চার মাস নজরদারির পর সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রেপ্তার ৮

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত হয়েছে

এ ঘটনায় সাত চোর ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কারুশ্রী জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে দাবি করেছিলেন দোকানের মালিক।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার সাত চোরের একজনকে খুলনা থেকে এবং অপর ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী হলেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ি বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরএমপির মুখপাত্র জানান, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) প্রথমে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের মো. স্বপন (৬২), একই গ্রামের মো. উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা জিমতলা গ্রামের আবু তালেব (৪৫), একই থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা মাইল্যারহাট গ্রামের মো. ইউনুসকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে সেখানে কৌশলে জটলা তৈরি করে। একপর্যায়ে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে তারা। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার বাদী হয়ে মামলা করেন।

ঘটনার পর মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোর চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। চক্রটির সদস্যরা অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত সিমকার্ডও অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত। যাঁদের নামে এসব সিম নিবন্ধিত, তাঁদের অনেকেই নিজেদের নামে সিম থাকার বিষয়টিও জানেন না।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না। তারা বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে ওই এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধ সংঘটনের পাশাপাশি নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও নির্ধারণ করে। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে। ব্যবসার কথা বলে তারা দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায়।

আরএমপির মুখপাত্র জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া আরও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে। প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকাগামী বাসের সাইড বক্সে প্লাস্টিকের খাঁচায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া পাখি। খবর পেয়ে বগুড়ার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখিগুলোর সঙ্গে থাকা পাচারকারী বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহিদ হোসেন বলেন, ‘ভাঙন রোধে শুধু বালুর বস্তা দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা যায় না। এর জন্য সঠিক ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তব চিত্র দেখে গেলাম। ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মামলাটি একটি বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার তদন্তকালে তদন্তে আসামি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক হলেন এহসান মাহমুদ

চার মাস নজরদারির পর সোনার দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, গ্রেপ্তার ৮

প্রকাশ: ০২:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এ ঘটনায় সাত চোর ও চোরাই স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা ও ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। কারুশ্রী জুয়েলার্স থেকে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ, ২ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা চুরি হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে দাবি করেছিলেন দোকানের মালিক।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আরএমপির মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেপ্তার সাত চোরের একজনকে খুলনা থেকে এবং অপর ছয়জনকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই স্বর্ণ কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী হলেন চাঁদপুরের কচুয়া থানার সরকার বাড়ি বড়নীখোলা গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে রবিউল হাসান (৪৫)। তাঁর হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া ২৬ ভরি স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিউল অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ পাহারায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরএমপির মুখপাত্র জানান, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) প্রথমে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা (মাইল্যারহাট) গ্রামের মো. স্বপন (৬২), একই গ্রামের মো. উজ্জল (৩৭), একই থানার মাধবপুরা গ্রামের রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা জিমতলা গ্রামের আবু তালেব (৪৫), একই থানার পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের কালাম শেখ (৪৮) এবং পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা মাইল্যারহাট গ্রামের মো. ইউনুসকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সাহেববাজারে কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে সেখানে কৌশলে জটলা তৈরি করে। একপর্যায়ে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ওই দোকানের ভেতর দিয়ে কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে তারা। এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার বাদী হয়ে মামলা করেন।

ঘটনার পর মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে আরএমপির ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিট একযোগে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চোর চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। চক্রটির সদস্যরা অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির। তারা একটি মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করে না। ব্যবহৃত সিমকার্ডও অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত। যাঁদের নামে এসব সিম নিবন্ধিত, তাঁদের অনেকেই নিজেদের নামে সিম থাকার বিষয়টিও জানেন না।

পুলিশের ভাষ্য, চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এবং কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করে না। তারা বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করে। একটি চুরির আগে তিন থেকে চার মাস ধরে ওই এলাকা ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে অপরাধ সংঘটনের পাশাপাশি নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার পথও নির্ধারণ করে। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা রাজশাহীতে এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে। ব্যবসার কথা বলে তারা দোকান ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করে যায়।

আরএমপির মুখপাত্র জানিয়েছেন, চুরি যাওয়া আরও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে। প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকাগামী বাসের সাইড বক্সে প্লাস্টিকের খাঁচায় বন্দী করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল ১০৩টি প্যারাকিট টিয়া পাখি। খবর পেয়ে বগুড়ার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ বাসটিতে তল্লাশি চালিয়ে পাখিগুলো উদ্ধার করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পাখিগুলোর সঙ্গে থাকা পাচারকারী বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহিদ হোসেন বলেন, ‘ভাঙন রোধে শুধু বালুর বস্তা দিয়ে স্থায়ী সমাধান করা যায় না। এর জন্য সঠিক ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তব চিত্র দেখে গেলাম। ভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মামলাটি একটি বৈষম্যবিরোধী রাজনৈতিক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। মামলার তদন্তকালে তদন্তে আসামি ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।