আজ বুধবার জাতীয় সংসদে দেশের চলমান বিদ্যুৎ-সংকট সম্পর্কিত বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। বিকেল সাড়ে ৩টায় স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, নিছক কথামালার আড়ালে প্রকৃত সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহের কারণে কষ্টে আছে।’
এ পরিস্থিতির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের ভুল নীতির অনিবার্য পরিণতি হিসেবে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য-সংকটও নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য-সংকট সামনে আসে, যার প্রভাব জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এই সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও গৃহস্থালি—তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।
বর্তমান বিদ্যুৎ-সংকটের পেছনে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি জানান, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। একই ক্ষমতার মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
ভারতের আদানি গ্রুপ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টিও সংসদে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে ব্যবহৃত দুটি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে (ফ্লোটিং স্টোরেজ রিগ্যাসিফেকেশন ইউনিট) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি।
গত ২১ জুলাই এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে প্রায় ২১-২২ দিন সময় লাগে। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। তবে এ সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পায়রা ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিটগুলো চালু করার ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশাবাদী তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্ট মাসে বাংলাদেশের মানুষকে যে কষ্ট পোহাতে হয়েছে, অন্তত সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এই কষ্ট যেন না পোহাতে হয়, সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ-সংকট মোকাবিলায় রুফটপ সোলারসহ দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার যে রুফটপ সোলার নীতি নিয়েছে, তার ফলে আগামী গ্রীষ্মে মানুষকে চলতি সময়ের মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।
এ সময় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধিদের প্রকৃত তথ্য জানানো এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে থাকা ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতকে বাংলাদেশ উপেক্ষা করবে না। ভারতও বাংলাদেশকে উপেক্ষা করে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাদের সময় মিলে যে সময়টা সুবিধাজনক হবে এবং এটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যখন ভালো হবে, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফর করবেন…
দেশের বিদ্যমান জ্বালানিসংকটের জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিকাকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিগত স্বৈরাচারের সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে রীতিমতো পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। ফলে, অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান বা আমদানিনির্ভরতার কারণে সৃষ্টি হয় বর্তমান জ্বালানিসংকট।
মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে এমনটাই দাবি করেছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে তাঁর দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করে দিয়েছেন মালয়েশিয়া সরকারের মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল। তিনি জানান, এই বক্তব্যটি বাংলাদেশের সরকারের কোনো সরকারি সিদ্ধান
দৈনিক টার্গেট 
























