নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মরদেহটি বস্তার ভেতরে টুকরো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ ও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ জড়ো হন। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দী একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহটি কলির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাঁদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, ‘গত বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এর পর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল—তা জানতে চাই।’

তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি, খুব শিগগির হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত, তা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।’

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে নূর আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই অনিকের তেমন সাড়াশব্দ বা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে বলেন।

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন কামরুন্নাহার মনি। তবে তাঁর এই মুক্তির দিনে সবার নজর ছিল তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীর দিকে, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠার পুরোটাই কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর।

জনপ্রিয় টার্গেট

বানিয়ে ফেলুন ইন্দোনেশিয়ান টক-মিষ্টি সালাদ

নিখোঁজের সাত দিন পর ডোবায় মিলল শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ

প্রকাশ: ১০:৩৯:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, মরদেহটি বস্তার ভেতরে টুকরো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর কারণ ও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার বহু মানুষ জড়ো হন। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে শিশুটির পরা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুটির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালানো হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন নিহতের স্বজন ও সহপাঠীরা।

আজ বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দী একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। স্বজনরা মরদেহটি কলির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁরা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। তাঁদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা।

শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, ‘গত বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আমার মেয়ে নিখোঁজ হয়। এর পর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল—তা জানতে চাই।’

তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। আশা করছি, খুব শিগগির হত্যার রহস্য ও কারা জড়িত, তা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে।’

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মাগুরা জেলা কারাগারের জেল সুপার শেখ মো. মহিউদ্দীন হায়দার জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর কারাগারে নূর আলম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) থেকেই অনিকের তেমন সাড়াশব্দ বা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোন না পেয়ে মেসে তার রুমে গিয়ে দেখতে বলেন।

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন কামরুন্নাহার মনি। তবে তাঁর এই মুক্তির দিনে সবার নজর ছিল তাঁর সাত বছর বয়সী মেয়ে মোবাশ্বেরা খানম রাথীর দিকে, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠার পুরোটাই কেটেছে কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর।