আহত মো. শফিকুল ইসলাম ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, আজ দুপুরে স্থানীয় ইমরান খন্দকারের নেতৃত্বে মনোজ বিশ্বাস, জাকির খান, সুমন খান, সুমন আইচসহ ১২-১৪ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় মন্দির ভাঙা ও মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
শফিকুলের ভাই সিদ্দিকুর রহমান এগিয়ে এলে তাঁকেও পেটানো হয়। ভাইকে রক্ষা করতে গেলে শফিকুলের ওপর আবারও হামলা চালানো হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ হামলা সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের টুটুল আইচের নির্দেশে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টুটুল আইচ। তিনি বলেন, তাঁদের শীতলা মন্দিরের কাজে ব্যবহৃত একটি জমি ৫ আগস্টের পর শফিকুল দখলে নিয়েছেন। এ নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ রয়েছে। তবে আজ দুপুরে হামলার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ইমরান খন্দকার ও শফিকুলের মধ্যে একটি সুপারি বাগান নিয়ে বিরোধের কথা শুনেছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলেও জেনেছেন।
অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমরান খন্দকারও। তাঁর দাবি, সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের একটি পুকুরসহ ২৭ শতাংশ জমির সুপারি বাগান তিনি তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। আজ বাগান থেকে সুপারি পাড়তে গেলে শফিকুল ও তাঁর ভাই সিদ্দিকসহ কয়েকজন এসে সুপারি নিয়ে যান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা হামলা করেন। আত্মরক্ষার্থে তাঁরাও দু-চারটি কিল-ঘুষি দিয়েছেন বলে দাবি করেন ইমরান।
নেছারাবাদ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রশিদ বলেন, শফিকুল সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তিনি শুনেছেন, আজ দুপুরে ইমরান, মনোজ, জাকিরসহ কয়েকজন মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ তুলে শফিকুলের বাড়িতে ঢুকে হামলা করেছেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। একটি পক্ষ থানায় এসেছিল। তাদের আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 




















