কাউখালীতে প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর

কাউখালীতে মৎস্য উপকরণ বিতরণ

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা উপজেলায় প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য চাষীদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাছ চাষে আরও উৎসাহিত করতে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত মৎস্য চাষীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উপকারভোগীদের হাতে মৎস্য খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রান্তিক মৎস্য চাষী আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং মাছ চাষে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য চাষীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য চাষীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, মাছ চাষ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার মোট ছয়জন প্রান্তিক মৎস্য চাষীর মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে মাছের খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন ও গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এর আগেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মাঝে পোনা মাছ বিতরণ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “মৎস্য চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা চাই প্রান্তিক চাষীরা আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হোক।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগী কয়েকজন মৎস্য চাষী সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, মাছের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ধরনের সহায়তা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, শেখ রিয়াজ আহম্মেদ নাহিদ, সানমুন রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

কাউখালীতে প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন ও গাছের চারা বিতরণ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর

কাউখালীতে মৎস্য উপকরণ বিতরণ

প্রকাশ: ০৮:১৮:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা উপজেলায় প্রান্তিক মৎস্য চাষীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য চাষীদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাছ চাষে আরও উৎসাহিত করতে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এ সহায়তা প্রদান করা হয়। সোমবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত মৎস্য চাষীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উপকারভোগীদের হাতে মৎস্য খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা তুলে দেন। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতিবৃষ্টি ও বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রান্তিক মৎস্য চাষী আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং মাছ চাষে নতুন উদ্যম ফিরিয়ে আনতেই সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য চাষীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য চাষীরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও উৎপাদন ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। সরকার তাদের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, মাছ চাষ শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষ বাড়াতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলার মোট ছয়জন প্রান্তিক মৎস্য চাষীর মাঝে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে মাছের খাদ্য, অক্সিজেন সাপ্লাই মেশিন ও গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এর আগেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের মাঝে পোনা মাছ বিতরণ করা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “মৎস্য চাষকে লাভজনক ও টেকসই করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আমরা চাই প্রান্তিক চাষীরা আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হোক।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত উপকারভোগী কয়েকজন মৎস্য চাষী সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, মাছের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ধরনের সহায়তা তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

এসময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, শেখ রিয়াজ আহম্মেদ নাহিদ, সানমুন রেজাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে উপকারভোগীদের মাঝে উপকরণ বিতরণ করা হয় এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।