এড়িয়ে চলুন কফি পানের ৬ ভুল

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন সাধারণত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে কফির ধরন ও কাপের আকার অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ ভিন্ন হয়। তাই সবার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক কাপ কফি নিরাপদ—এমনটি বলা যায় না।

ক্যাফেইনের প্রভাব অনেকক্ষণ শরীরে থাকে। ফলে ঘুমের সময় কমে যেতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে। যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা বিকেলের পর কফি পান এড়িয়ে চলতে পারেন। প্রয়োজনে ঘুমানোর অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ রাখুন।

কফির তেতো স্বাদ কমাতে অনেকে বেশি চিনি ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। মিষ্টি সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি কফির পরিবর্তে সাধারণ কফি বেছে নেওয়া ভালো।

সবার ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এতে বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেটে অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

আপনার যদি খালি পেটে কফি পান করলে এমন সমস্যা হয়, তাহলে খাবারের পরে কফি পান করুন।

কফিতে পানি থাকলেও শুধু কফির ওপর নির্ভর করে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করা উচিত নয়। পরিমিত কফি সাধারণত শরীরের পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে না, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে।

কারও অল্প কফি পান করলে বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি। এ ছাড়া কিছু ওষুধ গ্রহণকারী এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির কফি পানের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পরিমিত পরিমাণে কফি পান করুন, চিনি কম ব্যবহার করুন এবং ঘুমের সময়ের কাছাকাছি কফি পান করবেন না। নিজের শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পরামর্শ দিয়েছেন: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি অপসারণ, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে…

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

সবার চোখ আইসিএল সার্জারি অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত নয়। এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আইসিএলের পূর্ণ রূপ ইমপ্ল্যান্টেবল কলামার লেন্স। এটি বিশেষ উপাদানে তৈরি পাতলা, নমনীয় কৃত্রিম লেন্স। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের রঙিন অংশ বা আইরিসের পেছনে এবং প্রাকৃতিক…

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো বেশ কয়েকটি ক্রনিক রোগের মূলে রয়েছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। মেটাবলিক এই রোগের মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রকোপ কমাতে এবং প্রতিরোধ করতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

এড়িয়ে চলুন কফি পানের ৬ ভুল

প্রকাশ: ১০:০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে ক্লান্তি কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন সাধারণত ক্ষতিকর প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে কফির ধরন ও কাপের আকার অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ ভিন্ন হয়। তাই সবার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক কাপ কফি নিরাপদ—এমনটি বলা যায় না।

ক্যাফেইনের প্রভাব অনেকক্ষণ শরীরে থাকে। ফলে ঘুমের সময় কমে যেতে পারে এবং ঘুমের মানও খারাপ হতে পারে। যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা বিকেলের পর কফি পান এড়িয়ে চলতে পারেন। প্রয়োজনে ঘুমানোর অন্তত ছয় ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ রাখুন।

কফির তেতো স্বাদ কমাতে অনেকে বেশি চিনি ব্যবহার করেন। কিন্তু নিয়মিত অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, দাঁতের ক্ষয় এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। মিষ্টি সিরাপ, হুইপড ক্রিম বা অতিরিক্ত মিষ্টি কফির পরিবর্তে সাধারণ কফি বেছে নেওয়া ভালো।

সবার ক্ষেত্রে খালি পেটে কফি পান ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এতে বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেটে অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হতে পারে।

আপনার যদি খালি পেটে কফি পান করলে এমন সমস্যা হয়, তাহলে খাবারের পরে কফি পান করুন।

কফিতে পানি থাকলেও শুধু কফির ওপর নির্ভর করে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করা উচিত নয়। পরিমিত কফি সাধারণত শরীরের পানিশূন্যতা সৃষ্টি করে না, তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়তে পারে।

কারও অল্প কফি পান করলে বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ সীমিত রাখা জরুরি। এ ছাড়া কিছু ওষুধ গ্রহণকারী এবং নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির কফি পানের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পরিমিত পরিমাণে কফি পান করুন, চিনি কম ব্যবহার করুন এবং ঘুমের সময়ের কাছাকাছি কফি পান করবেন না। নিজের শারীরিক অবস্থা ও ক্যাফেইন সহ্য করার ক্ষমতা অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তুলুন।

পরামর্শ দিয়েছেন: পুষ্টিবিদ লিনা আকতার, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে দরকার সচেতনতা

কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি অপসারণ, শরীরের লবণ ও খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে কিডনি। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দীর্ঘ সময় ধরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে…

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

চশমার বিকল্প আইসিএল সার্জারি, যা জানা জরুরি

সবার চোখ আইসিএল সার্জারি অস্ত্রোপচারের উপযুক্ত নয়। এর সুবিধা, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আইসিএলের পূর্ণ রূপ ইমপ্ল্যান্টেবল কলামার লেন্স। এটি বিশেষ উপাদানে তৈরি পাতলা, নমনীয় কৃত্রিম লেন্স। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চোখের রঙিন অংশ বা আইরিসের পেছনে এবং প্রাকৃতিক…

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো বেশ কয়েকটি ক্রনিক রোগের মূলে রয়েছে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স। মেটাবলিক এই রোগের মূল কারণ অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রকোপ কমাতে এবং প্রতিরোধ করতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে।