অস্ট্রেলিয়ায় আরও ৩০ হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজে জড়িত থাকতে পারেন সিরিয়াল ব্যাকপ্যাক কিলার

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ বার পঠিত হয়েছে

ইভান মিলাট ১৯৯৬ সালে সাতজন ব্যাকপ্যাকারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলানগ্লো স্টেট ফরেস্টে ওই সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আদালত তাঁকে পরপর সাতটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে সাম্প্রতিক তদন্তে তাঁর অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম জানিয়েছেন, পুলিশ এমন ১৭টি হত্যাকাণ্ড বা নিখোঁজের ঘটনা শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সঙ্গে মিলাটের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বাকিংহামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা মিলাটের সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও প্রায় ৩০টি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এটা সম্ভব হলে হয়তো এত মানুষকে প্রাণ দিতে হতো না।

মিলাটের বিরুদ্ধে সাত ব্যাকপ্যাকার হত্যার মামলায় প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন সাবেক প্রসিকিউটর মার্ক টেডেসকি কেসি। তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিলাট আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর গভীর সন্দেহ ছিল। তবে তাঁকে অভিযুক্ত বা বিচারের মুখোমুখি করার মতো শক্ত প্রমাণ তিনি কখনো পাননি।

এর মধ্যে ১৮ বছর বয়সী পিটার ডেভিড লেচারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত। ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে হিচহাইকিং করার সময় নিখোঁজ হন লেচার। দুই মাস পর জেনোলান স্টেট ফরেস্টে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস ইলিংওয়ার্থ তদন্তে জানান, মিলাট এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে পুলিশ তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত ছিল।

এ ঘটনায় একটি প্রমাণপত্র প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলা এগোয়নি বলে তদন্তে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেই নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তে আরও জানা যায়, ১৯৭১ সালে ধর্ষণ ও দুটি সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগেও মিলাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের মামলায় এক সাক্ষীর অস্পষ্ট সাক্ষ্যের পর তিনি খালাস পেয়ে যান। ডাকাতির অভিযোগ থেকেও খালাস পান তিনি; একই মামলার অন্য তিন আসামিকে ১২,১৬ ও ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার আদালত-নথিও বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেরেমি বাকিংহাম পুরোনো মামলাগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় কমিশন ও বিশেষ পুলিশ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাঁরা আটক হন।

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে প্রথমবারের মতো দুটি ক্যাফে চালু করায় মার্কিন কফি চেইন স্টারবাকসের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এক আইনপ্রণেতা। তাঁর অভিযোগ, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যেও সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে স্টারবাকস ওই কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিচ্ছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সিরাজগঞ্জে নৌকাবাইচ প্রতিযোগীদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ২২

অস্ট্রেলিয়ায় আরও ৩০ হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজে জড়িত থাকতে পারেন সিরিয়াল ব্যাকপ্যাক কিলার

প্রকাশ: ১২:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

ইভান মিলাট ১৯৯৬ সালে সাতজন ব্যাকপ্যাকারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ সালের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলানগ্লো স্টেট ফরেস্টে ওই সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আদালত তাঁকে পরপর সাতটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০১৯ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ৭৪ বছর বয়সে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তবে সাম্প্রতিক তদন্তে তাঁর অপরাধের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের চেয়ারম্যান জেরেমি বাকিংহাম জানিয়েছেন, পুলিশ এমন ১৭টি হত্যাকাণ্ড বা নিখোঁজের ঘটনা শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সঙ্গে মিলাটের সম্ভাব্য যোগসূত্র রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৪টি নিখোঁজের ঘটনাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

বাকিংহামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা মিলাটের সঙ্গে যুক্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও প্রায় ৩০টি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালেই মিলাটকে দীর্ঘ সময়ের জন্য কারাগারে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এটা সম্ভব হলে হয়তো এত মানুষকে প্রাণ দিতে হতো না।

মিলাটের বিরুদ্ধে সাত ব্যাকপ্যাকার হত্যার মামলায় প্রধান কৌঁসুলি ছিলেন সাবেক প্রসিকিউটর মার্ক টেডেসকি কেসি। তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মিলাট আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে তাঁর গভীর সন্দেহ ছিল। তবে তাঁকে অভিযুক্ত বা বিচারের মুখোমুখি করার মতো শক্ত প্রমাণ তিনি কখনো পাননি।

এর মধ্যে ১৮ বছর বয়সী পিটার ডেভিড লেচারের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচিত। ১৯৮৭ সালের নভেম্বরে হিচহাইকিং করার সময় নিখোঁজ হন লেচার। দুই মাস পর জেনোলান স্টেট ফরেস্টে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়। সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ক্রিস ইলিংওয়ার্থ তদন্তে জানান, মিলাট এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে পুলিশ তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত ছিল।

এ ঘটনায় একটি প্রমাণপত্র প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় মামলা এগোয়নি বলে তদন্তে জানানো হয়েছে। বর্তমানে সেই নথিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

তদন্তে আরও জানা যায়, ১৯৭১ সালে ধর্ষণ ও দুটি সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগেও মিলাটের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের মামলায় এক সাক্ষীর অস্পষ্ট সাক্ষ্যের পর তিনি খালাস পেয়ে যান। ডাকাতির অভিযোগ থেকেও খালাস পান তিনি; একই মামলার অন্য তিন আসামিকে ১২,১৬ ও ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ওই মামলার আদালত-নথিও বর্তমানে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেরেমি বাকিংহাম পুরোনো মামলাগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় কমিশন ও বিশেষ পুলিশ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র কয়েকজন নেতা দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাঁরা আটক হন।

জার্মানির বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (বিএনডি) সাবেক প্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জার্মানির ইতিহাসে অন্যতম গুরুতর গুপ্তচর কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে ঘটনাটিকে।

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে প্রথমবারের মতো দুটি ক্যাফে চালু করায় মার্কিন কফি চেইন স্টারবাকসের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এক আইনপ্রণেতা। তাঁর অভিযোগ, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা সরকারের কথিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যেও সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে স্টারবাকস ওই কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিচ্ছে।