ইরানকে অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এই তথ্যের দাবি করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও চলেছে। ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানতে পেরেছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। /যায় থেকে রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন।

সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির পাশাপাশি অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য কম সময় পায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের উন্নত স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ইরানের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ইতিমধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মার্কিন থিংক ট্যাংক জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের ইরানবিষয়ক সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এই প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র থেকে দেখা যায়, এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলতি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সামরিক সম্পর্কেরই অংশ। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এসব ড্রোন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান রাশিয়াকে নিজ ভূখণ্ডে এসব ড্রোনের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করেছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় রাশিয়া তেহরানকে যুদ্ধক্ষেত্রসংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন সহায়তা এবং অস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান। তবে সি৪৩০ এল আরও গভীর ধরনের সহযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে মস্কো তেহরানকে একটি উন্নত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্জনে সহায়তা করছে।

প্যারিসের সায়েন্স পো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, গোপন র‍্যামজেট কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে রাশিয়া আগের মতো ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা নিয়ে ততটা চিন্তিত নয়।

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা কর্মসূচিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরনএক্সপোর্ট-এর মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পটি পরিচালনা করে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানটিকে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট নির্মাণকারী কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ, সাবমেরিন ও স্থলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করে। পাশাপাশি রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর জন্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যে ফাঁস হওয়া নথি পর্যালোচনা করেছে, তাতে দেখা যায় সি৪৩০ এল চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার আগে রুশ অস্ত্র রপ্তানি কর্মকর্তারা এবং এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী একাধিকবার ইরান সফর করেন।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস সংস্থার সঙ্গে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় নভেম্বর ২০২৩ সালে। ২০২৫ সালের মধ্যে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়া ইরানের র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত উপকরণ পায়। এরপর রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের একটি উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং ইরানকে ইঞ্জিনটি কীভাবে কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠান।

তারা ইরানের কাছে জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ুপ্রবেশ ব্যবস্থা এবং ইঞ্জিনের অগ্রভাগ বা নোজল সম্পর্কে জানতে চান। রুশ প্রকৌশলীরা আরও জানতে চেয়েছিলেন, ইরানের সরবরাহ করা টেলিমেট্রি বা উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনের কার্যক্রম সম্পর্কে পাওয়া তথ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও র‍্যামজেটটি কাজ চালিয়ে গিয়েছিল কি না।

এই তথ্য বিনিময় থেকে বোঝা যায়, এনপিওর প্রকৌশলীরা ইরান ইতিমধ্যে তৈরি ও পরীক্ষা করা একটি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছিলেন। রুশ প্রকৌশলীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার এবং নকশা আরও উন্নত করতে সহায়তা করছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রোসোবোরনএক্সপোর্ট সি৪৩০ এল-এর আওতায় প্রযুক্তিগত পরামর্শের জন্য প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞের একটি প্রতিনিধি দল ইরানে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।

একই চিঠিপত্রে ইরানকে উড্ডয়ন পরীক্ষার টেলিমেট্রি নিয়ে প্রকৌশলীদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলা হয়। প্রস্তাবিত সফরটিকে ইরানের প্রপালশন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছিল।

ক্রেমলিন, রোসোবোরনএক্সপোর্ট এবং এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়া-র কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে ইরান সরকারের কাছেও প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তারাও প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে বলেন, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে মস্কো ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচি শুরু হয়েছিল এর আগেই। ২০২৪ সালে ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলো উন্নত পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার পর পুতিন এর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া একই শ্রেণির অস্ত্র বিশ্বের এমন অঞ্চলে সরবরাহ করবে, যেসব অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর হামলার মতো হামলা চালানো হবে এবং ওই দেশগুলোর সংবেদনশীল স্থাপনায় আঘাত হানা সম্ভব হবে।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সময় রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে দেশটির চাওয়া গোপন প্রযুক্তিগত সহায়তার একটি বৃহত্তর ধারার অংশ। চলতি বছরের শুরুতে ফাইন্যানসিয়াল টাইমস প্রকাশ করেছিল যে মস্কো তেহরানকে ভারবা (Verba) নামে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে সম্মত হয়েছিল। এ ছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি গোপনে চীনের কাছ থেকে একটি হাই-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছিল। পরে ইরান চলতি বছরের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালাতে ওই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র চীনা সরবরাহকারী আর্থ–আইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধের সময় ইরানকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল এবং এসব ছবি ইরানি সামরিক বাহিনীকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে সহায়তা করেছিল।

