দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখনো ভঙ্গুর

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে চলতি বছরে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হলেও গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হয়েছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আজ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশে একধরনের স্থবিরতা জেঁকে বসেছে। আর অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন যা হচ্ছে, তা মূলত অবনতির দিকেই বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি দেশে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক সূচকে অবনতি হয়েছে। এর বিপরীতে অন্তত একটি সূচকে উন্নতি হয়েছে ৫৫টি দেশে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। ৪২টি দেশে এই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারে অবনতি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের পতন হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তরুণদের নেতৃত্বে সরকার পতনের পর দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা অতীতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক নবজাগরণের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। দেশটিতে গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গণতান্ত্রিক সূচকে পরিবর্তন হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির বড় অংশ এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচন ও ওই একই বছরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘটনাপ্রবাহের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। অন্য দিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসনের কিছু উপাদান, আইনের অনুমানযোগ্য প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৫২টি ক্ষেত্রে অবনতি এবং ৪৫টিতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারকে হিসাব থেকে বাদ দিলে চিত্রটি বদলে যায়। তখন অগ্রগতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪, আর অবনতি ২৯।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে গত পাঁচ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচলের স্বাধীনতায় অগ্রগতি হয়েছে। অন্য দিকে বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবনতির কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে পাকিস্তানে সামরিক ও নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং বিচার বিভাগের ওপর প্রভাবের মতো বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইন বিরোধী মতকে দমনের হাতিয়ার হতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

কামরাঙ্গীরচরে ভবন থেকে সিলিন্ডার পড়ল মাথায়, প্রাণ গেল সড়কে দাঁড়ানো ব্যক্তির

দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এখনো ভঙ্গুর

প্রকাশ: ১২:০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে চলতি বছরে একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন পার্লামেন্ট গঠিত হলেও গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হয়েছে। তবে দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সুইডেনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্সের (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া) প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আজ প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি ২০২৬’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশে একধরনের স্থবিরতা জেঁকে বসেছে। আর অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন যা হচ্ছে, তা মূলত অবনতির দিকেই বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে মূল্যায়ন করা দেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি দেশে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক সূচকে অবনতি হয়েছে। এর বিপরীতে অন্তত একটি সূচকে উন্নতি হয়েছে ৫৫টি দেশে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে। ৪২টি দেশে এই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এরপর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারে অবনতি দেখা গেছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে সরকারের পতন হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। তরুণদের নেতৃত্বে সরকার পতনের পর দেশটির সংসদীয় ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল, যা অতীতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া গণতান্ত্রিক নবজাগরণের আশা জাগিয়ে তুলেছিল। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি। দেশটিতে গণতন্ত্র এখনো ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গণতান্ত্রিক সূচকে পরিবর্তন হয়েছে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার ও কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রে কিছুটা অবনতি হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কিছু সূচকে উন্নতি হয়েছে। তবে এই অগ্রগতির বড় অংশ এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রতিবেদনে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ২০২৪ সালের নির্বাচন ও ওই একই বছরে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ঘটনাপ্রবাহের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে। অন্য দিকে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, নাগরিক স্বাধীনতা, আইনের শাসনের কিছু উপাদান, আইনের অনুমানযোগ্য প্রয়োগ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গণতান্ত্রিক সূচকে ৫২টি ক্ষেত্রে অবনতি এবং ৪৫টিতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারকে হিসাব থেকে বাদ দিলে চিত্রটি বদলে যায়। তখন অগ্রগতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৪, আর অবনতি ২৯।

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে গত পাঁচ বছরে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনসাধারণের চলাচলের স্বাধীনতায় অগ্রগতি হয়েছে। অন্য দিকে বিচার বিভাগ ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অবনতির কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে পাকিস্তানে সামরিক ও নির্বাহী ক্ষমতার প্রভাব, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং বিচার বিভাগের ওপর প্রভাবের মতো বিষয়গুলো গণতান্ত্রিক ভারসাম্যকে দুর্বল করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করা হবে আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই দায়িত্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীতে আপত্তি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইন বিরোধী মতকে দমনের হাতিয়ার হতে পারে। দলটির পক্ষ থেকে অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।