০৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সেবাদানকারী পরিবারের সদস্যরা যেভাবে নিজেদের যত্ন নেবেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • ১১ বার পঠিত হয়েছে

ব্যথা ও অন্যান্য পীড়াদায়ক লক্ষণ থেকে মুক্তি দেওয়া।

রোগীর মানসিক ও আত্মিক যত্নের সমন্বয় সাধন করা।

রোগীকে আমৃত্যু যথাসম্ভব সচল রাখতে সাহায্য করা।

রোগীকে অসুস্থতা ও শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করা।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা উপশমকারী সেবা দেওয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। এই সেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্যরা, চিকিৎসক, নার্স, কাউন্সিলর এবং স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিনিয়ত গুরুতর অসুস্থ রোগীর দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা রোগীর যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময়ই তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যান। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, নিজে সুস্থ না থাকলে অন্যকে সঠিক সেবা দেওয়া অসম্ভব।

আবেগের স্বীকৃতি দেওয়া এবং মানসিক চাপ প্রকাশ করা

রোগীদের মৃত্যু ও কষ্ট দেখতে দেখতে সেবাদানকারীদের মনে একধরনের আবেগীয় ক্লান্তি বা বার্নআউট তৈরি হতে পারে। নিজের এই দুঃখ বা আবেগকে চেপে না রেখে তা স্বীকার করা প্রথম ধাপ। নির্ভরযোগ্য কোনো বন্ধুর সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি কার্যকর উপায়।

কাজের সময় শতভাগ মনোযোগ দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি কাজ শেষে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে আসা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে রোগীদের চিন্তা মাথায় ধরে রাখলে দীর্ঘ মেয়াদে তা মানসিক অবসাদের কারণ হয়। তাই কাজ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে একটি সুস্থ সীমানা বজায় রাখতে হবে।

মানসিক সুস্থতার সঙ্গে শারীরিক সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা শরীরকে চাঙা রাখে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে কাজ না করে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই মিলে তাঁদের কঠিন কেসগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের মানসিক চাপ হালকা করতে পারেন। পারস্পরিক সমর্থন এই পেশায় টিকে থাকার বড় শক্তি।

কাজের বাইরে এমন কিছু করা উচিত, যা মনে আনন্দ দেয়। বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা, কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক ক্লান্তি দূর করতে চমৎকার কাজ করে। এই নিজের জন্য রাখা সময়টুকু মনকে নতুন করে শক্তি জোগায়।

সব রোগীকে সুস্থ করা বা সবার কষ্ট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া জরুরি। একজন সেবাদানকারী হিসেবে আপনি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, এই ভাবনাটুকুই আপনাকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত রাখবে।

মনে রাখতে হবে, প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। এই যাত্রায় নিজেকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি আপনার দায়িত্বেরই একটি অংশ।

লেখক: সদস্যসচিব, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ

আজকের রাশিফল: নিজেকে পৃথিবীতে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হবে, ভুল মেসেজে প্রেম ভাঙবে

আজকের রাশিফল: নিজেকে পৃথিবীতে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হবে, ভুল মেসেজে প্রেম ভাঙবে

আজ সকাল থেকেই আপনার মেজাজ থাকবে বেশ গরম, মনে হবে মহাবিশ্বের সবাই যেন আপনাকে বিরক্ত করার জন্য চক্রান্ত কষেছে। কাজের জায়গায় বসের কোনো কথা শুনে ত্বরিত গতিতে উত্তর দিতে যাবেন না; গ্রহদের গতিপথ বলছে, মুখ খুললেই আজ বিপদ আর চুপ থাকলে আজ শান্তি। পকেটের টাকা আজ উড়াল দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে, বিশেষ করে

তিসির বীজের স্বাস্থ্যগুণ এবং সহজ ৫ রেসিপি

তিসির বীজের স্বাস্থ্যগুণ এবং সহজ ৫ রেসিপি

ফ্লেক্সসিড বা তিসির বীজ একটি অসাধারণ সুপার ফুড। ছোট ছোট এই বীজে ভরপুর পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (লিগনানস) থাকে। নিয়মমাফিক পরিমিত পরিমাণে তিসির বীজ খেলে তা শরীরের নানা উপকারে আসে। ফ্লেক্সসিড বা তিসির বীজ সব সময় গুঁড়া করে খেলে শরীর এর পুষ্টি

আলোর উৎসবে প্রদীপ ও বাতির খোঁজ যেখানে পাবেন

আলোর উৎসবে প্রদীপ ও বাতির খোঁজ যেখানে পাবেন

নভেম্বর থেকেই যেন শুরু হয় আলোর উৎসবের। সামনেই দীপাবলি, এরপর বিয়ের মৌসুম। এখন পুরান ঢাকার পথের ধারে বা শাঁখারীবাজার ঢুকলেই চোখে পড়বে সুন্দর সব মাটির প্রদীপ। পূজা, গায়ে হলুদ ও বিয়েতে প্রদীপ, মোমবাতি ও নানান ধরনের বাতির ব্যবহার দেখা যায়।

জনপ্রিয় টার্গেট

বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ, জনবল সংকটে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সেবাদানকারী পরিবারের সদস্যরা যেভাবে নিজেদের যত্ন নেবেন

প্রকাশ: ০৩:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্যথা ও অন্যান্য পীড়াদায়ক লক্ষণ থেকে মুক্তি দেওয়া।

