প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় একটি টমেটো যোগ করা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে- এমনই আশাব্যঞ্জক তথ্য উঠে এসেছে ইতালির এক নতুন গবেষণায়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত টমেটো খাওয়া ফ্যাটি লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ কমাতে সহায়ক হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিকে এখনই ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই গবেষণা?
নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সাধারণ লিভারের সমস্যা। অতিরিক্ত ওজন, রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে এই রোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, ক্ষত তৈরি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
কীভাবে গবেষণাটি করা হয়?
ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির গবেষকেরা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ৭৯ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে ছয় সপ্তাহের একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়।
প্রথম দলকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ গ্রাম কাঁচা টমেটো এবং ৫০ গ্রাম টমেটো সস খাওয়ানো হয়। অন্য দলকে একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে বলা হলেও তাদের খাবারের তালিকায় টমেটো রাখা হয়নি।
গবেষণা শুরুর আগে এবং ছয় সপ্তাহ শেষে বিশেষ স্ক্যানের মাধ্যমে সবার লিভারে জমে থাকা চর্বির পরিমাণ পরিমাপ করা হয়।
কী ফল পাওয়া গেছে?
গবেষণার শেষে দেখা যায়, দুই দলেরই লিভারের চর্বি কিছুটা কমেছে। তবে যারা নিয়মিত টমেটো খেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ছিল আরও বেশি।
টমেটো খাওয়া দলের লিভারের চর্বি প্রায় ১১ শতাংশ কমে।
টমেটো না খাওয়া দলের ক্ষেত্রে কমার হার ছিল প্রায় ৬ শতাংশ।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল টমেটো ও লিভারের সুস্থতার মধ্যে একটি সম্ভাব্য ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।
টমেটো কেন উপকারী হতে পারে?
টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন, ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে এবং কোষকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকদের ধারণা, এসব উপাদান লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের সতর্ক বার্তা
গবেষণাটি আশাব্যঞ্জক হলেও গবেষকেরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুধু টমেটো খেয়ে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা সম্ভব- এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনও নেই।
তাদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। টমেটো একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসেবে উপকারী হতে পারে, তবে এটি কোনো বিকল্প চিকিৎসা নয়।
আরও বড় গবেষণার প্রয়োজন
গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nutrients-এ প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে অর্থায়ন করেছে ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা হলে টমেটো এবং ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যাবে।
দৈনিক টার্গেট 






















