সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের শিবসা নদীর ছোট ডাগরা খাল এলাকায় ডাকাত জাহাঙ্গীর বাহিনীর আস্তানা থেকে অস্ত্র–গোলাবারুদসহ অপহৃত আট জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। বুধবার ভোরে বিশেষ অভিযানে জেলেদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বনদস্যুরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ডাকাতরা জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং জিম্মি করে রাখার মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। অপহৃত জেলেদের আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলেও জানা যায়।
অভিযান চলাকালে কোস্ট গার্ড সদস্যরা ডাকাত আস্তানার ভেতর থেকে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং সাত রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করেন। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত সদস্যরা অন্ধকার–জঙ্গল ঘেরা পথ দিয়ে পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া আট জেলেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল হক বলেন, “সুন্দরবনে অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন খবরের ভিত্তিতে পরিচালিত আজকের অভিযানে ডাকাতদের আস্তানা সনাক্ত করে সফলভাবে আট জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র- গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়ায় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে, তবে খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা জোরদার ও সাধারণ জেলে- শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ডের অভিযান আরও তীব্র করা হবে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর বাহিনীর তৎপরতায় জেলেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। জেলেদের অপহরণ, রেনসোম দাবি ও নৌকা লুটপাটের কারণে অনেকেই জীবিকার কাজে নামতে ভয় পাচ্ছিলেন। কোস্ট গার্ডের এ সফল অভিযান জেলেদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, ডাকাতরা নিয়মিত তাদের ওপর নির্যাতন চালাত এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করত। সময়মতো অভিযান না হলে তাদের প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল বলে জানান তারা।
সুন্দরবনে ডাকাত দমনে কোস্ট গার্ড, র্যাব ও বন বিভাগ যৌথভাবে আরও সমন্বিত অভিযান চালাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযানের ফলে সুন্দরবন এলাকায় জেলে ও পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন 


















