সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র হট্টগোল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৬:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

সালাহউদ্দিন আহমেদ

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ‘শাহবাগ ও পল্টন’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে পুরো অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

অধিবেশনের শুরুতে সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ওঠে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জানতে চান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে সফল মনে করেন নাকি ব্যর্থ।

প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ধরনের প্রশ্ন সংসদের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ- এ ধরনের কথা শাহবাগ বা পল্টনের সমাবেশে বলা যেতে পারে, কিন্তু সংসদে এভাবে প্রশ্ন করা ঠিক নয়।”

‘নির্দিষ্ট উদাহরণ দিন’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ তুলতে হলে নির্দিষ্ট ঘটনা ও তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কোন অপরাধের বিচার হয়নি বা কোন ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারকে ব্যর্থ বলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘শাহবাগ-পল্টন’ মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘শাহবাগ’ ও ‘পল্টন’ শব্দ দুটি উচ্চারিত হওয়ার পরপরই বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং উচ্চস্বরে বক্তব্য দিতে থাকেন। কয়েক মিনিট ধরে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উত্তেজনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।” এরপর স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা

পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় একজন মন্ত্রীর ভাষা ও আচরণ আরও সংযত হওয়া উচিত।

তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই বিরোধী সদস্যদের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং এমনভাবে বক্তব্য দেন যেন তিনি সংসদের সদস্যদের শিক্ষক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংসদে কারও ছাত্র হতে আসিনি। শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকলে তিনি আলাদা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন, সেখানে যার ইচ্ছা শিখবে।”

ক্ষমা চাওয়ার দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য সংসদের মর্যাদা ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করেছে। তাই সংসদের পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন করে সামনে আসে। প্রশ্নোত্তর পর্বে শুরু হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত সংসদের সামগ্রিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। বিষয়টি নিয়ে আগামী অধিবেশনেও আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংসদ সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যে তীব্র হট্টগোল

প্রকাশ: ০৬:৪৬:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ‘শাহবাগ ও পল্টন’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে পুরো অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিরোধী সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানালে স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

অধিবেশনের শুরুতে সরকারের গত ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ওঠে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে জানতে চান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে সফল মনে করেন নাকি ব্যর্থ।

প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ধরনের প্রশ্ন সংসদের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল না ব্যর্থ- এ ধরনের কথা শাহবাগ বা পল্টনের সমাবেশে বলা যেতে পারে, কিন্তু সংসদে এভাবে প্রশ্ন করা ঠিক নয়।”

‘নির্দিষ্ট উদাহরণ দিন’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, গত ছয় মাসে সংঘটিত প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগ তুলতে হলে নির্দিষ্ট ঘটনা ও তথ্য উপস্থাপন করতে হবে।

তিনি বিরোধী সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, কোন অপরাধের বিচার হয়নি বা কোন ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারকে ব্যর্থ বলা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘শাহবাগ-পল্টন’ মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘শাহবাগ’ ও ‘পল্টন’ শব্দ দুটি উচ্চারিত হওয়ার পরপরই বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তারা নিজ নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান এবং উচ্চস্বরে বক্তব্য দিতে থাকেন। কয়েক মিনিট ধরে সংসদ কক্ষে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উত্তেজনার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমি আপনার শেল্টার চাই।” এরপর স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার সমালোচনা

পরবর্তী সময়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সংসদে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় একজন মন্ত্রীর ভাষা ও আচরণ আরও সংযত হওয়া উচিত।

তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রায়ই বিরোধী সদস্যদের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং এমনভাবে বক্তব্য দেন যেন তিনি সংসদের সদস্যদের শিক্ষক।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সংসদে কারও ছাত্র হতে আসিনি। শিক্ষকতা করার ইচ্ছা থাকলে তিনি আলাদা প্রতিষ্ঠান খুলতে পারেন, সেখানে যার ইচ্ছা শিখবে।”

ক্ষমা চাওয়ার দাবি

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য সংসদের মর্যাদা ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন করেছে। তাই সংসদের পরিবেশ ও শালীনতা বজায় রাখতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

সংসদে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল

এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী দল ও সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নতুন করে সামনে আসে। প্রশ্নোত্তর পর্বে শুরু হওয়া বিতর্ক শেষ পর্যন্ত সংসদের সামগ্রিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে। বিষয়টি নিয়ে আগামী অধিবেশনেও আলোচনা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংসদ সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।