শ্রীকৃষ্ণের ধরাধাম যাত্রাবির্ভাব
-
দৈনিক টার্গেট - প্রকাশ: ০৭:৩৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ১ বার পঠিত হয়েছে
সনাতন হিন্দু ধর্মানুসারীরা শ্রীকৃষ্ণকে ভগবান জ্ঞানের উচ্চাসনের মান্যতা দিয়ে এঁর আরাধনা করেন। এখন থেকে প্রায় সোয়া ৫ হাজার বছর আগে অথবা খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় সোয়া ৩ হাজার অব্দের কথা। ভাদ্রের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিণী নক্ষত্রযোগে তাঁর আবির্ভাব, এই ধরাধামে। তবে মুক্ত কোনো স্বাভাবিক ও সাধারণ আঁতুড়ঘরে নয়। সুরক্ষিত কারাগারের অন্ধকারের বন্ধ প্রকোষ্ঠে। তাও আবার সরাসরি দোর্দণ্ড প্রভাবশালী, দুর্বিনীত প্রতাপশালী উদ্যম শক্তির অহংকারী এক রাজার নির্দেশিত নির্ধারিত কারাগারে। বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত, বাছাইকৃত সেরা প্রহরীদের দ্বারা বিশেষ আয়োজনে পাহারার ব্যবস্থাকে এতই উচ্চ সতর্কতায় নিশ্ছিদ্র করে রাখা হয়েছিল যে কারাগারের ভেতর থেকে বাইরে যেতে এবং বাইরে থেকে ভেতরে যেন একটি মাছি গলেও প্রবেশ করতে না পারে। কিন্তু মাতৃজঠরে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে, রাজার সৃষ্ট নানা প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য ও জয় করে যে তিথিতে তিনি এই পৃথিবীতে এসেছিলেন, এই কারাপ্রকোষ্ঠে জন্মেছিলেন, এর স্মারক জন্মাষ্টমী। পারিবারিক পরিসরে, সামাজিক ব্যাপ্তিতে দিনটি উদ্যাপিত হয় ভক্তের অর্ঘ্য নিবেদনে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই দিনটি পালন করেন নানা আয়োজনে, আনন্দ-উৎসবে।
মহাপরাক্রমশালী সেই মথুরার রাজা কংস। স্বেচ্ছাচার ও স্বৈরাচারের পরাকাষ্ঠা রাজা কংসের অত্যাচারে তখন মথুরার প্রজাকুল অতিষ্ঠ। চারদিকে ত্রাহি ত্রাহি দশার বিরাজিত পরিবেশে, কৃষ্ণের আবির্ভাব সহজসাধ্য ছিল না। রাজা আকাশবাণী থেকে আগেই জেনে গিয়েছিলেন, তাঁর রাজ্যে এমন এক শিশু জন্ম নেবেন, কালক্রমে এই শিশুর হাতেই হবে তাঁর চূড়ান্ত পরাজয় ও জীবনের শেষ পরিণতি। ভীতসন্ত্রস্ত রাজা পাগলপ্রায় হয়ে এই দৈববাণী এড়াতে কিংবা এর প্রতিফলন নস্যাত করে দিতে প্রথমে কৃষ্ণের গর্ভধারিণী দেবকীকে হত্যায় উন্মত্ত হয়ে ওঠেন। পরে অবশ্য দেবকীর গর্ভজকে ভূমিষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গে কংসের হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাস স্বামী বসুদেবের তরফে পেয়ে, রাজা প্রথম পরিকল্পনার পরিবর্তন এনে দেবকী-বসুদেব দম্পতিকে নিজ জিম্মার কারাবাসে প্রেরণ করেন।
অসীম গুণের অধিকারী হয়ে শ্রীকৃষ্ণ বহুবিধ পরিচয়ে ভক্তকুলে বিরাজমান। বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হিসেবে খ্যাত হয়েও গৌড়ীয় বৈষ্ণববাদ, বল্লভ সম্প্রদায়, নিম্বার্ক সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের কাছে তিনি স্বয়ং ভগবান অর্থাৎ পরমেশ্বর রূপে পূজিত। বহুমুখী রূপ প্রকাশের অধিকারী শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের তিথি সব শ্রেণির ভক্তকে টানে এক অনন্য ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রীতিডোরে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য রয়েছে তাঁর নিজের জন্ম লীলাকথা এবং আবির্ভাবের প্রয়োজনীয়তার আখ্যানে। আপাতদৃষ্টি ও সংকুচিত বিবেচনাবোধের বিভ্রান্তিতে তাঁর জন্ম এক সাধারণ প্রাকৃতিক পরম্পরা মনে হলেও শাস্ত্রমতে আদতে এটি সাধারণ ও প্রচলিত জন্মের মতো নয়। শাস্ত্র কৃষ্ণের ধরিত্রীর বুকে আবির্ভাবকে এক দৈব অবতরণ হিসেবে বিধৃত করেছে। তাই তিনি অবতার। আর ধর্ম রক্ষা, ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অশুভ শক্তির বিনাশ ও অত্যাচারের অবসান ঘটিয়ে শুভশক্তির ঝান্ডার উড্ডয়ন ও ভক্তদের রক্ষায় তাঁর অবতরণ বা আবির্ভাব বলে তিনি পরমেশ্বর ভগবান।
জাতীয় অর্থনীতির পরিমাপকগুলো যখন পরিসংখ্যানের খাতায় প্রবৃদ্ধির হিসাব কষে, ঠিক তখনই রান্নাঘরের কাঠের হাঁড়ি কিংবা বাজারের থলিতে এসে ধাক্কা খায় বাস্তব চিত্র। গত কয়েক বছরে নিত্যপণ্যের বাজারে যে হারে অগ্নিমূল্য তৈরি হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে। এমন এক সময়ে সরকারি কর্মচারীদের
সকালে ঘুম ভাঙার পর, বিকেলে সব কাজের শেষে অথবা সারা দিনে কাজের ফাঁকে ফাঁকে ধোঁয়া ওঠা চায়ের চুমুক আমাদের চাঙা করে তুললেও এই চায়ের কাপে কত মানুষের শ্রম-ঘাম-রক্ত মিশে থাকে, তা হয়তো কখনোই আমাদের চিন্তায় আসে না।




