সব মিলিয়ে এসব কর্মসূচি দেখায়, ইরান কীভাবে রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা, যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং আরও উন্নত হামলাকারী অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যে যুদ্ধ শুরু করে, সেই যুদ্ধে ইরান ড্রোন এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থায়ী লক্ষ্যবস্তুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পদ বা যুদ্ধজাহাজের ওপর একই মাত্রার ক্ষতি করতে পারেনি।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচিতে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তাদের কয়েকজন বারবার ইরান সফর করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আলেক্সান্ডার দেরগাচেভ। সে সময় তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান ছিলেন। ফাঁস হওয়া রুশ নথি অনুযায়ী, তিনি সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের প্রধান ডিজাইনার।

তিনি এনপিওর আলাদা একটি পেটেন্টেও উদ্ভাবক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ওই পেটেন্টে জাহাজ ও স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য র‍্যামজেটচালিত হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

ইরান ইতিমধ্যে ক্রমবর্ধমান উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। এর মধ্যে এমন অস্ত্রও রয়েছে, যেগুলোকে ইরান হাইপারসনিক বলে তুল ধরে। দেশটিতে ধীরগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য টার্বোজেট ও টার্বোফ্যান ইঞ্জিন তৈরির নিজস্ব শিল্পও রয়েছে।

তবে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবহার করে সুপারসনিক, এয়ার প্রপালশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং সেটিকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় চালানোর প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ইরানের অস্ত্রভান্ডারে এখনও একটি বড় প্রযুক্তিগত ঘাটতি হিসেবে রয়ে গেছে। ইরান এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে বহু দশক ধরে। এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সামরিক প্রকৌশল, অবৈধভাবে বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং বিদেশি অস্ত্র ব্যবস্থা উল্টো প্রকৌশল বা রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে বোঝার চেষ্টা। এসব প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

২০১৬ সালে ইরানের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, দেশটি সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে। এর দুই বছর পর, ২০১৮ সালে, ইউক্রেনে দুই ইরানি কূটনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সোভিয়েত আমলের কেএইচ–৩১এ সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি র‍্যামজেট ইঞ্জিন পরিদর্শন করতে দেখায়। এরপর আগস্ট ২০২৩ সালে, আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরান একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রোটোটাইপ পরীক্ষা শুরু করেছে।

ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেন, কার্যকর র‍্যামজেটচালিত অস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর মতে, বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশের কাছেই এই প্রযুক্তি তৈরির প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে। হিনজ বলেন, রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করেছে। তাঁর মতে, মানুষ সাধারণত প্রযুক্তি হস্তান্তর বলতে শুধু নকশা, যন্ত্রাংশ বা পুরো ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি বোঝে। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী একজন প্রকৌশলীকে বিমানে করে অন্য দেশে পাঠিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করানোও অত্যন্ত মূল্যবান।

ইরানের জন্য এই ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্র উন্নত করা এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব হবে।

জিম ল্যামসন বলেন, রুশ প্রকৌশলীরা যদি ইরানিদের প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সহায়তা করতে পারেন, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানকে দেওয়া রাশিয়ার সামরিক-প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এমন ক্ষেত্রগুলোর একটি হবে। তাঁর মতে, এর দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র থেকে দেখা যায়, ২০২৬ সালেও সি৪৩০ এল কর্মসূচি চলমান ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পরও রাশিয়া তেহরানের জন্য প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন তৈরি করছিল এবং দুই দেশ কর্মসূচিটির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছিল। চলতি বছরের জুনে রোসোবোরনএক্সপোর্টের এক চিঠিতে দেখা যায়, কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একই সঙ্গে রুশ প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনাও ছিল। তবে কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ বাস্তবে শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

নেপালে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও কাদাধসের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৮ জনে। হিমলায়ের উঁচু পর্বতে বরফ-পাথরের ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় দেশটির কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের…

ইরানে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলমান সংঘাতের এটি সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা। এই সংঘাত এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে…

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি ক্রপ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কার্যালয়। সম্পাদিত ছবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজকে ছবির কেন্দ্রস্থলে দেখানো হয়েছে…

ইরানকে অত্যাধুনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে গোপনে সহায়তা করছে রাশিয়া

প্রকাশ: ১১:০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে এই তথ্যের দাবি করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও চলেছে। ফাঁস হওয়া রুশ চিঠিপত্র, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি এবং সামরিক পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে সংবাদমাধ্যমটি এই তথ্য জানতে পেরেছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

সি ৪৩০ এল-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানকে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করা। এটি এমন এক ধরনের ইঞ্জিন, যা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে দীর্ঘ সময় উড়তে সক্ষম করে। ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রযুক্তি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জাহাজবিধ্বংসী এবং স্থলভাগে হামলার জন্য ব্যবহৃত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। /যায় থেকে রাজনৈতিক অনুমোদন প্রয়োজন।

সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষত্ব হলো, এগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতির পাশাপাশি অনেক কম উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংস করার জন্য কম সময় পায়। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের উন্নত স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ইরানের জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ইতিমধ্যে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা তৈরি ও উড্ডয়ন পরীক্ষা করেছে। তবে রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি কোনো সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এখন পর্যন্ত মোতায়েন করা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে মার্কিন থিংক ট্যাংক জেমস মার্টিন সেন্টার ফর নন–প্রলিফারেশন স্টাডিজের ইরানবিষয়ক সামরিক বিশ্লেষক জিম ল্যামসন বলেন, এই প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা দেবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর জাহাজকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র থেকে দেখা যায়, এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলতি গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সহযোগিতা রাশিয়া ও ইরানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সামরিক সম্পর্কেরই অংশ। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ অ্যাটাক ড্রোন সরবরাহ করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে এসব ড্রোন রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে ইরান রাশিয়াকে নিজ ভূখণ্ডে এসব ড্রোনের উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়তা করেছে।

ইউক্রেন ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের সময় রাশিয়া তেহরানকে যুদ্ধক্ষেত্রসংক্রান্ত সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যাটেলাইট ছবি, ড্রোন সহায়তা এবং অস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান। তবে সি৪৩০ এল আরও গভীর ধরনের সহযোগিতার প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে মস্কো তেহরানকে একটি উন্নত কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরি করার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রযুক্তি অর্জনে সহায়তা করছে।

প্যারিসের সায়েন্স পো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নিকোল গ্রাজেউস্কি বলেন, গোপন র‍্যামজেট কর্মসূচি দেখিয়ে দেয় যে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই অঞ্চলে রাশিয়া আগের মতো ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা নিয়ে ততটা চিন্তিত নয়।

সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা কর্মসূচিটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরনএক্সপোর্ট-এর মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়ার এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পটি পরিচালনা করে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তখন প্রতিষ্ঠানটিকে রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট নির্মাণকারী কোম্পানি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জাহাজ, সাবমেরিন ও স্থলভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করে। পাশাপাশি রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর জন্য আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস যে ফাঁস হওয়া নথি পর্যালোচনা করেছে, তাতে দেখা যায় সি৪৩০ এল চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার আগে রুশ অস্ত্র রপ্তানি কর্মকর্তারা এবং এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী একাধিকবার ইরান সফর করেন।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিকস সংস্থার সঙ্গে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয় নভেম্বর ২০২৩ সালে। ২০২৫ সালের মধ্যে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়া ইরানের র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিপুল পরিমাণ প্রযুক্তিগত উপকরণ পায়। এরপর রুশ প্রকৌশলীরা ইরানের একটি উড্ডয়ন পরীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করেন এবং ইরানকে ইঞ্জিনটি কীভাবে কাজ করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রশ্ন পাঠান।

তারা ইরানের কাছে জ্বালানি ব্যবস্থার পরিবর্তন, দহন স্থিতিশীলতা, বায়ুপ্রবেশ ব্যবস্থা এবং ইঞ্জিনের অগ্রভাগ বা নোজল সম্পর্কে জানতে চান। রুশ প্রকৌশলীরা আরও জানতে চেয়েছিলেন, ইরানের সরবরাহ করা টেলিমেট্রি বা উড্ডয়নের সময় ইঞ্জিনের কার্যক্রম সম্পর্কে পাওয়া তথ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও র‍্যামজেটটি কাজ চালিয়ে গিয়েছিল কি না।

এই তথ্য বিনিময় থেকে বোঝা যায়, এনপিওর প্রকৌশলীরা ইরান ইতিমধ্যে তৈরি ও পরীক্ষা করা একটি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে কাজ করছিলেন। রুশ প্রকৌশলীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার এবং নকশা আরও উন্নত করতে সহায়তা করছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রোসোবোরনএক্সপোর্ট সি৪৩০ এল-এর আওতায় প্রযুক্তিগত পরামর্শের জন্য প্রায় দুই ডজন রুশ বিশেষজ্ঞের একটি প্রতিনিধি দল ইরানে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়।

একই চিঠিপত্রে ইরানকে উড্ডয়ন পরীক্ষার টেলিমেট্রি নিয়ে প্রকৌশলীদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলা হয়। প্রস্তাবিত সফরটিকে ইরানের প্রপালশন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছিল।

ক্রেমলিন, রোসোবোরনএক্সপোর্ট এবং এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়া-র কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের মাধ্যমে ইরান সরকারের কাছেও প্রশ্ন পাঠানো হয়েছিল। তারাও প্রশ্নের জবাব দেয়নি।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে বলেন, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে মস্কো ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ইরানের প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে। তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচি শুরু হয়েছিল এর আগেই। ২০২৪ সালে ইউক্রেনকে পশ্চিমা দেশগুলো উন্নত পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করার পর পুতিন এর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়া একই শ্রেণির অস্ত্র বিশ্বের এমন অঞ্চলে সরবরাহ করবে, যেসব অঞ্চলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর হামলার মতো হামলা চালানো হবে এবং ওই দেশগুলোর সংবেদনশীল স্থাপনায় আঘাত হানা সম্ভব হবে।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সময় রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে দেশটির চাওয়া গোপন প্রযুক্তিগত সহায়তার একটি বৃহত্তর ধারার অংশ। চলতি বছরের শুরুতে ফাইন্যানসিয়াল টাইমস প্রকাশ করেছিল যে মস্কো তেহরানকে ভারবা (Verba) নামে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে সম্মত হয়েছিল। এ ছাড়া ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি গোপনে চীনের কাছ থেকে একটি হাই-রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট সংগ্রহ করেছিল। পরে ইরান চলতি বছরের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর নজরদারি চালাতে ওই স্যাটেলাইট ব্যবহার করে।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র চীনা সরবরাহকারী আর্থ–আইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধের সময় ইরানকে স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহ করেছিল এবং এসব ছবি ইরানি সামরিক বাহিনীকে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলা চালাতে সহায়তা করেছিল।

সব মিলিয়ে এসব কর্মসূচি দেখায়, ইরান কীভাবে রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার সামরিক সক্ষমতার বিভিন্ন দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা, যুদ্ধক্ষেত্রে গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং আরও উন্নত হামলাকারী অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফেব্রুয়ারিতে যে যুদ্ধ শুরু করে, সেই যুদ্ধে ইরান ড্রোন এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য স্থায়ী লক্ষ্যবস্তুতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পদ বা যুদ্ধজাহাজের ওপর একই মাত্রার ক্ষতি করতে পারেনি।

সি ৪৩০ এল কর্মসূচিতে এনপিও মাশিনোস্ত্রোনিয়ার সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কয়েকজন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকৌশলী যুক্ত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে তাদের কয়েকজন বারবার ইরান সফর করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন আলেক্সান্ডার দেরগাচেভ। সে সময় তিনি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির উপপ্রধান ছিলেন। ফাঁস হওয়া রুশ নথি অনুযায়ী, তিনি সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কমপ্লেক্সের প্রধান ডিজাইনার।

তিনি এনপিওর আলাদা একটি পেটেন্টেও উদ্ভাবক হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। ওই পেটেন্টে জাহাজ ও স্থলভাগের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য র‍্যামজেটচালিত হাইপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা নিয়ে কাজ করা হয়েছে।

ইরান ইতিমধ্যে ক্রমবর্ধমান উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। এর মধ্যে এমন অস্ত্রও রয়েছে, যেগুলোকে ইরান হাইপারসনিক বলে তুল ধরে। দেশটিতে ধীরগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য টার্বোজেট ও টার্বোফ্যান ইঞ্জিন তৈরির নিজস্ব শিল্পও রয়েছে।

তবে র‍্যামজেট প্রপালশন ব্যবহার করে সুপারসনিক, এয়ার প্রপালশন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং সেটিকে শব্দের গতির কয়েক গুণ গতিতে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় চালানোর প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ইরানের অস্ত্রভান্ডারে এখনও একটি বড় প্রযুক্তিগত ঘাটতি হিসেবে রয়ে গেছে। ইরান এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে বহু দশক ধরে। এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব সামরিক প্রকৌশল, অবৈধভাবে বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহ এবং বিদেশি অস্ত্র ব্যবস্থা উল্টো প্রকৌশল বা রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং করে বোঝার চেষ্টা। এসব প্রচেষ্টা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় করা হয়েছে।

২০১৬ সালে ইরানের তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, দেশটি সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে। এর দুই বছর পর, ২০১৮ সালে, ইউক্রেনে দুই ইরানি কূটনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সোভিয়েত আমলের কেএইচ–৩১এ সুপারসনিক জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত নথি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। ২০১৯ সালে ইরানের প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে স্থানীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি র‍্যামজেট ইঞ্জিন পরিদর্শন করতে দেখায়। এরপর আগস্ট ২০২৩ সালে, আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানায়, ইরান একটি সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রোটোটাইপ পরীক্ষা শুরু করেছে।

ফ্যাবিয়ান হিনজ বলেন, কার্যকর র‍্যামজেটচালিত অস্ত্র তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। তাঁর মতে, বিশ্বের খুব অল্প কয়েকটি দেশের কাছেই এই প্রযুক্তি তৈরির প্রয়োজনীয় জ্ঞান রয়েছে। হিনজ বলেন, রাশিয়া দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রযুক্তির ওপর কাজ করেছে। তাঁর মতে, মানুষ সাধারণত প্রযুক্তি হস্তান্তর বলতে শুধু নকশা, যন্ত্রাংশ বা পুরো ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানোর বিষয়টি বোঝে। কিন্তু ৬০ বছর বয়সী একজন প্রকৌশলীকে বিমানে করে অন্য দেশে পাঠিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রযুক্তিগত সমস্যা সমাধানে সহায়তা করানোও অত্যন্ত মূল্যবান।

ইরানের জন্য এই ইঞ্জিন প্রযুক্তি আয়ত্ত করা ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এই প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্র উন্নত করা এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব হবে।

জিম ল্যামসন বলেন, রুশ প্রকৌশলীরা যদি ইরানিদের প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধান করতে সহায়তা করতে পারেন, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানকে দেওয়া রাশিয়ার সামরিক-প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এমন ক্ষেত্রগুলোর একটি হবে। তাঁর মতে, এর দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

ফাঁস হওয়া চিঠিপত্র থেকে দেখা যায়, ২০২৬ সালেও সি৪৩০ এল কর্মসূচি চলমান ছিল। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পরও রাশিয়া তেহরানের জন্য প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন তৈরি করছিল এবং দুই দেশ কর্মসূচিটির পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা করছিল। চলতি বছরের জুনে রোসোবোরনএক্সপোর্টের এক চিঠিতে দেখা যায়, কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছিল। একই সঙ্গে রুশ প্রযুক্তিগত প্রতিবেদন নিয়ে আরও আলোচনার পরিকল্পনাও ছিল। তবে কর্মসূচির পরবর্তী ধাপ বাস্তবে শুরু হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

নেপালে ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস ও কাদাধসের কারণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫৮ জনে। হিমলায়ের উঁচু পর্বতে বরফ-পাথরের ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় দেশটির কয়েকটি জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের…

ইরানে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার রাতেও ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলমান সংঘাতের এটি সবচেয়ে গুরুতর উত্তেজনা। এই সংঘাত এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে…

সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি ক্রপ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কার্যালয়। সম্পাদিত ছবিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাদ দিয়ে শাহবাজকে ছবির কেন্দ্রস্থলে দেখানো হয়েছে…