নতুন পানিতে বদলে গেছে পদ্মার পাড়, ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাটের পদ্মা নদীর তীর যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো আনন্দমেলায়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পদ্মার পাড়ে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সূর্যাস্তের সময় নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি আর লালচে আকাশের মায়াবী দৃশ্য উপভোগে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।

নদীতে পানি বাড়ায় দীর্ঘদিন পর পুরোদমে শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল। ঘাটগুলো মুখর হয়ে উঠেছে মাঝিদের হাঁকডাকে। দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ এখন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানো। তরুণদের কেউ কেউ দল বেঁধে নৌকায় আনন্দ-উল্লাস করছেন। আবার কেউ নদীর শান্ত ঢেউয়ের দোলায় খুঁজে নিচ্ছেন প্রশান্তি।

পদ্মায় নতুন পানি আসায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জেলেদের মধ্যেও। নদীতে জাল ফেলে চলছে মাছ ধরার ব্যস্ততা। বিভিন্ন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী মাছের বাজার। নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছ কিনতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। চোখের সামনে নদী থেকে তুলে আনা জীবন্ত মাছ দরদাম করে কেনার মধ্যেও আলাদা আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

নদীপাড়ে ঘুরতে আসা শাহিন হোসেন বলেন, ‘ঘুরতে এসে নদী থেকে তোলা টাটকা মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তাই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীপাড়ের এসব অস্থায়ী মাছের হাটে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি ও আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের সমাগমকে কেন্দ্র করে নদীর বাঁধ ও তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী গ্রামীণ বাজারও। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে গরম জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, পেঁয়াজু, মরিচ ও বেগুন ভর্তা দিয়ে হাতের রুটি এবং হালিম। শিশুদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে খেলনা, বেলুন ও বাঁশির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোর আলো আর মানুষের কোলাহলে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির বিকেলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনই সরকারি চাকরি করি। কর্মব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য তেমন সময় পাওয়া যায় না। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাই একটু সময় বের করে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো লাগছে।’

জামাল হোসেন নামের এক জেলে বলেন, ‘বিকেলের দিকে নদীর পাড়ে মানুষের সমাগম বেশি হয়। শুক্রবারে আরও বেশি মানুষ আসে। অনেকে নৌকায় ঘোরেন, আবার নদীর মাছও কিনে নিয়ে যান। মানুষের আসায় আমাদেরও বেচাকেনা ভালো হয়।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকা অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। নদীর পাড়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা, জমে ওঠে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা ও কেনাবেচা। এতে মাঝি, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরে আসে।

বাগেরহাটের চিতলমারীতে অবৈধ ড্রেজার ও রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের জরিমানার পরেও উপজেলার ১০ থেকে ১২ জন চিহ্নিত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভয়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষেরা। গত ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা। এর মধ্যে ১২টি পরিবারের অন্তত সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি নদীতে তলিয়ে গেছে এবং কয়েকটি ঘরের আংশিক নদীতে চলে গেছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

নতুন পানিতে বদলে গেছে পদ্মার পাড়, ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়

প্রকাশ: ০৮:৫২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফিলিপনগর আবেদের ঘাটের পদ্মা নদীর তীর যেন পরিণত হয়েছে এক টুকরো আনন্দমেলায়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পদ্মার পাড়ে আসতে শুরু করেন দর্শনার্থীরা। সূর্যাস্তের সময় নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি আর লালচে আকাশের মায়াবী দৃশ্য উপভোগে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন তারা।

নদীতে পানি বাড়ায় দীর্ঘদিন পর পুরোদমে শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল। ঘাটগুলো মুখর হয়ে উঠেছে মাঝিদের হাঁকডাকে। দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ এখন ইঞ্জিনচালিত নৌকায় নদীর বুক চিরে ঘুরে বেড়ানো। তরুণদের কেউ কেউ দল বেঁধে নৌকায় আনন্দ-উল্লাস করছেন। আবার কেউ নদীর শান্ত ঢেউয়ের দোলায় খুঁজে নিচ্ছেন প্রশান্তি।

পদ্মায় নতুন পানি আসায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জেলেদের মধ্যেও। নদীতে জাল ফেলে চলছে মাছ ধরার ব্যস্ততা। বিভিন্ন ঘাটে বসেছে অস্থায়ী মাছের বাজার। নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছ কিনতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। চোখের সামনে নদী থেকে তুলে আনা জীবন্ত মাছ দরদাম করে কেনার মধ্যেও আলাদা আনন্দ খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

নদীপাড়ে ঘুরতে আসা শাহিন হোসেন বলেন, ‘ঘুরতে এসে নদী থেকে তোলা টাটকা মাছ দেখে লোভ সামলাতে পারিনি। তাই মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছি।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নদীপাড়ের এসব অস্থায়ী মাছের হাটে ২০০ টাকা থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতি ও আকারের মাছ বিক্রি হচ্ছে।

দর্শনার্থীদের সমাগমকে কেন্দ্র করে নদীর বাঁধ ও তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী গ্রামীণ বাজারও। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে গরম জিলাপি, চটপটি, ফুচকা, পেঁয়াজু, মরিচ ও বেগুন ভর্তা দিয়ে হাতের রুটি এবং হালিম। শিশুদের আকৃষ্ট করতে রয়েছে খেলনা, বেলুন ও বাঁশির দোকান। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দোকানগুলোর আলো আর মানুষের কোলাহলে নদীপাড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

পদ্মাপাড়ে ঘুরতে আসা জাহিদ হোসেন স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সাপ্তাহিক ছুটির বিকেলে নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজনই সরকারি চাকরি করি। কর্মব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য তেমন সময় পাওয়া যায় না। সাপ্তাহিক ছুটিতে তাই একটু সময় বের করে নদীর পাড়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুব ভালো লাগছে।’

জামাল হোসেন নামের এক জেলে বলেন, ‘বিকেলের দিকে নদীর পাড়ে মানুষের সমাগম বেশি হয়। শুক্রবারে আরও বেশি মানুষ আসে। অনেকে নৌকায় ঘোরেন, আবার নদীর মাছও কিনে নিয়ে যান। মানুষের আসায় আমাদেরও বেচাকেনা ভালো হয়।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি কমে গেলে নদীতীরবর্তী এলাকা অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে নতুন পানি আসার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় পুরো পরিবেশ। নদীর পাড়ে বাড়ে মানুষের আনাগোনা, জমে ওঠে নৌকা চলাচল, মাছ ধরা ও কেনাবেচা। এতে মাঝি, জেলে ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগারেও স্বস্তি ফিরে আসে।

বাগেরহাটের চিতলমারীতে অবৈধ ড্রেজার ও রুট পারমিটবিহীন বাল্কহেড দিয়ে ভূগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মহোৎসব চলছে। প্রশাসনের জরিমানার পরেও উপজেলার ১০ থেকে ১২ জন চিহ্নিত ড্রেজার ও বাল্কহেডের মালিক ভূগর্ভ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভয়াল গ্রাসে প্রতিনিয়ত ঘরবাড়ি হারাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষেরা। গত ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে ৮৩টি পরিবারের বসতভিটা। এর মধ্যে ১২টি পরিবারের অন্তত সাতটি টিনের ঘর পুরোপুরি নদীতে তলিয়ে গেছে এবং কয়েকটি ঘরের আংশিক নদীতে চলে গেছে।