সফিপুর একাডেমি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আনসার সদস্যরা শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বর্ণাঢ্য আয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আনসার বাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আনসার বাহিনীকে আধুনিক ও বহুমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রযুক্তিনির্ভর আনসার গড়ার ঘোষণা

প্রকাশ: ১১:১৪:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক ও বহুমুখী বাহিনীতে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আনসার বাহিনী ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বুধবার (২০ মে) সকালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমির সফিপুর ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ, বিশেষ মহড়া ও সমাবেশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আনসার বাহিনী এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বাহিনী নয়; এটি দেশের উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিল্পাঞ্চল, সমুদ্রবন্দর, পার্বত্য এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আনসার বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায়ও বাহিনীটির অবদান প্রশংসনীয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আনসার ও ভিডিপির ১৩ হাজারেরও বেশি সদস্য বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল সেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরাঞ্চলে টিডিপি সদস্যদের সম্পৃক্ততায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “সঞ্জীবন প্রকল্প, আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।” সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দেশের তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই আনসার বাহিনীকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ বাহিনী দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সকাল ৯টায় ইয়াদ আলী প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পরে তিনি আনসার সদস্যদের বিভিন্ন মৌলিক ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী ও মহড়ায় অংশ নেওয়া সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে মিলনায়তনে বিভিন্ন জেলার আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। সদস্যদের কল্যাণে সরকার ভবিষ্যতেও কাজ চালিয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

সরকার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান- এই দুই খাতকে সমন্বয় করে আনসার বাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ দেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে আনসার বাহিনী ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এদিকে সমাবেশকে ঘিরে সফিপুর একাডেমি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত আনসার সদস্যরা শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বর্ণাঢ্য আয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আনসার বাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমেও দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।