বাক্প্রতিবন্ধীর জমি দখলে চক্রান্ত, সাক্ষী জানেন না মামলার বিষয়ে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় তহশিল কার্যালয়ের অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে জমির ডিপি বইয়ের দাগ নম্বর কাটছাঁট করে নিজ নামে রেকর্ড করিয়েছেন ফরমত আলী। জমি রক্ষায় কোনো উপায় না পেয়ে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হকের কাছ থেকে আট শতক জমি নিয়মতান্ত্রিক দলিলের মাধ্যমে কেনেন মফিজুল ইসলামের বাবা মমতাজ আলী। মমতাজ আলীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে মফিজুল ওই জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ফরমত আলী ওই জমির ১৩২০ নম্বর খতিয়ানের ৭৪২ নম্বর দাগটি নিজের দাবি করে মফিজুলকে চাষাবাদে বাধা দেন। এতে জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগে ফরমতের করা ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলায় সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জমিটির প্রকৃত মালিক ও ভোগদখলকারী হিসেবে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুল ইসলামের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

পরে ফরমত আলী সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও সম্প্রতি তিনি পুনরায় নতুন মামলা করেন।

মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় অন্য ব্যক্তিদেরও ওই মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হন।

মামলায় তহিদুল ইসলাম নামের এক ভ্যানচালককে সাক্ষী করা হলেও তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। সম্পূর্ণ অজান্তে তাঁকে মিথ্যা মামলার সাক্ষী করায় তহিদুল পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে ভুয়া ঘটনায় সাক্ষী করা হয়েছে, তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হক নিজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমার ভাই ফরমত এলাকায় একের পর এক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সে একজন বোবা ও গরিব মানুষের জমি অন্যায়ভাবে দখলের চক্রান্ত করছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফরমত আলী বলেন, ‘জমির বৈধ রেকর্ড আমার নামে রয়েছে। মফিজুল আমার জমি দখল করে রেখেছিল বলেই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। তহিদুলকে জানিয়েই সাক্ষী করা হয়েছিল, সে এখন মিথ্যা বলছে।’

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, না জানিয়ে মামলায় সাক্ষী করার বিষয়ে তহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়েছেন চুরির মামলার এক আসামি। পলাতক আসামি আব্দুল মোমিন (২২) সিরাজগঞ্জ শহরের কোবদাসপাড়া এলাকার আব্দুস সবুরের ছেলে।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান। তবে অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুর হদিস মেলেনি। এদিকে ভূমির নামজারি সংক্রান্ত একটি কাজে এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে…

রংপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী হত্যার ১৩ দিন পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ৩৫টি আলামত তিন দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সাত মাসে নিখোঁজ ১৫ হাজার শিশু, কারণ যা জানাল পুলিশ

বাক্প্রতিবন্ধীর জমি দখলে চক্রান্ত, সাক্ষী জানেন না মামলার বিষয়ে

প্রকাশ: ০৭:৪৩:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, স্থানীয় তহশিল কার্যালয়ের অসাধু কর্মীদের যোগসাজশে জমির ডিপি বইয়ের দাগ নম্বর কাটছাঁট করে নিজ নামে রেকর্ড করিয়েছেন ফরমত আলী। জমি রক্ষায় কোনো উপায় না পেয়ে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হকের কাছ থেকে আট শতক জমি নিয়মতান্ত্রিক দলিলের মাধ্যমে কেনেন মফিজুল ইসলামের বাবা মমতাজ আলী। মমতাজ আলীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর বাক্‌প্রতিবন্ধী ছেলে মফিজুল ওই জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি ফরমত আলী ওই জমির ১৩২০ নম্বর খতিয়ানের ৭৪২ নম্বর দাগটি নিজের দাবি করে মফিজুলকে চাষাবাদে বাধা দেন। এতে জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এর আগে ফরমতের করা ১৪৪/১৪৫ ধারার মামলায় সরেজমিন তদন্ত পরিচালনা করে পাটগ্রাম থানা-পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জমিটির প্রকৃত মালিক ও ভোগদখলকারী হিসেবে বাক্‌প্রতিবন্ধী মফিজুল ইসলামের পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।

পরে ফরমত আলী সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিলেও সম্প্রতি তিনি পুনরায় নতুন মামলা করেন।

মফিজুলের স্ত্রী রেহেনা বেগম জানান, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় অন্য ব্যক্তিদেরও ওই মামলায় হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আসামি করা হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিকার চেয়ে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) তিনি সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হন।

মামলায় তহিদুল ইসলাম নামের এক ভ্যানচালককে সাক্ষী করা হলেও তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন। সম্পূর্ণ অজান্তে তাঁকে মিথ্যা মামলার সাক্ষী করায় তহিদুল পাটগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে ভুয়া ঘটনায় সাক্ষী করা হয়েছে, তাই আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি।’

ফরমত আলীর আপন ভাই একরামুল হক নিজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘আমার ভাই ফরমত এলাকায় একের পর এক মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। সে একজন বোবা ও গরিব মানুষের জমি অন্যায়ভাবে দখলের চক্রান্ত করছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ফরমত আলী বলেন, ‘জমির বৈধ রেকর্ড আমার নামে রয়েছে। মফিজুল আমার জমি দখল করে রেখেছিল বলেই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। তহিদুলকে জানিয়েই সাক্ষী করা হয়েছিল, সে এখন মিথ্যা বলছে।’

এ বিষয়ে পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, না জানিয়ে মামলায় সাক্ষী করার বিষয়ে তহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

সিরাজগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়েছেন চুরির মামলার এক আসামি। পলাতক আসামি আব্দুল মোমিন (২২) সিরাজগঞ্জ শহরের কোবদাসপাড়া এলাকার আব্দুস সবুরের ছেলে।

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম সাজুর বাড়িতে মাদক উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান। তবে অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো কিছুর হদিস মেলেনি। এদিকে ভূমির নামজারি সংক্রান্ত একটি কাজে এখতিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে…

রংপুরে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী হত্যার ১৩ দিন পর ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ৩৫টি আলামত তিন দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।