দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হঠাৎ করেই পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
ছাত্র-জনতার চলমান আন্দোলনের তাপে, তিনি সোমবার দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সামরিক হেলিকপ্টারে ঢাকা ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
এর মাত্র একদিন আগেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নামলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এই অবস্থায় সরকার সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করে। এরপরই শেখ হাসিনা দ্রুত রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন এবং দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত, অতীতে শেখ হাসিনা বহুবার প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর মানুষ নন। এমনকি চীন সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, “শেখ হাসিনা পালায় না।” ১ আগস্ট কেআইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে তিনি পুনরায় বলেন, “আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই করব, পালিয়ে যাব না।” তার এমন দৃঢ় ঘোষণার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় হঠাৎ এই প্রস্থানে দলের ভেতরে এবং বাইরে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ।
আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলছেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা কিছুই জানতেন না। কেউ কেউ এমনকি দাবি করেছেন, দলীয় হাইকমান্ডের একাংশও অবগত ছিলেন না শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপ সম্পর্কে। দলটির নেতারা এখন নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় করণীয় নির্ধারণে হিমশিম খাচ্ছেন।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমে লিখেছেন, “এই ধরনের জনআন্দোলন সহজেই প্রশমিত করা যেত, কিন্তু একগুঁয়েমির কারণে তা হয়নি। এখন আমরা ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি।” তিনি আরও বলেন, “ঘটনাস্থলগুলোতে প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসাবে যতই বলা হোক, বাস্তবে তা আরও বেশি। অনেক মৃতদেহ এখনও সনাক্ত হয়নি, কোথাও কোথাও গণকবরের খবরও পাওয়া যাচ্ছে।”
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকে জানতে চাচ্ছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী চলে গেলেও তার শাসনামলের বিভীষিকাময় ঘটনার দায় কে নেবে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এ ধরনের আকস্মিক প্রস্থানে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। তবে এর ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আন্দোলনের গতিপ্রবাহের ওপর।
দৈনিক টার্গেট 






