রোগীর মানসিক ও আত্মিক যত্নের সমন্বয় সাধন করা।

রোগীকে আমৃত্যু যথাসম্ভব সচল রাখতে সাহায্য করা।

রোগীকে অসুস্থতা ও শোক কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করা।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা উপশমকারী সেবা দেওয়া মানসিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং একটি কাজ। এই সেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্যরা, চিকিৎসক, নার্স, কাউন্সিলর এবং স্বেচ্ছাসেবীরা প্রতিনিয়ত গুরুতর অসুস্থ রোগীর দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হন। বিশেষ করে পরিবারের সদস্যরা রোগীর যত্ন নিতে গিয়ে অনেক সময়ই তাঁরা নিজেদের স্বাস্থ্যের কথা ভুলে যান। কিন্তু মনে রাখা জরুরি, নিজে সুস্থ না থাকলে অন্যকে সঠিক সেবা দেওয়া অসম্ভব।

আবেগের স্বীকৃতি দেওয়া এবং মানসিক চাপ প্রকাশ করা

রোগীদের মৃত্যু ও কষ্ট দেখতে দেখতে সেবাদানকারীদের মনে একধরনের আবেগীয় ক্লান্তি বা বার্নআউট তৈরি হতে পারে। নিজের এই দুঃখ বা আবেগকে চেপে না রেখে তা স্বীকার করা প্রথম ধাপ। নির্ভরযোগ্য কোনো বন্ধুর সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো ভাগ করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া কোনো দুর্বলতা নয়, বরং সুস্থ থাকার একটি কার্যকর উপায়।

কাজের সময় শতভাগ মনোযোগ দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি কাজ শেষে নিজের ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে আসা সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে রোগীদের চিন্তা মাথায় ধরে রাখলে দীর্ঘ মেয়াদে তা মানসিক অবসাদের কারণ হয়। তাই কাজ এবং ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে একটি সুস্থ সীমানা বজায় রাখতে হবে।

মানসিক সুস্থতার সঙ্গে শারীরিক সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা শরীরকে চাঙা রাখে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় একনাগাড়ে কাজ না করে ছোট ছোট বিরতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার যাঁরা দিচ্ছেন, তাঁরা সবাই মিলে তাঁদের কঠিন কেসগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন এবং নিজেদের মানসিক চাপ হালকা করতে পারেন। পারস্পরিক সমর্থন এই পেশায় টিকে থাকার বড় শক্তি।

কাজের বাইরে এমন কিছু করা উচিত, যা মনে আনন্দ দেয়। বই পড়া, গান শোনা, বাগান করা, কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক ক্লান্তি দূর করতে চমৎকার কাজ করে। এই নিজের জন্য রাখা সময়টুকু মনকে নতুন করে শক্তি জোগায়।

সব রোগীকে সুস্থ করা বা সবার কষ্ট পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়—এই বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া জরুরি। একজন সেবাদানকারী হিসেবে আপনি আপনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, এই ভাবনাটুকুই আপনাকে অপরাধবোধ থেকে মুক্ত রাখবে।

মনে রাখতে হবে, প্যালিয়েটিভ কেয়ার দেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। এই যাত্রায় নিজেকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত রাখতে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি আপনার দায়িত্বেরই একটি অংশ।

লেখক: সদস্যসচিব, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ

আজকের রাশিফল: নিজেকে পৃথিবীতে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হবে, ভুল মেসেজে প্রেম ভাঙবে

আজকের রাশিফল: নিজেকে পৃথিবীতে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হবে, ভুল মেসেজে প্রেম ভাঙবে

আজ সকাল থেকেই আপনার মেজাজ থাকবে বেশ গরম, মনে হবে মহাবিশ্বের সবাই যেন আপনাকে বিরক্ত করার জন্য চক্রান্ত কষেছে। কাজের জায়গায় বসের কোনো কথা শুনে ত্বরিত গতিতে উত্তর দিতে যাবেন না; গ্রহদের গতিপথ বলছে, মুখ খুললেই আজ বিপদ আর চুপ থাকলে আজ শান্তি। পকেটের টাকা আজ উড়াল দেওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠবে, বিশেষ করে

তিসির বীজের স্বাস্থ্যগুণ এবং সহজ ৫ রেসিপি

তিসির বীজের স্বাস্থ্যগুণ এবং সহজ ৫ রেসিপি

ফ্লেক্সসিড বা তিসির বীজ একটি অসাধারণ সুপার ফুড। ছোট ছোট এই বীজে ভরপুর পরিমাণে ফাইবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিড) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (লিগনানস) থাকে। নিয়মমাফিক পরিমিত পরিমাণে তিসির বীজ খেলে তা শরীরের নানা উপকারে আসে। ফ্লেক্সসিড বা তিসির বীজ সব সময় গুঁড়া করে খেলে শরীর এর পুষ্টি

আলোর উৎসবে প্রদীপ ও বাতির খোঁজ যেখানে পাবেন

আলোর উৎসবে প্রদীপ ও বাতির খোঁজ যেখানে পাবেন

নভেম্বর থেকেই যেন শুরু হয় আলোর উৎসবের। সামনেই দীপাবলি, এরপর বিয়ের মৌসুম। এখন পুরান ঢাকার পথের ধারে বা শাঁখারীবাজার ঢুকলেই চোখে পড়বে সুন্দর সব মাটির প্রদীপ। পূজা, গায়ে হলুদ ও বিয়েতে প্রদীপ, মোমবাতি ও নানান ধরনের বাতির ব্যবহার দেখা যায়।