পাঠক, লক্ষ করুন, এলজিইডির কর্মকর্তারা দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন। নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, কেন এ রকম দুটি অনুষ্ঠানে এই কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের হালহকিকত সম্পর্কে ধারণা আছে যাঁদের, তাঁরা বলবেন, এ আর এমন কী কঠিন প্রশ্ন! এমপির অনুষ্ঠানে কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকলে শুরু করা কাজটি কি তাঁরা শেষ করতে পারবেন? যদি কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যকে বেশি মূল্য দিয়ে জেলা পরিষদের নেতাকে কম মূল্য দিয়ে ফেলেন, তাহলেও কি শেষ করা যাবে রাস্তার কাজ? ফলে কর্মকর্তারা হয়তো কোনো ঝামেলায় যেতে চাননি। ভাগ্যের ওপর নিজেদের ছেড়ে দিয়ে দুই অনুষ্ঠানেই তাঁরা করতালি দিয়েছেন।
এটা তো আর কিছু নয়, কৃতিত্ব নেওয়ার সুযোগ! দুজনের কেউই তা হাতছাড়া করতে চাননি। একজন বললেন, সড়কটির বরাদ্দ ও প্রকল্প তিনিই নিয়ে এসেছেন। সুতরাং সড়কটি পরিদর্শন কিংবা উদ্বোধন তিনি করতেই পারেন। অন্যজন বলছেন, আগামী পাঁচ বছরে সদর আসনে যেসব উন্নয়নকাজ হবে, সেগুলোর দায়িত্ব তাঁর। সড়কটি নিয়ে দুজনেরই কী প্রগাঢ় ভালোবাসা! ভবিষ্যতে যদি এমন প্রকল্প আসে এই নির্বাচনী এলাকায়, তাহলে একটি সড়ক হয়তো আরও কয়েকবার উদ্বোধন করা যাবে!
মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। যে সড়ক এখনো নির্মাণাধীন, তা কেন উদ্বোধন করতে হবে, সে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? এ তো জানা কথা, নির্মাণকাজ শেষ হলে সড়ক উদ্বোধন করা হয়। নির্মাণকাজ চলার সময় আবার উদ্বোধন কেন? এই উদ্বোধন কার জন্য,
কী কারণে, তাঁরাই হয়তো বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।
দেশে নানা সমস্যা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে জনগণ কষ্টে আছেন। সেসব কষ্টের বিষয়গুলো দূর করার জন্য যদি এমপি মহোদয় এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মহাশয় আন্তরিক হতেন, তাহলে উপকৃত হতেন এলাকাবাসী। নিছক ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য যদি একই সড়ক নির্মাণকাজ চলাকালীন দুবার উদ্বোধন করা হয়, তাকে সাধুবাদ জানানো যায় না। দেশের মালিক কিন্তু দেশের জনগণ। সেই জনগণকে বিরক্ত করে কোনো পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা ভুলবে না। তাই সময় থাকতে জনগণের মনের ভাষা পড়তে শিখুন। এমনভাবে উদ্বোধন করার চেয়ে সেটি অনেক বেশি জরুরি।
দৈনিক টার্গেট 






















