লোডশেডিংয়ে হিমাগারের ৭৭ হাজার টন আলু নিয়ে শঙ্কা

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৫:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ বার পঠিত হয়েছে

বিশেষ করে, সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে বড় ধরনের বীজ-সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৈয়দপুরের নর্দান কোল্ডস্টোরেজের মালিক আবু তালেব জানান, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটরের মাধ্যমে পাখা চালু করা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ, জেনারেটর দিয়ে হিমাগারের মেশিন চালু করা সম্ভব নয়। এতে একদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

নীলফামারীর শাওন হিমাগারের ব্যবস্থাপক নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকেরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মৌসুমে বপনের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি, কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় আছি। আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ সময় মেশিন চালু রাখতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।

দীপু রায় আরও বলেন, জেনারেটর ব্যবহার করলে পরিচালন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। হিমাগারে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। কৃষক ও হিমাগারমালিকদের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘরের মাটির দেয়াল ধসে আয়েশা আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির বাবা সিদ্দিকুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গাংধরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে একটি টেবিল ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বিদ্যালয়টির দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ায় প্রায় তিন শ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

কৃষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষক যেন সেচের জন্য হয়রানির শিকার না হন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাঠে গিয়ে কৃষকের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

জনপ্রিয় টার্গেট

লোডশেডিংয়ে হিমাগারের ৭৭ হাজার টন আলু নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: ০৫:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ করে, সংরক্ষিত প্রায় ৪০ হাজার টন বীজ আলু ক্ষতিগ্রস্ত হলে আগামী মৌসুমে বড় ধরনের বীজ-সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সৈয়দপুরের নর্দান কোল্ডস্টোরেজের মালিক আবু তালেব জানান, আলু ভালো রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে হিমাগারের শীতলীকরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটরের মাধ্যমে পাখা চালু করা হলেও তীব্র গরমের কারণে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। কারণ, জেনারেটর দিয়ে হিমাগারের মেশিন চালু করা সম্ভব নয়। এতে একদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়, অন্যদিকে বাড়ছে আলু নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি।

নীলফামারীর শাওন হিমাগারের ব্যবস্থাপক নাহিদ হাসান জনি বলেন, হিমাগারের মেশিনগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে চালাতে হয়। মাঝপথে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালিয়ে ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণ করা কৃষকেরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। আগামী মৌসুমের জন্য সংরক্ষণ করা আলু নষ্ট হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে জানান তিনি।

জলঢাকা উপজেলার বালাগ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী মৌসুমে বপনের জন্য হিমাগারে বীজ আলু রেখেছি, কিন্তু বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তায় আছি। আলু নষ্ট হয়ে গেলে পরের বছর ভালো ফলন পাওয়া কঠিন হবে। তাই হিমাগারগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

উত্তরা হিমাগার নীলফামারীর ব্যবস্থাপক দীপু রায় বলেন, গরমের কারণে এমনিতেই হিমাগারের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দীর্ঘ সময় মেশিন চালু রাখতে হয়। এর মধ্যে লোডশেডিং হলে পুরো প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। একটি কক্ষ ঠান্ডা করতে এক ঘণ্টা সময় লাগলে ৩০ মিনিট পর বিদ্যুৎ চলে গেলে আবার শুরু থেকে কাজ করতে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায়।

দীপু রায় আরও বলেন, জেনারেটর ব্যবহার করলে পরিচালন ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। হিমাগারে ভাড়া বেশি নেওয়ার অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। কৃষক ও হিমাগারমালিকদের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঘরের মাটির দেয়াল ধসে আয়েশা আক্তার (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির বাবা সিদ্দিকুর রহমান গুরুতর আহত হয়েছেন।

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গাংধরকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে একটি টেবিল ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে বিদ্যালয়টির দোতলা ভবনের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ায় প্রায় তিন শ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

কৃষক ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, কৃষক যেন সেচের জন্য হয়রানির শিকার না হন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা পান, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাঠে গিয়ে কৃষকের কথা শুনতে হবে এবং তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।