ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ: এমবিবিএস ফাইনাল প্রফে সেরা তিন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন সাফিয়া তাসনিম সেমন্তি। পাঁচ বছরের দীর্ঘ পথচলায় পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পরিবারের ভালোবাসার ফল এই সাফল্য।

সাফিয়ার জন্ম বগুড়ায়। বর্তমানে থাকেন ঢাকার সাভারে। সাভারের এ ই আর ই স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। সেখান থেকে এসএসসি এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সাফিয়া। তাই মা-বাবার স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি চিকিৎসক হবেন। পরিবারের সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্ন হয়ে ওঠে তাঁর। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। মানুষের অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, রোগের কারণ ও চিকিৎসার নানা দিক জানতে গিয়ে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা দৃঢ় হয়।

তবে মেডিকেল জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম বর্ষে অনেক বড় সিলেবাস ও নতুন বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। পরে বুঝেছেন, মুখস্থ নয়, বিষয় বুঝে শেখার মধ্যেই আসল আনন্দ। বুঝে পড়লে তা দীর্ঘদিন মনে থাকে। ফাইনাল প্রফে মেডিসিন, সার্জারি এবং গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিকসের পাশাপাশি লিখিত, মৌখিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। শেষ ছয় মাস ছিল সবচেয়ে ব্যস্ততা।

সাফিয়া বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কতটা গুছিয়ে উঠতে পেরেছিলাম, সেটাও জানি না। শুধু নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

সেই চেষ্টার ফলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি। এ জন্য মা-বাবা, ছোট দুই ভাই, শ্বশুরবাড়ির মানুষ, স্বামী, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ সাফিয়া। নিজেকে একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

ঢাকায় বেড়ে ওঠা ফারিহা রহমানের শিক্ষাজীবনের শুরু মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। এরপর হলিক্রস কলেজে। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন স্বপ্নের ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন ফারিহা। মেডিকেল জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি কীভাবে পড়বেন, তা বুঝতে সময় লেগেছে। শুরুতে মুখস্থ করে পড়লেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে এসে বুঝেছেন, মেডিকেল পড়াশোনা শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়; অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও প্যাথলজির মধ্যে রয়েছে গভীর যোগসূত্র। এই সংযোগ বুঝতে শুরু করার পর পড়াশোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তাঁর কাছে। চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষকে নিজের মেডিকেল জীবনের স্মরণীয় সময় মনে করেন ফারিহা। প্রায় এক বছর আগে USMLE Step 1-এর প্রস্তুতির সময়ও নিজের একাডেমিক ঘাটতিগুলো নতুন করে বুঝতে পারেন। তখন ফিজিওলজি ও প্যাথলজির পাশাপাশি অপ্রচলিত ও বিরল রোগের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয়।

ফাইনাল প্রফ ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মেডিসিন, সার্জারি এবং গাইনি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকসের অনেক পড়াশোনার পাশাপাশি লিখিত, লং কেস, শর্ট কেস ও ভাইভা সামলাতে হয়েছে। এ সময়ে পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের দোয়া ও আল্লাহর রহমতকে সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করেছেন তিনি। এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্য, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান স্মরণ করেন ফারিহা। বিশেষ করে মায়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ভয় পেয়ো না। তুমি যেহেতু পরিশ্রম করেছ, আল্লাহ অবশ্যই তোমার পরিশ্রমের ফল দেবেন।’ সামনে ইন্টার্নশিপ। এরপর USMLE pathway-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি করার ইচ্ছা তাঁর। পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান নরসিংদীর মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্নও দেখেন। তিনি বলেন, ‘নিজের জ্ঞান ও সামর্থ্য দিয়ে মানুষের উপকার করতে পারাই জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের হাওরঘেরা জনপদে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আল ইশরাত জাহান ঈশিতা। যেখানে এখনো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা অনেকের নাগালের বাইরে, অসুস্থ হলে উপজেলা থেকে বাইরে যেতেও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা কাছ থেকে দেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর। হাওরের সেই জনপদ থেকে শুরু হওয়া পথ তাঁকে নিয়ে যায় হলিক্রস কলেজ হয়ে স্বপ্নের ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছেন ঈশিতা। এই সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুকরি কৌশল ছিল না বলে মনে করেন তিনি। ধারাবাহিক পড়াশোনা, বিষয় বুঝে শেখা ও নিয়মিত পুনরাবৃত্তিই ছিল তাঁর মূলমন্ত্র। মেডিকেল জীবনের চাপ আর বিশাল সিলেবাসের মাঝেও পিছিয়ে পড়লে আবার শুরু করেছেন।

