প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে পুরোনো একটি তত্ত্ব ভুল হতে পারে—দাবি বিজ্ঞানীদের

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি কয়েক দশক ধরে প্রচলিত একটি তত্ত্বকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ১৯৬১ সাল থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ধারণাটি প্রচলিত যে, পৃথিবীতে পানি ও প্রাণ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান সরবরাহ করেছিল ধূমকেতু। মহাকাশ থেকে প্রাণের উপাদান পৃথিবীতে আসার বৃহত্তর ধারণাটি ‘প্যানস্পার্মিয়া’ নামে পরিচিত, যার বৈজ্ঞানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯০৮ সালে।

প্রাণ সৃষ্টির জন্য জটিল জৈব অণু অপরিহার্য। কিন্তু পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশে প্রাণের উৎপত্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ধূলিকণা ও বরফ দিয়ে তৈরি ধূমকেতুতে পানি ছাড়াও বিভিন্ন জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। এ কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির উপাদান পৌঁছে দিতে ধূমকেতুর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ৪০০ কোটি বছরের বেশি আগে পৃথিবী অসংখ্য ধূমকেতুর আঘাতের মুখে পড়েছিল। ওই সময়ে ১০০ মিটারের বেশি ব্যাসের এক লাখের বেশি ধূমকেতু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব ধূমকেতুর অধিকাংশের আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল জৈব অণুগুলোর অক্ষত থাকার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিএনএন জানায়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমিতে গবেষণাটি পরিচালনা করেন রিচার্ড অ্যানসলো। তাঁর নেতৃত্বে গবেষক দল ধূমকেতুর গঠন ও বিবর্তনের আধুনিক মডেল ব্যবহার করে প্রাচীন পৃথিবীর পরিস্থিতি এক লাখবার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

অ্যানসলো জানান, সিমুলেশনের ৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধূমকেতুর সংঘর্ষই ঘটেনি। অবশিষ্ট ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্তত একটি সংঘর্ষ ঘটলেও খুব অল্পসংখ্যক পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ তিনটি সংঘর্ষের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, ধূমকেতুর আঘাতের গতিবেগ এত বেশি ছিল যে, এগুলোর মাধ্যমে অক্ষত জৈব অণু পৃথিবীতে পৌঁছানোর সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

গবেষণাটিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হাইড্রোজেন সায়ানাইড বা এইচসিএন নামের একটি রাসায়নিক যৌগকে। প্রাণ সৃষ্টির প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হ্যালি, হেল-বপসহ কয়েক ডজন ধূমকেতুতে এই যৌগের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে এটি অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যামিনো অ্যাসিডই প্রোটিনের মৌলিক উপাদান।

গবেষকদের মতে, ধূমকেতু পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময় প্রচণ্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি হয়। এতে এইচসিএনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো ধূমকেতু থেকে এসব উপাদান অক্ষত অবস্থায় পৌঁছালেও সমুদ্রে পড়লে তা দ্রুত পানিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রাণ সৃষ্টির জন্য ফসফরাস ও সালফারযুক্ত আরও কিছু উপাদান প্রয়োজন, যেগুলো ধূমকেতুতে নিয়মিত পাওয়া যায় না।

তবে ধূমকেতু ছাড়াও প্রাণের উৎপত্তির কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা, পৃথিবীর আদিম পরিবেশেই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি হয়েছিল। অন্য সম্ভাব্য উৎস হতে পারে গ্রহাণু। ধূমকেতুর তুলনায় গ্রহাণুগুলো সাধারণত কম গতিতে পৃথিবীতে আঘাত করে। গ্রহাণু বেন্নু ও রিউগু থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ অ্যামিনো অ্যাসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নতুন গবেষণায় মঙ্গলের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। পৃথিবীর তুলনায় ছোট ও সূর্য থেকে দূরে হওয়ায় মঙ্গলে ধূমকেতুর আঘাতের গতিবেগ তুলনামূলক কম হতে পারে। ফলে সেখানে এইচসিএন অক্ষত থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ধূমকেতুর ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

তবে ধূমকেতুর ভূমিকা একেবারে নাকচ করে দিচ্ছেন না অন্য বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় যুক্ত না থাকা লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কুইনি চ্যানের মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগেই ধূমকেতুর ভেতরে এইচসিএন থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল জৈব যৌগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেগুলো পৃথিবীতে পৌঁছে প্রাণের উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবিয়ন কলেজের অধ্যাপক নিকোল জেলনারও মনে করেন, গবেষণাটি ধূমকেতুর ভূমিকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাতিল না করলেও প্রাণের উৎপত্তিতে সেগুলোর অবদান কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা তুলে ধরেছে।

সূচনায়ই থেমে গেছে নতুন বরফযুগ, দাবি বিজ্ঞানীদের

সূচনায়ই থেমে গেছে নতুন বরফযুগ, দাবি বিজ্ঞানীদের

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর প্রভাবে পৃথিবীতে পরবর্তী বরফযুগের সূচনা সম্ভবত থেমে গেছে। কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের একটি বরফস্তর নিয়ে নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে প্রস্তর যুগের এক প্রাচীন জনপদে সন্ধান মিলেছে প্রায় ১১ হাজার বছর আগের মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস, মৃত্যু ও সামাজিক রীতিনীতির নানা নিদর্শন। পাথরের স্তম্ভ, চিতাবাঘ ও ষাঁড়ের অবয়ব, মানুষের কঙ্কাল এবং মুখ বন্ধ করা অবস্থায় খোদাই করা একটি ক্ষুদ্র মূর্তি প্রত্নতাত্ত্বিকদের সামনে…

মঙ্গলের চাঁদে প্রথমবার যাচ্ছে মহাকাশযান, পাঠাচ্ছে জাপান

মঙ্গলের চাঁদে প্রথমবার যাচ্ছে মহাকাশযান, পাঠাচ্ছে জাপান

পৃথিবীর নিকট প্রতিবেশী মঙ্গলের চাঁদ ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বিশ্বের প্রথমবার মহাকাশযান পাঠাচ্ছে জাপান। এই মিশন চলবে ৫ বছর ধরে। এই মিশনটি কীভাবে আলুর মতো গঠনের ফোবোস ও এর ছোট সঙ্গী ডিমোস গঠিত হয়েছিল সে বিষয়ে ক্লু দেবে এবং সৌরজগতে জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কেও আলোকপাত করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন: ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তলানিতে, জয়ের আশা ডেমোক্র্যাটদের

প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে পুরোনো একটি তত্ত্ব ভুল হতে পারে—দাবি বিজ্ঞানীদের

প্রকাশ: ১২:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি কয়েক দশক ধরে প্রচলিত একটি তত্ত্বকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ১৯৬১ সাল থেকে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ধারণাটি প্রচলিত যে, পৃথিবীতে পানি ও প্রাণ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় জৈব উপাদান সরবরাহ করেছিল ধূমকেতু। মহাকাশ থেকে প্রাণের উপাদান পৃথিবীতে আসার বৃহত্তর ধারণাটি ‘প্যানস্পার্মিয়া’ নামে পরিচিত, যার বৈজ্ঞানিক আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৯০৮ সালে।

প্রাণ সৃষ্টির জন্য জটিল জৈব অণু অপরিহার্য। কিন্তু পৃথিবীর প্রাথমিক পরিবেশে প্রাণের উৎপত্তির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ধূলিকণা ও বরফ দিয়ে তৈরি ধূমকেতুতে পানি ছাড়াও বিভিন্ন জৈব পদার্থ পাওয়া যায়। এ কারণে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মনে করতেন, পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির উপাদান পৌঁছে দিতে ধূমকেতুর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন গবেষণা অনুযায়ী, ৪০০ কোটি বছরের বেশি আগে পৃথিবী অসংখ্য ধূমকেতুর আঘাতের মুখে পড়েছিল। ওই সময়ে ১০০ মিটারের বেশি ব্যাসের এক লাখের বেশি ধূমকেতু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব ধূমকেতুর অধিকাংশের আঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল জৈব অণুগুলোর অক্ষত থাকার সম্ভাবনা ছিল খুবই কম।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিএনএন জানায়, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের ইনস্টিটিউট অব অ্যাস্ট্রোনমিতে গবেষণাটি পরিচালনা করেন রিচার্ড অ্যানসলো। তাঁর নেতৃত্বে গবেষক দল ধূমকেতুর গঠন ও বিবর্তনের আধুনিক মডেল ব্যবহার করে প্রাচীন পৃথিবীর পরিস্থিতি এক লাখবার সিমুলেশনের মাধ্যমে পরীক্ষা করে।

অ্যানসলো জানান, সিমুলেশনের ৫৪ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো ধূমকেতুর সংঘর্ষই ঘটেনি। অবশিষ্ট ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রে অন্তত একটি সংঘর্ষ ঘটলেও খুব অল্পসংখ্যক পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ তিনটি সংঘর্ষের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। তাঁর মতে, ধূমকেতুর আঘাতের গতিবেগ এত বেশি ছিল যে, এগুলোর মাধ্যমে অক্ষত জৈব অণু পৃথিবীতে পৌঁছানোর সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

গবেষণাটিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে হাইড্রোজেন সায়ানাইড বা এইচসিএন নামের একটি রাসায়নিক যৌগকে। প্রাণ সৃষ্টির প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হ্যালি, হেল-বপসহ কয়েক ডজন ধূমকেতুতে এই যৌগের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে এটি অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যামিনো অ্যাসিডই প্রোটিনের মৌলিক উপাদান।

গবেষকদের মতে, ধূমকেতু পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময় প্রচণ্ড তাপ ও চাপের সৃষ্টি হয়। এতে এইচসিএনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক যৌগ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এমনকি কোনো ধূমকেতু থেকে এসব উপাদান অক্ষত অবস্থায় পৌঁছালেও সমুদ্রে পড়লে তা দ্রুত পানিতে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া প্রাণ সৃষ্টির জন্য ফসফরাস ও সালফারযুক্ত আরও কিছু উপাদান প্রয়োজন, যেগুলো ধূমকেতুতে নিয়মিত পাওয়া যায় না।

তবে ধূমকেতু ছাড়াও প্রাণের উৎপত্তির কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা, পৃথিবীর আদিম পরিবেশেই রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরি হয়েছিল। অন্য সম্ভাব্য উৎস হতে পারে গ্রহাণু। ধূমকেতুর তুলনায় গ্রহাণুগুলো সাধারণত কম গতিতে পৃথিবীতে আঘাত করে। গ্রহাণু বেন্নু ও রিউগু থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় প্রোটিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ অ্যামিনো অ্যাসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে।

নতুন গবেষণায় মঙ্গলের সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। পৃথিবীর তুলনায় ছোট ও সূর্য থেকে দূরে হওয়ায় মঙ্গলে ধূমকেতুর আঘাতের গতিবেগ তুলনামূলক কম হতে পারে। ফলে সেখানে এইচসিএন অক্ষত থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে প্রাচীন মঙ্গলে প্রাণের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ধূমকেতুর ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

তবে ধূমকেতুর ভূমিকা একেবারে নাকচ করে দিচ্ছেন না অন্য বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় যুক্ত না থাকা লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কুইনি চ্যানের মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের আগেই ধূমকেতুর ভেতরে এইচসিএন থেকে তুলনামূলক স্থিতিশীল জৈব যৌগ তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেগুলো পৃথিবীতে পৌঁছে প্রাণের উৎপত্তিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবিয়ন কলেজের অধ্যাপক নিকোল জেলনারও মনে করেন, গবেষণাটি ধূমকেতুর ভূমিকার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাতিল না করলেও প্রাণের উৎপত্তিতে সেগুলোর অবদান কতটা হতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা তুলে ধরেছে।

সূচনায়ই থেমে গেছে নতুন বরফযুগ, দাবি বিজ্ঞানীদের

সূচনায়ই থেমে গেছে নতুন বরফযুগ, দাবি বিজ্ঞানীদের

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোয় বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বেড়েছে। এর প্রভাবে পৃথিবীতে পরবর্তী বরফযুগের সূচনা সম্ভবত থেমে গেছে। কানাডার আর্কটিক অঞ্চলের একটি বরফস্তর নিয়ে নতুন গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

তুরস্কের প্রস্তর যুগের জনপদে ১১ হাজার বছর আগের মানুষের গল্প

তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে প্রস্তর যুগের এক প্রাচীন জনপদে সন্ধান মিলেছে প্রায় ১১ হাজার বছর আগের মানুষের জীবনযাপন, বিশ্বাস, মৃত্যু ও সামাজিক রীতিনীতির নানা নিদর্শন। পাথরের স্তম্ভ, চিতাবাঘ ও ষাঁড়ের অবয়ব, মানুষের কঙ্কাল এবং মুখ বন্ধ করা অবস্থায় খোদাই করা একটি ক্ষুদ্র মূর্তি প্রত্নতাত্ত্বিকদের সামনে…

মঙ্গলের চাঁদে প্রথমবার যাচ্ছে মহাকাশযান, পাঠাচ্ছে জাপান

মঙ্গলের চাঁদে প্রথমবার যাচ্ছে মহাকাশযান, পাঠাচ্ছে জাপান

পৃথিবীর নিকট প্রতিবেশী মঙ্গলের চাঁদ ফোবোস থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে বিশ্বের প্রথমবার মহাকাশযান পাঠাচ্ছে জাপান। এই মিশন চলবে ৫ বছর ধরে। এই মিশনটি কীভাবে আলুর মতো গঠনের ফোবোস ও এর ছোট সঙ্গী ডিমোস গঠিত হয়েছিল সে বিষয়ে ক্লু দেবে এবং সৌরজগতে জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কেও আলোকপাত করবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন।