তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর দাবি

কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

খুলনার কয়রা উপজেলা ভূমি অফিসের এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে করা তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। জমির ভোগদখল সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্তের দায়িত্ব পালন করা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কয়রা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার কাটনিয়া গ্রামের আতিয়ার সানা লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, উপজেলার বামিয়া মৌজার ৫ দশমিক ৯৪ একর সরকারি ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমির মধ্যে ৫ দশমিক ৬১ একর জমি তিনি ও তাঁর আরও পাঁচ ভাইবোন বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত ভোগদখলে রয়েছেন। প্রতি বছর নির্ধারিত খাজনা পরিশোধ করে তারা ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

আতিয়ার সানার অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে ঘুগরাকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সানার মেয়ে রাবেয়া খাতুন দলবল নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। প্রথম দফায় তারা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে আতিয়ার সানারা নিয়ম অনুযায়ী জমিতে ধান রোপণ করেন। কিন্তু ধান কাটার মৌসুমে আবারও রাবেয়া খাতুন ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আতিয়ার সানার পরিবারের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার পর আতিয়ার সানা কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে ধান কাটতে ব্যর্থ হয়ে রাবেয়া খাতুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। শুনানি শেষে আদালত বিতর্কিত জমির ধান কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত ভোগদখল নির্ধারণের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত হলেও সার্ভেয়ার বাবুল আকতার এক পক্ষের প্রভাবে গত ২১ জানুয়ারি আদালতে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে প্রকৃত ভোগদখলদারদের বিষয়টি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করেন আতিয়ার সানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাবেয়া খাতুন বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ওই জমির কোনো ইজারা নেই এবং তারা কখনোই ওই জমির বৈধ দখলদার ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে রাবেয়া খাতুন জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং সেই মহলের চাপেই তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন- আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত করে ধান চাষ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যা পেয়েছি, সেটির ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দিয়েছি। প্রতিবেদনে কোথাও জমির মালিকানা নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রতিবাদ কর্মসূচি

তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর দাবি

কয়রা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৪:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

খুলনার কয়রা উপজেলা ভূমি অফিসের এক সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে করা তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। জমির ভোগদখল সংক্রান্ত একটি মামলায় তদন্তের দায়িত্ব পালন করা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কয়রা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার কাটনিয়া গ্রামের আতিয়ার সানা লিখিত বক্তব্য পাঠ করে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, উপজেলার বামিয়া মৌজার ৫ দশমিক ৯৪ একর সরকারি ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমির মধ্যে ৫ দশমিক ৬১ একর জমি তিনি ও তাঁর আরও পাঁচ ভাইবোন বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ২০০৫ সাল থেকে নিয়মিত ভোগদখলে রয়েছেন। প্রতি বছর নির্ধারিত খাজনা পরিশোধ করে তারা ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন।

আতিয়ার সানার অভিযোগ, চলতি আমন মৌসুমে ঘুগরাকাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদ সানার মেয়ে রাবেয়া খাতুন দলবল নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন। প্রথম দফায় তারা ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে আতিয়ার সানারা নিয়ম অনুযায়ী জমিতে ধান রোপণ করেন। কিন্তু ধান কাটার মৌসুমে আবারও রাবেয়া খাতুন ও তার লোকজন হামলা চালিয়ে ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আতিয়ার সানার পরিবারের কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার পর আতিয়ার সানা কয়রা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। অপরদিকে ধান কাটতে ব্যর্থ হয়ে রাবেয়া খাতুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করেন। শুনানি শেষে আদালত বিতর্কিত জমির ধান কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত ভোগদখল নির্ধারণের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত হলেও সার্ভেয়ার বাবুল আকতার এক পক্ষের প্রভাবে গত ২১ জানুয়ারি আদালতে একপাক্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এতে প্রকৃত ভোগদখলদারদের বিষয়টি সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি করেন আতিয়ার সানা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাবেয়া খাতুন বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নামে ওই জমির কোনো ইজারা নেই এবং তারা কখনোই ওই জমির বৈধ দখলদার ছিলেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে রাবেয়া খাতুন জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং সেই মহলের চাপেই তদন্ত প্রতিবেদনে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বাবুল আকতার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন- আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত করে ধান চাষ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যা পেয়েছি, সেটির ভিত্তিতেই প্রতিবেদন দিয়েছি। প্রতিবেদনে কোথাও জমির মালিকানা নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।