রাতভর চলছে রাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা, মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ

রাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৪২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ১৬১ বার পঠিত হয়েছে

Oplus_131072

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচনের ভোট গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম ধাপে মন্নুজান হলের ভোট গণনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি হলের ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করব।”

এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট শেষ হওয়ার পর পৌনে ৫টার মধ্যেই সব ব্যালট বাক্স নিরাপদে মিলনায়তনে পৌঁছায়। সন্ধ্যা নাগাদ পোলিং কর্মকর্তারা ও প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্সগুলো খোলা হয়।

রাকসু নির্বাচনের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ খন্দকার জানান, ভোট গণনার আগে ওএমআর মেশিনগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। “প্রার্থীদের সামনে কয়েকটি পরীক্ষামূলক ব্যালট স্ক্যান করে সবাইকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

ভোট গণনার প্রতিটি ধাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও শহীদ মিনারে স্থাপিত বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছেন।

মিলনায়তনের মঞ্চে বসানো হয়েছে ছয়টি আলাদা ওএমআর মেশিন। প্রতিটি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে খোলা হচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও বারো প্লাটুন র‍্যাব।

এবারের নির্বাচনে ২৮ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। ৯টি অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩০৫ জন প্রার্থী। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৮ জন এবং ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে অংশ নিচ্ছেন ৫৫৫ জন প্রার্থী।

মোট ভোটারের মধ্যে ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী এবং ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ পুরুষ।

রাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ১১টি প্যানেল। আলোচিত প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’, ছাত্রশিবিরের ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ফেডারেশনের নেতৃত্বে ‘রাকসু ফর র‍্যাডিক্যাল চেঞ্জ’, সাবেক সমন্বয়কদের ‘আধিপত্যবাদবিরোধী ঐক্য’, বামজোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ‘অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪’, নারী নেতৃত্বাধীন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’।

নির্বাচনী পরিবেশে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উপস্থিতি উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। সবাই এখন অপেক্ষায়-রাতভর গণনা শেষে রাকসুর নতুন নেতৃত্ব কারা হতে যাচ্ছেন তা দেখার।

রাতভর চলছে রাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা, মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ

রাকসু নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু

প্রকাশ: ১০:৪২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধিদের নির্বাচনের ভোট গণনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথম ধাপে মন্নুজান হলের ভোট গণনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ। তিনি বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি হলের ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল প্রকাশ করব।”

এর আগে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ভোট শেষ হওয়ার পর পৌনে ৫টার মধ্যেই সব ব্যালট বাক্স নিরাপদে মিলনায়তনে পৌঁছায়। সন্ধ্যা নাগাদ পোলিং কর্মকর্তারা ও প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্সগুলো খোলা হয়।

রাকসু নির্বাচনের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ খন্দকার জানান, ভোট গণনার আগে ওএমআর মেশিনগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। “প্রার্থীদের সামনে কয়েকটি পরীক্ষামূলক ব্যালট স্ক্যান করে সবাইকে আশ্বস্ত করা হয়েছে এতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

ভোট গণনার প্রতিটি ধাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও শহীদ মিনারে স্থাপিত বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা মিলনায়তনের বাইরে দাঁড়িয়ে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করছেন।

মিলনায়তনের মঞ্চে বসানো হয়েছে ছয়টি আলাদা ওএমআর মেশিন। প্রতিটি ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা এবং প্রার্থীদের এজেন্টদের উপস্থিতিতে খোলা হচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে দুই হাজার পুলিশ সদস্য, ছয় প্লাটুন বিজিবি ও বারো প্লাটুন র‍্যাব।

এবারের নির্বাচনে ২৮ হাজার ৯০১ জন শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছেন। ৯টি অ্যাকাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩০৫ জন প্রার্থী। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫৮ জন এবং ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে অংশ নিচ্ছেন ৫৫৫ জন প্রার্থী।

মোট ভোটারের মধ্যে ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী এবং ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ পুরুষ।

রাকসু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ১১টি প্যানেল। আলোচিত প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’, ছাত্রশিবিরের ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ফেডারেশনের নেতৃত্বে ‘রাকসু ফর র‍্যাডিক্যাল চেঞ্জ’, সাবেক সমন্বয়কদের ‘আধিপত্যবাদবিরোধী ঐক্য’, বামজোটের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’, ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের ‘অপরাজেয় ৭১, অপ্রতিরোধ্য ২৪’, নারী নেতৃত্বাধীন ‘সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদ’ এবং ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ‘সচেতন শিক্ষার্থী পরিষদ’।

নির্বাচনী পরিবেশে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উপস্থিতি উৎসবের আবহ তৈরি করেছে। সবাই এখন অপেক্ষায়-রাতভর গণনা শেষে রাকসুর নতুন নেতৃত্ব কারা হতে যাচ্ছেন তা দেখার।