মানব পাচারের অন্যতম রুট পঞ্চগড় সীমান্ত

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৩:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ বার পঠিত হয়েছে

সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ছয় বাংলাদেশির বাড়ি কক্সবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড় জেলায়। তাঁদের ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যও ছিল ভিন্ন। কেউ চাকরির সন্ধানে, কেউ স্পা সেন্টারে কাজের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ এলাকায় বিয়ে করে অন্য নারীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন।

মানব পাচারের সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের একজন সঞ্জিদ কুমার রায় (২৩)। আটকের পর সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন তিনি।

সঞ্জিদ জানান, নারায়ণ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। চক্রের সদস্যদের কথামতো তাঁরা সীমান্ত এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। তবে সীমান্ত অতিক্রমের আগেই বিজিবির হাতে আটক হন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাধারণত একজনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে টাকার পরিমাণ বাড়ে।

পঞ্চগড়ের কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় বিস্তীর্ণ চা-বাগান থাকায় সেই পরিবেশ কাজে লাগানোর অভিযোগও রয়েছে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধে জড়িয়ে আছে। মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবির করা মামলায়ও একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ, পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকেও জানানো হয়েছে। বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পুলিশ তদন্ত করছে।

৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যখনই কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তখনই অভিযান চালিয়ে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। সীমান্তের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

সকাল ৮টা। বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছেন একজন শিক্ষক। কিছুক্ষণ পর তাঁকেই দেখা গেল বিদ্যালয়ের শৌচাগার পরিষ্কার করতে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে সম্প্রতি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সড়কের মাঝে থাকা ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করায় মাগুরার শ্রীপুর বাইপাস সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নকাজ থমকে আছে। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে টাকা পরিশোধ করার পরও খুঁটিগুলো অপসারণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে রয়েছে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলা।

জনপ্রিয় টার্গেট

তিন বছরে ইসরায়েল ছেড়েছেন ১৪০০ চিকিৎসক

মানব পাচারের অন্যতম রুট পঞ্চগড় সীমান্ত

প্রকাশ: ০৩:১৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাম্প্রতিক অভিযানে আটক ছয় বাংলাদেশির বাড়ি কক্সবাজার, ফেনী, সুনামগঞ্জ ও পঞ্চগড় জেলায়। তাঁদের ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যও ছিল ভিন্ন। কেউ চাকরির সন্ধানে, কেউ স্পা সেন্টারে কাজের উদ্দেশ্যে, আবার কেউ এলাকায় বিয়ে করে অন্য নারীকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন।

মানব পাচারের সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের একজন সঞ্জিদ কুমার রায় (২৩)। আটকের পর সরাসরি তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় এসেছিলেন তিনি।

সঞ্জিদ জানান, নারায়ণ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। চক্রের সদস্যদের কথামতো তাঁরা সীমান্ত এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। তবে সীমান্ত অতিক্রমের আগেই বিজিবির হাতে আটক হন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধভাবে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সাধারণত একজনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে ব্যক্তি ও পরিস্থিতিভেদে টাকার পরিমাণ বাড়ে।

পঞ্চগড়ের কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় বিস্তীর্ণ চা-বাগান থাকায় সেই পরিবেশ কাজে লাগানোর অভিযোগও রয়েছে পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকার কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধে জড়িয়ে আছে। মানব পাচারের ঘটনায় বিজিবির করা মামলায়ও একাধিক ব্যক্তির নাম এসেছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে পঞ্চগড় জেলা পুলিশ, পঞ্চগড় সদর থানা-পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সকেও জানানো হয়েছে। বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পুলিশ তদন্ত করছে।

৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যখনই কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তখনই অভিযান চালিয়ে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের আটক করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় নেই। সীমান্তের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।’

সকাল ৮টা। বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দা ঝাড়ু দিচ্ছেন একজন শিক্ষক। কিছুক্ষণ পর তাঁকেই দেখা গেল বিদ্যালয়ের শৌচাগার পরিষ্কার করতে। এমন দৃশ্য দেখা গেছে সম্প্রতি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

সড়কের মাঝে থাকা ১২টি বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ না করায় মাগুরার শ্রীপুর বাইপাস সড়ক প্রশস্ত ও উন্নয়নকাজ থমকে আছে। প্রকল্পের আওতায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে টাকা পরিশোধ করার পরও খুঁটিগুলো অপসারণ করেনি কর্তৃপক্ষ। এর সঙ্গে রয়েছে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলা।