মার্কিন বিচার বিভাগের দফায় দফায় প্রকাশ করা এপস্টেইনের নথি এবার হুতিদের অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু নথিকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছে তারা। এর মধ্যে এমন কিছু নথিতে বলা হয়েছে, সৌদি রাজদরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এপস্টেইনের কাছে কাবার গিলাফের নকশা ও আবরণসংবলিত ট্যাপেস্ট্রি বা দেয়ালে ঝোলানো কারুকাজখচিত বস্ত্র পাঠিয়েছিলেন। কাবা মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন করে। ওই সরকারের সঙ্গে হুতিদের গৃহযুদ্ধ চলছে।
চলতি গ্রীষ্মে যুদ্ধ আবার তীব্র হয়ে ওঠার পর হুতিদের এই প্রচারাভিযান আরও বেশি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এসব প্রচারণায় নিজেদের বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছে গোষ্ঠীটি।
গত মাসে সৌদি আরব অভিযোগ করেছিল, হুতিরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তবে হুতিরা এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। মক্কা শহরেই ইসলামের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র কাবা অবস্থিত। মুসলমানদের কাছে মক্কা বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র শহর। হুতিদের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গোষ্ঠীটির প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত বলেছেন, ‘যারা এপস্টেইনকে কাবার গিলাফ দিয়েছিল, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে।’
চলতি বছরের শুরুর দিকে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করার পর ট্যাপেস্ট্রি পাঠানোর প্রতিবেদন কিংবা হুতিদের এসব অভিযোগ নিয়ে সৌদি কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এর আগে ইয়েমেনের কৌতুক অভিনেতা মোস্তফা আল-মোমারি ২০২৩ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হুতি ও সৌদি আরবের বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করেছেন।
২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে এপস্টেইনের মৃত্যু হয়েছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। ধর্মনিরপেক্ষ ইহুদি হিসেবে পরিচিত এই মার্কিন অর্থলগ্নিকারীর নাম হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতির বক্তৃতায় প্রায়ই উঠে আসে। গত ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেছিলেন, ‘এপস্টেইনের নথিগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এসব নথিতে এমন একটি জায়নবাদী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে নেতা ও অভিজাতদের তৈরি করা হয়।’
হুতিদের এই কৌশল কিছু ক্ষেত্রে কাজে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত একটি ঘটনায় এপস্টেইন-সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে নিয়মিত পোস্ট করা ডানপন্থী জনপ্রিয় পডকাস্টার জেক শিল্ডস হুতিদের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন। হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের বড় ভক্ত। আমার মনে হয়, তারা বেশ দুর্ধর্ষ।’

দৈনিক টার্গেট 



























