আজ শুক্রবার জামালগঞ্জ বাজারের গোশতহাটিতে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সালিসে ওই কসাইকে বাজারে দুই মাস মাংস বিক্রি করতে নিষেধ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাংস ব্যবসায়ী মোস্তেন একটি গাভি জবাই করেন। পরে পেট কাটার সময় দেখা যায়, গাভিটি প্রায় আট মাসের গর্ভবতী। পেট থেকে একটি মৃত অপরিণত বাছুর বেরিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, বাছুরটি গোশতহাটির পাশের একটি ঝোপে ফেলে রেখে গাভির মাংস বিক্রি করা হচ্ছিল।
বিষয়টি জানাজানি হলে ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে কসাই মোস্তেনকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের প্রতিবাদের মুখে মাংস বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় গর্ভবতী গাভিটি জবাই করা হয়েছে। তাঁরা এ ঘটনাকে অমানবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে কসাই মোস্তেন বলেন, ‘গাভিটি কিনে এনে জবাই করেছিলাম। গাভিটি গর্ভবতী ছিল, তা আগে জানতাম না। জবাইয়ের পর এর পেট থেকে মৃত বাছুর বের হয়।’
পরে জামালগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ও রুকিন্দীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুর ইসলাম ছোয়াতের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নেতারা বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
আমিনুর ইসলাম বলেন, গাভি জবাইয়ের পর পেট থেকে মৃত বাছুর বের হলে কসাই সেটি গোপনে ফেলে রেখে মাংস বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে বাজারে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, এ বিষয়ে থানা-পুলিশকে কেউ কিছু জানাননি। তাই ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁর জানা নেই।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক-উর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এর মধ্যে বিএনপি নেতা আমিনুর ইসলাম আমাকে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগের কথা জানান। ওই কসাইকে দুই মাস জামালগঞ্জ বাজারে মাংস বিক্রি করতে দেওয়া হবে না বলে আমাকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো গরু জবাই করতে দেওয়া হবে না বলেও স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

দৈনিক টার্গেট 




















