পদ্মা অয়েল পিএলসির অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ১১ মার্চ পদ্মা অয়েলের নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ডিপো থেকে (জেট এ-১) চারটি লরি ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুর্মিটোলা এভিয়েশনে যাওয়ার সময় পাচার করা হয়। যদিও নিবন্ধন বইয়ে লরিগুলোর ঢোকার ও বের হওয়ার সময় লেখা আছে। জেট ফুয়েল গ্রহণের নথিতেও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সই। তবে বাস্তবে লরিগুলো ডিপোতে ঢোকেনি। অর্থাৎ ৭২ হাজার লিটার তেল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গোদনাইল ডিপো থেকে জেট ফুয়েল নিয়ে ট্যাংকলরি কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোতে পৌঁছায়। এরপর প্রতিটি গাড়ির তথ্য প্রধান ফটকে থাকা নিবন্ধন বইয়ে সংরক্ষণ করা হয়। নির্দিষ্ট কর্মকর্তা গাড়ির প্রতিটি চেম্বারের ডিপ বা গভীরতা মেপে জ্বালানির পরিমাণ নিশ্চিত করেন। এভিয়েশন ফুয়েল স্টক ট্রান্সফার অ্যাডভাইস নোট এবং রিলিজ সার্টিফিকেটে (এএসটিআর) সই করে তেল গ্রহণ দেখানো হয়।
পদ্মা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার (মানবসম্পদ) মীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন আজকের পত্রিকাকে দফায় দফায় জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কুর্মিটোলা এভিয়েশন ডিপোর ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক সায়েদুল হককে বাধ্যতামূলক অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং পাশাপাশি পাচারকৃত ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ফেরত দিতে বলা হয়েছে। ঘটনার পর সাইদুল হক, ছমীর উদ্দিন, আকতার কামাল, শওকত হোসেন ও মানিক কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
বাধ্যতামূলক অবসর ও জেট ফুয়েল গায়েবের বিষয়ে জানতে সায়েদুল হকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।
গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ১৬ হাজার লিটার জেট ফুয়েল জব্দের সময় লরিচালক সাগর হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকেসহ হেলপার দ্বীন ইসলাম (৫২) ও লরির মালিক ইয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে (৫০) আসামি করে মামলা করা হয়। এতে দুজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি এমদাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে ইতিমধ্যে পদ্মা অয়েলের শাহ আমানত বিমানবন্দরের ইনচার্জ মো. সোহেল ইদ্রিস এবং পদ্মা অয়েলের গাড়িচালক মো. জসিম উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার ফখরুদ্দিন জানান, চট্টগ্রামে জেট ফুয়েল পাচারের ঘটনায় ডিপো ইনচার্জ সোহেল ইদ্রিসকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 























