জুলাইবিব (রা.) ছিলেন নিতান্তই দরিদ্র ও আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ চেহারার একজন মানুষ; কোনো সম্ভ্রান্ত বংশের পরিচয়ও তাঁর ছিল না। সে যুগের সাধারণ মদিনাবাসী তাঁকে খুব একটা গুরুত্ব দিত না। কিন্তু নবীজির (সা.) হৃদয়ে তাঁর স্থান ছিল অনেক উঁচুতে। এক যুদ্ধ শেষে মহানবী (সা.) উপস্থিত সাহাবিদের কাছে জানতে চাইলেন, ‘তোমাদের পরিচিত কেউ কি শহীদ হয়েছে?’ সাহাবিরা কয়েকজন প্রখ্যাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করলেন। সব শুনে নবীজি (সা.) করুণ কণ্ঠে বললেন, ‘কিন্তু আমি যে জুলাইবিবকে খুঁজে পাচ্ছি না!’
অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেল, ময়দানে সাতজন শত্রুকে পরাস্ত করে বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে তিনি নিজে শাহাদাতবরণ করেছেন। প্রিয় সাহাবির মরদেহ দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে মহানবী (সা.) বললেন, ‘জুলাইবিব আমার থেকে, আর আমি জুলাইবিবের থেকে!’ এরপর আল্লাহর রাসুল (সা.) নিজে পরম মমতায় তাঁর মরদেহ বহন করে কবরে শায়িত করলেন। (সহিহ মুসলিম)। সামাজিক বিচারে যিনি ছিলেন নিতান্তই নিঃস্ব, নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসায় তিনি লাভ করলেন জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদা।
নবীজি (সা.) কেবল দরিদ্রদের ভালোই বাসেননি, তাঁর নিজের জীবনযাপনও ছিল অত্যন্ত অনাড়ম্বর ও সাদামাটা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘নবী (সা.)-এর পরিবার তাঁর ওফাত পর্যন্ত একাধারে তিন দিনও তৃপ্তিসহকারে আহার করতে পারেননি।’ (সহিহ বুখারি)। যিনি চাইলে আরবের অধিপতি হয়ে রাজকীয় সুখে দিন কাটাতে পারতেন, সেই নবী স্বেচ্ছায় বেছে নিয়েছিলেন সাধারণ অনাহারী মানুষের জীবন।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল মানুষের আখিরাতের মর্যাদা সম্পর্কে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি কি তোমাদের জান্নাতিদের পরিচয় দেব না? তারা হলো সেই সব সরল ও দুর্বল মানুষ, যাদের সাধারণ সমাজ দুর্বল মনে করে অবহেলা করে। অথচ তারা যদি কোনো বিষয়ে আল্লাহর নামে শপথ করে ফেলে, তবে আল্লাহ তাদের শপথ রক্ষা করেন।’ (সহিহ বুখারি)। অর্থাৎ, দুনিয়ার মানদণ্ডে যারা সাধারণ, রবের দরবারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা অপূরণীয়।
মক্কার স্বার্থবাদী কুরাইশ নেতারা একবার মহানবী (সা.)-কে প্রস্তাব দিয়েছিল, বিলাল, সুহাইব কিংবা আম্মার (রা.)-এর মতো দরিদ্র ও প্রাক্তন ক্রীতদাসদের যদি দরবার থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবেই কেবল তারা নবীজি (সা.)-এর মজলিশে বসতে রাজি। কিন্তু মানবতার নবী কখনো সেই বৈষম্যমূলক শর্ত মেনে নেননি। উল্টো আসমান থেকে ওহি নাজিল করে আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবিবকে জানিয়ে দেন, ‘যারা সকাল-সন্ধ্যায় নিজেদের রবের সন্তুষ্টির আশায় তাঁকে ডাকে, আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন না।’ (সুরা আল-আনআম: ৫২)। বিলাল, সুহাইব ও আম্মার (রা.)-দের মতো নিঃস্ব সাহাবিদের তিনি বানিয়েছিলেন নিজের সবচেয়ে নিকটজন।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আধুনিক যুগে এসেও আমরা প্রায়ই দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের অবমূল্যায়ন করি, তাদের সঙ্গে বসতে বা কথা বলতে সংকোচ বোধ করি। অথচ আমাদের প্রিয় নবী (সা.) আমাদের শিখিয়ে গেছেন বিপরীত এক সৌন্দর্যের পাঠ—দরিদ্রকে পরম আদরে আপন করে নেওয়ার পাঠ, ইনসাফ ও সাম্যের পাঠ।
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
ইসলামি ধারার লেখকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামি লেখক ফোরামের সপ্তম কাউন্সিল ও ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচিকাঁচা মিলনায়তনে কাউন্সিল ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
মক্কার সুপরিচিত এলাকা জারওয়ালে অবস্থিত এই বিশেষ স্থানটিতে রয়েছে একটি ঐতিহাসিক কূপ—‘বিরে তুওয়া’ বা তুওয়া কূপ। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মক্কায় প্রবেশের আগে মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এই কূপের কাছে অবস্থান করতেন এবং এর পানি দিয়ে গোসল সম্পন্ন করতেন। মক্কা বিজয় এবং বিদায় হজের সময়ও তিনি এই আমল লালন…
দৈনিক টার্গেট 
























