শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চীনা ২০২৬ তালিকায় শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছেন ৫৬ বছর বয়সী ঝৌ। গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন হ্যানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান।
১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশে জন্ম ঝৌয়ের। কিশোর বয়সেই স্কুল ছেড়ে পাড়ি জমান শেনজেনে। সেখানে একটি ঘড়ির কাচ তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন। দৈনিক মজুরি ছিল মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানার কাজের মধ্যেই কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নকশা তৈরির নানা কৌশল আয়ত্ত করেন তিনি।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের একটি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্মশালা প্রতিষ্ঠা করেন ঝৌ। পরে প্রতিষ্ঠা করেন লেন্স টেকনোলজি। স্মার্টফোনের পর্দার জন্য কাচের কভার তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের কভার সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার প্রায় অর্ধেক রাজস্ব এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে।
২০১৫ সালের মার্চে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ঝৌয়ের সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ওই বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর স্বীকৃতি পান তিনি।
প্রযুক্তি খাতে ঝৌয়ের অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয় গত ১৪ মে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে।
সম্প্রতি পুজিয়াং ইনোভেশন ফোরাম ২০২৬-এ ঝৌ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধু কম্পিউটিং সক্ষমতা ও অ্যালগরিদম নয়, পুরো প্রযুক্তিব্যবস্থায় ধারাবাহিক উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
হুরুনের তালিকা অনুযায়ী, চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর ৬৫ শতাংশই স্বপ্রতিষ্ঠিত উদ্যোক্তা। তাঁদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।

দৈনিক টার্গেট 























