সড়ক দুর্ঘটনায় মুছে গেল বিয়ের আনন্দ, কনের ভাই-বোনসহ নিহত ৪

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

কন্যা সম্প্রদান শেষে কনেকে স্বামীর বাড়ি বাঁশখালির উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দিয়ে স্বজনরা ফিরছিলেন কক্সবাজারে। মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যেরটেক এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কনের ভাই, বোন, মামা ও চালক। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনের বাবা। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কনের মা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শনিবার গভীর রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নববধূ তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই নিয়াজ মোর্শেদ (২২) ও বোন মিফতাহ (১৭) ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাঁদের বড় মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসচালক মুন্না (৪০)। নিহত চারজনের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায়।

দুর্ঘটনার সময় মাইক্রোবাসে ১১ জন ছিলেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের ঈদগাহ মাইজপাড়ার বাসিন্দা মীর কাশেম (৬০), শামসুল আলমসহ (৫৫) আরও সাতজন প্রাণে বেঁচে যান।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শনিবার রাতে ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বাঁশখালীর কালীপুর এলাকার মো. তৈয়বের ছেলে ফখরুল আবেদীনের সঙ্গে ফাহিমের বিয়ে হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়েতে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন আত্মীয়স্বজন যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও, সবার শেষে রওনা হন ফাহিমের পরিবারের নিকটজনেরা। সেখানে ফাহিমের বাবা মনজুর আলম ও তাঁর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই ছেলেমেয়ে, স্ত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনায় কনের মা নিলুফা আক্তারও আহত হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।

ফাহিমের মামা ফেরদৌস আলমের ছেলে তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন দুটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফুফি, ফুফাতো ভাই-বোনসহ বাবা-মাও ছিল গাড়িতে। ভাবতেও পারিনি আনন্দ এভাবে বিষাদে রূপ নেবে। এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল।’

আজ রোববার বেলা দেড়টায় হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত আটটার দিকে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর আহমদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের পটিয়া বাইপাস সড়কের করল এলাকার পাশের ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের আনুমানিক বয়স ৪২ বছর।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মালবাহী (পাথরবাহী) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে এ ঘটনা ঘটে।

পিরোজপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. মিরাজ শেখ নামে এক মাদককারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বিষয়টি জানান।

জনপ্রিয় টার্গেট

সড়ক দুর্ঘটনায় মুছে গেল বিয়ের আনন্দ, কনের ভাই-বোনসহ নিহত ৪

প্রকাশ: ০৭:৩৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কন্যা সম্প্রদান শেষে কনেকে স্বামীর বাড়ি বাঁশখালির উদ্দেশ্যে রওনা করিয়ে দিয়ে স্বজনরা ফিরছিলেন কক্সবাজারে। মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যেরটেক এলাকায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন কনের ভাই, বোন, মামা ও চালক। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কনের বাবা। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কনের মা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল শনিবার গভীর রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ থেকে কক্সবাজারে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় নববধূ তাম্মিন ফায়েছা ফাহিমের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভাই নিয়াজ মোর্শেদ (২২) ও বোন মিফতাহ (১৭) ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তাঁদের বড় মামা ফেরদৌস আলম (৫৫) এবং মাইক্রোবাসচালক মুন্না (৪০)। নিহত চারজনের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকায়।

দুর্ঘটনার সময় মাইক্রোবাসে ১১ জন ছিলেন বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের ঈদগাহ মাইজপাড়ার বাসিন্দা মীর কাশেম (৬০), শামসুল আলমসহ (৫৫) আরও সাতজন প্রাণে বেঁচে যান।

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় শনিবার রাতে ফাহিমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বাঁশখালীর কালীপুর এলাকার মো. তৈয়বের ছেলে ফখরুল আবেদীনের সঙ্গে ফাহিমের বিয়ে হয়।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বিয়েতে কক্সবাজার থেকে তিনটি মাইক্রোবাসে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন আত্মীয়স্বজন যোগ দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রথম দুটি গাড়ি নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও, সবার শেষে রওনা হন ফাহিমের পরিবারের নিকটজনেরা। সেখানে ফাহিমের বাবা মনজুর আলম ও তাঁর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে দুই ছেলেমেয়ে, স্ত্রী ছিলেন।

দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনজুর আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়।

দুর্ঘটনায় কনের মা নিলুফা আক্তারও আহত হয়েছেন। তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা।

ফাহিমের মামা ফেরদৌস আলমের ছেলে তারেক মাহমুদ বলেন, ‘অনুষ্ঠান শেষে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন দুটি মাইক্রোবাসে করে কক্সবাজারের বাড়িতে ফিরছিলেন। ফুফি, ফুফাতো ভাই-বোনসহ বাবা-মাও ছিল গাড়িতে। ভাবতেও পারিনি আনন্দ এভাবে বিষাদে রূপ নেবে। এক নিমেষে সব শেষ হয়ে গেল।’

আজ রোববার বেলা দেড়টায় হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চারটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ কক্সবাজারের উদ্দেশে নেওয়া হয়। রাত আটটার দিকে জানাজার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূর আহমদ বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সকালে উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের পটিয়া বাইপাস সড়কের করল এলাকার পাশের ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের আনুমানিক বয়স ৪২ বছর।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মালবাহী (পাথরবাহী) ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার গোলাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে এ ঘটনা ঘটে।

পিরোজপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস ও ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. মিরাজ শেখ নামে এক মাদককারবারীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বিষয়টি জানান।