এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ঝিনাইদহের এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে বাঁচালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

স্বপ্ন ভাঙেনি মেধাবী ছাত্রীর, ইউএনওর হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিয়ে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৯:২২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ২১১ বার পঠিত হয়েছে

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এক মেধাবী ছাত্রী মাত্র এক সপ্তাহ আগে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে অভাবের তাড়নায় তার পরিবার মেয়েটিকে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন।

শুক্রবার ১৮ জুলাই রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপের সেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। তার এ উদ্যোগে ছাত্রীর স্বপ্ন আবারও আলোর মুখ দেখেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে ওই ছাত্রীই ছিল ভাইবোন সকলের বড়। বাবার পেশা কাঠমিস্ত্রি, দিনে কাজ পেলে আয় হয় প্রায় ৫০০ টাকা, না পেলে নেই। মাস শেষে গড়ে ৯-১০ হাজার টাকার বেশি হাতে থাকে না। মাত্র চার শতাংশ জমিতে টিনের ঘরে পাঁচ সদস্যের সংসার কোনোভাবেই টিকে রয়েছে।

অভাবের কারণে বাবা-মা মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারছিলেন না। এমন সময় এক ঘটক ছেলে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তাতেই রাজি হয়ে যায় পরিবার।

ছাত্রীর মা বলেন, “কীভাবে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব বুঝতে পারছিলাম না। যখন বিয়ের প্রস্তাব আসে, তখন আমরা ভেবেছিলাম এটাই হয়তো ভালো হবে।”

কিন্তু ইউএনও হোসনে আরা জানান, “ছাত্রীটির বয়স এখনো বিয়ের জন্যই যথেষ্ট নয়। সে খুব মেধাবী, ঢাকায় গিয়ে পড়তে চায়। তার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, এজন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করেছি এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি মেয়েটার।”

মেয়েটি জানায়, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। এরপরে সরকারি চাকরি নিয়ে বাবা-মাকে স্বচ্ছলতা দিতে চাই। কিন্তু এই পথটা একা পেরোনো কঠিনতম, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন আমার।”

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এই বছর মোট ১৫,৪১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে মাত্র ১,৩৭৪ জন এবং ছাত্রী ১,১৩০ জন। এই বিরল সংখ্যার তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ঝিনাইদহের এই ছাত্রীটি।

তার বাবা বলেন, “অভাবের কারণে ওকে একসময় মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সে নিজেই স্কুলে ফিরে যায়। অঙ্ক ও ইংরেজিতে টিউশনের প্রয়োজন ছিল, আমি কষ্ট করে হলেও টাকা জুগিয়েছি।”

এখন মেয়েটির একমাত্র চাওয়া, যেন সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। ইউএনও হোসনে আরা বলেন, “সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাওয়া গেলে মেয়েটি অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবে। আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

একজন প্রশাসক আর একটি পরিবারের সচেতনতা বদলে দিতে পারে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ এ ঘটনাই তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এখন দরকার সমাজেরই সকলের একটু সহযোগিতা, যাতে এই মেধাবী ছাত্রী তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে উঠতে পারে।

এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ঝিনাইদহের এক ছাত্রীকে বাল্যবিয়ের হাত থেকে বাঁচালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

স্বপ্ন ভাঙেনি মেধাবী ছাত্রীর, ইউএনওর হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিয়ে

প্রকাশ: ০৯:২২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এক মেধাবী ছাত্রী মাত্র এক সপ্তাহ আগে এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তবে অভাবের তাড়নায় তার পরিবার মেয়েটিকে বিয়ের আয়োজন করেছিলেন।

শুক্রবার ১৮ জুলাই রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরা তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপের সেই বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দেন। তার এ উদ্যোগে ছাত্রীর স্বপ্ন আবারও আলোর মুখ দেখেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন ভাইবোনের মধ্যে ওই ছাত্রীই ছিল ভাইবোন সকলের বড়। বাবার পেশা কাঠমিস্ত্রি, দিনে কাজ পেলে আয় হয় প্রায় ৫০০ টাকা, না পেলে নেই। মাস শেষে গড়ে ৯-১০ হাজার টাকার বেশি হাতে থাকে না। মাত্র চার শতাংশ জমিতে টিনের ঘরে পাঁচ সদস্যের সংসার কোনোভাবেই টিকে রয়েছে।

অভাবের কারণে বাবা-মা মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে পারছিলেন না। এমন সময় এক ঘটক ছেলে দেখে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তাতেই রাজি হয়ে যায় পরিবার।

ছাত্রীর মা বলেন, “কীভাবে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব বুঝতে পারছিলাম না। যখন বিয়ের প্রস্তাব আসে, তখন আমরা ভেবেছিলাম এটাই হয়তো ভালো হবে।”

কিন্তু ইউএনও হোসনে আরা জানান, “ছাত্রীটির বয়স এখনো বিয়ের জন্যই যথেষ্ট নয়। সে খুব মেধাবী, ঢাকায় গিয়ে পড়তে চায়। তার স্বপ্ন যেন থেমে না যায়, এজন্য আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করেছি এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি মেয়েটার।”

মেয়েটি জানায়, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। এরপরে সরকারি চাকরি নিয়ে বাবা-মাকে স্বচ্ছলতা দিতে চাই। কিন্তু এই পথটা একা পেরোনো কঠিনতম, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন আমার।”

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এই বছর মোট ১৫,৪১০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে মানবিক বিভাগে মাত্র ১,৩৭৪ জন এবং ছাত্রী ১,১৩০ জন। এই বিরল সংখ্যার তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন ঝিনাইদহের এই ছাত্রীটি।

তার বাবা বলেন, “অভাবের কারণে ওকে একসময় মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু সে নিজেই স্কুলে ফিরে যায়। অঙ্ক ও ইংরেজিতে টিউশনের প্রয়োজন ছিল, আমি কষ্ট করে হলেও টাকা জুগিয়েছি।”

এখন মেয়েটির একমাত্র চাওয়া, যেন সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। ইউএনও হোসনে আরা বলেন, “সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাওয়া গেলে মেয়েটি অবশ্যই তার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবে। আমরা পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

একজন প্রশাসক আর একটি পরিবারের সচেতনতা বদলে দিতে পারে একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ এ ঘটনাই তার উজ্জ্বল প্রমাণ। এখন দরকার সমাজেরই সকলের একটু সহযোগিতা, যাতে এই মেধাবী ছাত্রী তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে ও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে উঠতে পারে।