ছোট স্বপ্নেও উৎপাত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত হয়েছে
প্রতীকী ছবি

আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই। কথায় কথায় যখন একসময় তাকে প্রস্তাব করলাম একটা বইয়ের দোকান করো না, যেখানে দুর্লভ সব বই পাওয়া যাবে। শুধু বিক্রির জন্য নয়, সব রকমের পাঠকেরা এখানে এসে পড়তেও পারবে। বন্ধুটি প্রস্তাবটিতে শুধু শুধু সায় দিল না, অংশ নিয়েও পড়ল। নতুন দেশি-বিদেশি বই তো সংগ্রহে লেগে পড়ল, সেই সঙ্গে অনেক লেখক এবং যাঁদের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ বই আছে, সেসবও জোগাড় হয়ে গেল। গার্মেন্টসের কারখানাটা সরিয়ে নতুন একটা জায়গায় নিয়ে গেল। পরিত্যক্ত কারখানাটি তিনতলার। দ্বিতীয় তলায় বইয়ের দোকান এবং পাঠাগার, তিনতলায় আর্ট গ্যালারি, ছোট্ট একটা মিলনায়তন, নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ কোকো বলা যায়। বেশ ঘটা করেই উদ্বোধন হয়ে গেল। অনেক গুণী মানুষের পদধূলি পড়ল। শুরুতে ক্রেতা এবং পাঠকও এল। নিচতলার খাবারের দোকানটিও চলল মোটামুটি। কিন্তু বছর দুয়েকের অনেক আগে থেকেই বইয়ের দোকানটায় ক্রেতা এবং পাঠকের সমাবেশ কমতে শুরু করল। লাখ লাখ টাকা লগ্নি করার পর ছয় মাস শেষে ভর্তুকিটা দিন দিন বাড়তেই থাকল। তার মধ্যে গার্মেন্টস কারখানায়ও আগের মতো অর্ডার আসছে না। সারা মাসের কাজের উপযোগী অর্ডারের অভাবে সেখানেও ভর্তুকি দেওয়ার আর উপায় থাকল না। কখনোই ঋণ ছিল না। ঋণ বাড়তে শুরু হলো। বাধ্য হয়ে বইয়ের দোকানটাকে নিচতলায় রেস্তোরাঁর পাশে নিয়ে আসা হলো। তিনতলা ছেড়েই দিতে হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই এই সংকটগুলো শুরু হয়েছে। আমরা বহু ক্লায়কেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নাটককে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানেও বড় ধরনের আঘাত এসেছে। অবশ্য নাট্যকর্মীদের প্রবল প্রাণশক্তি এবং কোনো ধরনের আর্থিক আকাঙ্ক্ষা নেই বলে এখনো চলছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও আগের মতো অনুষ্ঠান করতে পারছে না। শিল্পীরা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে এত দিন যেভাবে চলছিল তা আর চলতে পারছে না। একটা অন্ধকারের পথযাত্রা শুরু হয়েছে। বন্ধুটির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রতিদিনই সে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে দেনদরবার করেছে, কিন্তু সংগঠন বা সরকার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। সব ক্ষেত্রেই সরকার সম্ভবত 'ধীরে চলো' নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আজকের দিনে ধীরে চলো নীতিতে কি কাজ হবে?

ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজগুলো নিয়ে গঠিত হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটা প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি (অধ্যাদেশ জারি হয় ৮ ফেব্রুয়ারি, তবে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়)।

স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন

জনপ্রিয় টার্গেট

ছোট স্বপ্নেও উৎপাত

প্রকাশ: ০৭:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতীকী ছবি

আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই। কথায় কথায় যখন একসময় তাকে প্রস্তাব করলাম একটা বইয়ের দোকান করো না, যেখানে দুর্লভ সব বই পাওয়া যাবে। শুধু বিক্রির জন্য নয়, সব রকমের পাঠকেরা এখানে এসে পড়তেও পারবে। বন্ধুটি প্রস্তাবটিতে শুধু শুধু সায় দিল না, অংশ নিয়েও পড়ল। নতুন দেশি-বিদেশি বই তো সংগ্রহে লেগে পড়ল, সেই সঙ্গে অনেক লেখক এবং যাঁদের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ বই আছে, সেসবও জোগাড় হয়ে গেল। গার্মেন্টসের কারখানাটা সরিয়ে নতুন একটা জায়গায় নিয়ে গেল। পরিত্যক্ত কারখানাটি তিনতলার। দ্বিতীয় তলায় বইয়ের দোকান এবং পাঠাগার, তিনতলায় আর্ট গ্যালারি, ছোট্ট একটা মিলনায়তন, নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ কোকো বলা যায়। বেশ ঘটা করেই উদ্বোধন হয়ে গেল। অনেক গুণী মানুষের পদধূলি পড়ল। শুরুতে ক্রেতা এবং পাঠকও এল। নিচতলার খাবারের দোকানটিও চলল মোটামুটি। কিন্তু বছর দুয়েকের অনেক আগে থেকেই বইয়ের দোকানটায় ক্রেতা এবং পাঠকের সমাবেশ কমতে শুরু করল। লাখ লাখ টাকা লগ্নি করার পর ছয় মাস শেষে ভর্তুকিটা দিন দিন বাড়তেই থাকল। তার মধ্যে গার্মেন্টস কারখানায়ও আগের মতো অর্ডার আসছে না। সারা মাসের কাজের উপযোগী অর্ডারের অভাবে সেখানেও ভর্তুকি দেওয়ার আর উপায় থাকল না। কখনোই ঋণ ছিল না। ঋণ বাড়তে শুরু হলো। বাধ্য হয়ে বইয়ের দোকানটাকে নিচতলায় রেস্তোরাঁর পাশে নিয়ে আসা হলো। তিনতলা ছেড়েই দিতে হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই এই সংকটগুলো শুরু হয়েছে। আমরা বহু ক্লায়কেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই নাটককে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলাম। সেখানেও বড় ধরনের আঘাত এসেছে। অবশ্য নাট্যকর্মীদের প্রবল প্রাণশক্তি এবং কোনো ধরনের আর্থিক আকাঙ্ক্ষা নেই বলে এখনো চলছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও আগের মতো অনুষ্ঠান করতে পারছে না। শিল্পীরা সার্বক্ষণিক পেশা হিসেবে এত দিন যেভাবে চলছিল তা আর চলতে পারছে না। একটা অন্ধকারের পথযাত্রা শুরু হয়েছে। বন্ধুটির কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রতিদিনই সে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে দেনদরবার করেছে, কিন্তু সংগঠন বা সরকার এ বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখায়নি। সব ক্ষেত্রেই সরকার সম্ভবত 'ধীরে চলো' নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু আজকের দিনে ধীরে চলো নীতিতে কি কাজ হবে?

ঢাকা শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজগুলো নিয়ে গঠিত হয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এটা প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি (অধ্যাদেশ জারি হয় ৮ ফেব্রুয়ারি, তবে ৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়)।

স্কুলে যাওয়ার নাম করে তিন বান্ধবী পার্কে যাচ্ছিল। পরনে ছিল স্কুলের পোশাক। সঙ্গে ছিল অতিরিক্ত পোশাক। দুপুরের খাবারও ছিল সঙ্গে। পার্কে একটা দারুণ সময় কাটাবে বলে প্রস্তুত ছিল তারা। কিন্তু বিধি বাম। পড়বি তো পড় মালির ঘাড়ে! সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পরিবেশন করে কাজের জায়গায় ফিরছিলেন