ঈশিতা বলেন, ‘যতবার পিছিয়ে পড়েছি, ততবার আবার শুরু করেছি। হয়তো প্রতিদিন সমানভাবে পড়তে পারিনি, কিন্তু চেষ্টা করেছি যেন পুরোপুরি থেমে না যাই।’

পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলানোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সব সময় সমানভাবে উৎপাদনশীল থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নিয়েছেন, নিজেকে সময় দিয়েছেন। তারপর আবার নতুন করে শুরু করেছেন।

এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন মা-বাবা। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহও ছিল পাশে। এই অর্জনকে শেষ নয়, নতুন যাত্রার শুরু মনে করেন ঈশিতা। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় এগিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নিজের হাওর এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্নও দেখেন।

প্রত্যন্ত এলাকায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসচেতনতা, গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

স্কুলের শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি স্কুলে যাওয়া এবং বইয়ের জগতে ডুবে থাকা। তবে আমাদের পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে ধান চাষ, কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়েছে। তারা পরিদর্শন করেছে কৃষি প্রযুক্তি গ্রাম।

সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস। নতুন মুখে প্রাণচাঞ্চল্য। ফুল উপহারে নবীনদের স্বাগত। এমন আনন্দঘন পরিবেশে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ‘ফল ২০২৬’ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম ২০২৭-এর আবেদন চলছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্নাতক ও এমফিল ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা স্নাতকেরাও সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতেপারবেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

প্রতিশোধ নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত

ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজ: এমবিবিএস ফাইনাল প্রফে সেরা তিন

প্রকাশ: ১১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন সাফিয়া তাসনিম সেমন্তি। পাঁচ বছরের দীর্ঘ পথচলায় পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও পরিবারের ভালোবাসার ফল এই সাফল্য।

সাফিয়ার জন্ম বগুড়ায়। বর্তমানে থাকেন ঢাকার সাভারে। সাভারের এ ই আর ই স্কুল অ্যান্ড কলেজে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। সেখান থেকে এসএসসি এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

ছোটবেলা থেকে পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সাফিয়া। তাই মা-বাবার স্বপ্ন ছিল, একদিন তিনি চিকিৎসক হবেন। পরিবারের সেই স্বপ্নই ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্ন হয়ে ওঠে তাঁর। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হয়। মানুষের অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, রোগের কারণ ও চিকিৎসার নানা দিক জানতে গিয়ে চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছা দৃঢ় হয়।

তবে মেডিকেল জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। প্রথম বর্ষে অনেক বড় সিলেবাস ও নতুন বিষয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়েছে। পরে বুঝেছেন, মুখস্থ নয়, বিষয় বুঝে শেখার মধ্যেই আসল আনন্দ। বুঝে পড়লে তা দীর্ঘদিন মনে থাকে। ফাইনাল প্রফে মেডিসিন, সার্জারি এবং গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিকসের পাশাপাশি লিখিত, মৌখিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। শেষ ছয় মাস ছিল সবচেয়ে ব্যস্ততা।

সাফিয়া বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত কতটা গুছিয়ে উঠতে পেরেছিলাম, সেটাও জানি না। শুধু নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

সেই চেষ্টার ফলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছেন তিনি। এ জন্য মা-বাবা, ছোট দুই ভাই, শ্বশুরবাড়ির মানুষ, স্বামী, শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞ সাফিয়া। নিজেকে একজন ভালো চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

ঢাকায় বেড়ে ওঠা ফারিহা রহমানের শিক্ষাজীবনের শুরু মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে। এরপর হলিক্রস কলেজে। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। সেই স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হন স্বপ্নের ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন ফারিহা। মেডিকেল জীবনের শুরুটা সহজ ছিল না। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি কীভাবে পড়বেন, তা বুঝতে সময় লেগেছে। শুরুতে মুখস্থ করে পড়লেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে এসে বুঝেছেন, মেডিকেল পড়াশোনা শুধু মুখস্থ করার বিষয় নয়; অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও প্যাথলজির মধ্যে রয়েছে গভীর যোগসূত্র। এই সংযোগ বুঝতে শুরু করার পর পড়াশোনা আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে তাঁর কাছে। চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষকে নিজের মেডিকেল জীবনের স্মরণীয় সময় মনে করেন ফারিহা। প্রায় এক বছর আগে USMLE Step 1-এর প্রস্তুতির সময়ও নিজের একাডেমিক ঘাটতিগুলো নতুন করে বুঝতে পারেন। তখন ফিজিওলজি ও প্যাথলজির পাশাপাশি অপ্রচলিত ও বিরল রোগের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হয়।

ফাইনাল প্রফ ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মেডিসিন, সার্জারি এবং গাইনি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকসের অনেক পড়াশোনার পাশাপাশি লিখিত, লং কেস, শর্ট কেস ও ভাইভা সামলাতে হয়েছে। এ সময়ে পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবারের দোয়া ও আল্লাহর রহমতকে সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করেছেন তিনি। এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্য, শিক্ষক ও বন্ধুদের অবদান স্মরণ করেন ফারিহা। বিশেষ করে মায়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ভয় পেয়ো না। তুমি যেহেতু পরিশ্রম করেছ, আল্লাহ অবশ্যই তোমার পরিশ্রমের ফল দেবেন।’ সামনে ইন্টার্নশিপ। এরপর USMLE pathway-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সি করার ইচ্ছা তাঁর। পাশাপাশি নিজের জন্মস্থান নরসিংদীর মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্নও দেখেন। তিনি বলেন, ‘নিজের জ্ঞান ও সামর্থ্য দিয়ে মানুষের উপকার করতে পারাই জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের হাওরঘেরা জনপদে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আল ইশরাত জাহান ঈশিতা। যেখানে এখনো মানসম্মত চিকিৎসাসেবা অনেকের নাগালের বাইরে, অসুস্থ হলে উপজেলা থেকে বাইরে যেতেও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই বাস্তবতা কাছ থেকে দেখে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর। হাওরের সেই জনপদ থেকে শুরু হওয়া পথ তাঁকে নিয়ে যায় হলিক্রস কলেজ হয়ে স্বপ্নের ঢাকা মেডিকেল কলেজে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় তৃতীয় হয়েছেন ঈশিতা। এই সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুকরি কৌশল ছিল না বলে মনে করেন তিনি। ধারাবাহিক পড়াশোনা, বিষয় বুঝে শেখা ও নিয়মিত পুনরাবৃত্তিই ছিল তাঁর মূলমন্ত্র। মেডিকেল জীবনের চাপ আর বিশাল সিলেবাসের মাঝেও পিছিয়ে পড়লে আবার শুরু করেছেন।

ঈশিতা বলেন, ‘যতবার পিছিয়ে পড়েছি, ততবার আবার শুরু করেছি। হয়তো প্রতিদিন সমানভাবে পড়তে পারিনি, কিন্তু চেষ্টা করেছি যেন পুরোপুরি থেমে না যাই।’

পড়াশোনার পাশাপাশি মানসিক চাপ সামলানোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সব সময় সমানভাবে উৎপাদনশীল থাকা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন হলে বিশ্রাম নিয়েছেন, নিজেকে সময় দিয়েছেন। তারপর আবার নতুন করে শুরু করেছেন।

এই পথচলায় সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন মা-বাবা। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহও ছিল পাশে। এই অর্জনকে শেষ নয়, নতুন যাত্রার শুরু মনে করেন ঈশিতা। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসায় এগিয়ে যেতে চান। পাশাপাশি নিজের হাওর এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্নও দেখেন।

প্রত্যন্ত এলাকায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসচেতনতা, গর্ভবতী মায়ের চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

স্কুলের শিক্ষার্থী বলতে আমরা বুঝি স্কুলে যাওয়া এবং বইয়ের জগতে ডুবে থাকা। তবে আমাদের পাঠশালা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামীণ পরিবেশে ধান চাষ, কৃষি ও প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব ধারণা নিয়েছে। তারা পরিদর্শন করেছে কৃষি প্রযুক্তি গ্রাম।

সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস। নতুন মুখে প্রাণচাঞ্চল্য। ফুল উপহারে নবীনদের স্বাগত। এমন আনন্দঘন পরিবেশে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ‘ফল ২০২৬’ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম ২০২৭-এর আবেদন চলছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। স্নাতক ও এমফিল ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। ১৬ বছরের শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করা স্নাতকেরাও সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতেপারবেন।