গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • ১৫৭ বার পঠিত হয়েছে

দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। দিনের অধিকাংশ সময় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং বাইরে কাজ করা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময় সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং রক্তচাপের তারতম্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে গরমের সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা ওরস্যালাইনের মতো পানীয় শরীরের খনিজ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চা ও কফি পান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি বাড়াতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে তেল-চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে পানি সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তরমুজ, শসা, টমেটো, পাকা কলা এবং টকদই শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া বেলের শরবত কিংবা তকমা দানাযুক্ত পানীয়ও গরমে স্বস্তি দিতে পারে।

এ সময় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলছেন স্বাস্থ্যসচেতনরা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক শরীরকে আরাম দেয় এবং অতিরিক্ত গরম থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও অস্বস্তি এড়াতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার গোসল করলে গরমজনিত অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় রোদে থেকে ভারী কাজ করলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্যসচেতনতা ও কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে তীব্র গরমের মধ্যেও সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে গরমের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

প্রকাশ: ০১:০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। দিনের অধিকাংশ সময় গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে জনজীবন হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং বাইরে কাজ করা মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এ সময় সামান্য অসতর্কতাও ডেকে আনতে পারে পানিশূন্যতা, হিটস্ট্রোক এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান বের হয়ে যায়। ফলে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি এবং রক্তচাপের তারতম্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে গরমের সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা ওরস্যালাইনের মতো পানীয় শরীরের খনিজ ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে অতিরিক্ত চা ও কফি পান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি বাড়াতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমে তেল-চর্বিযুক্ত ও অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারের পরিবর্তে পানি সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তরমুজ, শসা, টমেটো, পাকা কলা এবং টকদই শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া বেলের শরবত কিংবা তকমা দানাযুক্ত পানীয়ও গরমে স্বস্তি দিতে পারে।

এ সময় পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার কথা বলছেন স্বাস্থ্যসচেতনরা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক শরীরকে আরাম দেয় এবং অতিরিক্ত গরম থেকে কিছুটা সুরক্ষা দেয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও মাথা ঢাকার ব্যবস্থা রাখা উচিত।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও অস্বস্তি এড়াতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ঘাম হলে শরীর পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার গোসল করলে গরমজনিত অনেক সমস্যা কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় রোদে থেকে ভারী কাজ করলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

স্বাস্থ্যসচেতনতা ও কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে তীব্র গরমের মধ্যেও সুস্থ থাকা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নিজেদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ রাখতে গরমের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।