টানা অবরোধে স্থবির খাগড়াছড়ি, পর্যটন খাতে ধস

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫ বার পঠিত হয়েছে

আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কোকনাথ ত্রিপুরা বলেন, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি পর্যটক আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০-তে। তাঁদের অধিকাংশই স্থানীয় পর্যটক।

খাগড়াছড়ি শহরের অরণ্য বিলাস হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. সাগর জানান, সাজেক সড়কে অবরোধ শুরুর পর থেকেই তাঁদের হোটেলের বুকিং কমে গেছে। বর্তমানে কোনো বুকিং নেই।

পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুশ চাকমা জানান, খাগড়াছড়িতে পিকআপ, জিপ, সাফারি গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র মিলিয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০টি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে। টানা অবরোধের কারণে এসব যানবাহন বসে আছে। পর্যটক না থাকায় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকার মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জিয়া বলেন, সাজেক বন্ধ হওয়ার পর প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে আছে। হোটেলে অতিথি নেই বললেই চলে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কর্মচারী মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকের অভাবে পার্কের জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং বন্ধ রয়েছে। সাজেক বন্ধ থাকায় ১০ দিন ধরে কোনো পর্যটক আসছেন না।

খাগড়াছড়ি শহরের জুমলাইন মার্কেটের মালিক রিটন চাকমা বলেন, সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ওপর তাঁদের ব্যবসা নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁদের নিজস্ব টেক্সটাইলের পোশাকের চাহিদা কম। সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়িতে পর্যটক নেই বললেই চলে। এক সপ্তাহ ধরে কোনো বেচাকেনা নেই। দোকান খুলে সারা দিন বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপসহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় হর্টিকালচার পার্কে পর্যটক আসছেন না। পার্কের বিভিন্ন দায়িত্বে ২১ জন কর্মী কাজ করেন। পর্যটক না থাকায় তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাজেকে ফের সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

সাজেকে ফের সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাঙামাটির সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দান উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক পক্ষ অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিলেও একই দিনে পাল্টা ১২ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পালন করছে অন্য একটি সংগঠন।

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলি

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলি

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএসের (সন্তু লারমা) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাটিতে। আজ শনিবার দুপুরে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে।

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবরদান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবরদান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে উদ্‌যাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবরদান। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার শহরের য়ংড বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী

জনপ্রিয় টার্গেট

ভোরে দোকানে বসে গল্প করছিলেন তিন বন্ধু, ড্রাম ট্রাকের চাপায় নিহত ২

টানা অবরোধে স্থবির খাগড়াছড়ি, পর্যটন খাতে ধস

প্রকাশ: ১১:৫৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কোকনাথ ত্রিপুরা বলেন, আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি পর্যটক আসতেন। বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০-তে। তাঁদের অধিকাংশই স্থানীয় পর্যটক।

খাগড়াছড়ি শহরের অরণ্য বিলাস হোটেলের ব্যবস্থাপক মো. সাগর জানান, সাজেক সড়কে অবরোধ শুরুর পর থেকেই তাঁদের হোটেলের বুকিং কমে গেছে। বর্তমানে কোনো বুকিং নেই।

পার্বত্য যানবাহন মালিক সমিতির সভাপতি আয়ুশ চাকমা জানান, খাগড়াছড়িতে পিকআপ, জিপ, সাফারি গাড়ি, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্র মিলিয়ে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০টি যানবাহন সাজেকে চলাচল করে। টানা অবরোধের কারণে এসব যানবাহন বসে আছে। পর্যটক না থাকায় চালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকার মনটানা রেস্তোরাঁর মালিক মো. জিয়া বলেন, সাজেক বন্ধ হওয়ার পর প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হবে।

খাগড়াছড়ির অন্যতম হোটেল গাইরিংয়ের ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, সাজেক বন্ধ থাকায় তাঁদের হোটেলের অর্ধেকের বেশি কক্ষ খালি পড়ে আছে। হোটেলে অতিথি নেই বললেই চলে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের কর্মচারী মনতোষ ত্রিপুরা বলেন, পর্যটকের অভাবে পার্কের জিপ লাইন ও জায়ান্ট সুইং বন্ধ রয়েছে। সাজেক বন্ধ থাকায় ১০ দিন ধরে কোনো পর্যটক আসছেন না।

খাগড়াছড়ি শহরের জুমলাইন মার্কেটের মালিক রিটন চাকমা বলেন, সাজেকে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের ওপর তাঁদের ব্যবসা নির্ভরশীল। স্থানীয়দের মধ্যে তাঁদের নিজস্ব টেক্সটাইলের পোশাকের চাহিদা কম। সাজেক বন্ধ থাকায় খাগড়াছড়িতে পর্যটক নেই বললেই চলে। এক সপ্তাহ ধরে কোনো বেচাকেনা নেই। দোকান খুলে সারা দিন বসে থাকলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কের উপসহকারী কর্মকর্তা কান্তি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ভ্যালি বন্ধ থাকায় হর্টিকালচার পার্কে পর্যটক আসছেন না। পার্কের বিভিন্ন দায়িত্বে ২১ জন কর্মী কাজ করেন। পর্যটক না থাকায় তাঁদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সাজেকে ফের সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

সাজেকে ফের সকাল-সন্ধ্যা অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

রাঙামাটির সাজেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দান উদ্‌যাপন উপলক্ষে এক পক্ষ অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিলেও একই দিনে পাল্টা ১২ ঘণ্টার সড়ক অবরোধ পালন করছে অন্য একটি সংগঠন।

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলি

সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের গোলাগুলি

রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএসের (সন্তু লারমা) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকাটিতে। আজ শনিবার দুপুরে সাজেক ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবুনিয়া এলাকায় গোলাগুলির এই ঘটনা ঘটে।

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবরদান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবরদান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে উদ্‌যাপিত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবরদান। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার শহরের য়ংড বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী