• বিদেশিদের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি।
সর্বশেষ:
একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য: নিয়োগের প্রতিশ্রুতি না রাখাতেই হেনস্তা আইইডিসিআর পরিচালক
-
দৈনিক টার্গেট - প্রকাশ: ০১:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- ৫ বার পঠিত হয়েছে
• বিদেশিদের সামনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি।
নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হলে ড্যাবের নেতা ডা. জাহিদ হাসানকে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্প অনুমোদনে দেরি হচ্ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরেই গত বুধবার নিজ কার্যালয়ে শারীরিক হেনস্তার শিকার হন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আহমেদ জাকী। ঘটনার পর জাহিদকে ড্যাব থেকে বহিষ্কার করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
গত ২৮ অক্টোবর একদল ব্যক্তি আইইডিসিআরে অধ্যাপক কাজী আহমেদ জাকীর কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর ও হেনস্তা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৮ থেকে ৯ জন তাঁকে চেয়ার থেকে টেনে তোলেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। এ ঘটনায় বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ হাসান এবং কয়েকজন সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অধ্যাপক জাকীও ড্যাবের আজীবন সদস্য।
গত রোববার আইইডিসিআরে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্তত পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার দিন প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছিল। পুরোনো ভবনে ৩০ জেলার সিভিল সার্জন ও তিন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের অংশগ্রহণে হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় দ্রুত সাড়াদান কার্যক্রম নিয়ে সভা চলছিল। অন্যদিকে নতুন ভবনে পরিচালকের কক্ষে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ও দেশটির বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে হাম-রুবেলার টিকা, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট এবং হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় র্যাপিড রেসপন্স কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। পাশের সভাকক্ষেই কাজ করছিলেন জাতিসংঘের শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) কর্মকর্তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনায় বিদেশি প্রতিনিধিরা বিব্রত এবং আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত সভাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ঘটনায় অধ্যাপক জাকী বাদী হয়ে বনানী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ডা. জাহিদ হাসান, ডা. বাসেদুর রহমান সোহেলসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্তত চারজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদিত হলে ডা. জাহিদকে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন পরিচালক অধ্যাপক আহমেদ জাকী। র্যাপিড রেসপন্স টিম ও আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন কনসালট্যান্ট পদে তাঁকে নিয়োগের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। ডা. জাহিদকে নতুন প্রকল্পে নিয়োগের আশ্বাস দেওয়ার বিষয়টি অধ্যাপক জাকীও আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন।
ডা. জাহিদ সরকারি চাকরিতে ছিলেন না; বরাবরই বিভিন্ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক কাজ করতেন।
আইইডিসিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাষ্য, পরিচালকের সঙ্গে ডা. জাহিদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। ডা. জাহিদ তাঁকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করতেন। এমন সম্পর্কের পরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তাঁরা ভাবতে পারেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই কর্মকর্তা বলেন, শুধু প্রতিশ্রুত চাকরি না পাওয়ার কারণেই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিজের কার্যালয়ে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না। এর পেছনে আরও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে তাঁদের সন্দেহ।
পরিচালককে হেনস্তার পেছনে আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাকে ঘিরে কথিত বিরোধের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ফ্লোরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইইডিসিআরের পরিচালকসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘তাঁর নামে তো কোনো অভিযোগ নেই। তিনি সাবেক পরিচালক হিসেবে একদিন আইইডিসিআরে এসেছিলেন। এটা তো কোনো অপরাধ নয়।’
আইইডিসিআর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, মহামারি প্রতিরোধ ও রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৭০
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের হাসপাতালগুলোতে সবচেয়ে বেশি ৯০০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ৯৫ জন, চট্টগ্রামে ২৫২, খুলনায় ২৯৪, রাজশাহীতে ১৫৩, রংপুরে ৭১, বরিশালে ১৮৩ ও সিলেটে ২২ জন ভর্তি হয়েছে।

হামের উপসর্গে ২ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৩
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে মারা গেছে ৫১২ জন। এরপর সিলেটে ২০৩ জন, চট্টগ্রামে ১১১, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৯, বরিশালে ৬৮, খুলনায় ৫৬ ও রংপুরে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জনপ্রিয় টার্গেট





















