এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৪:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • ৬ বার পঠিত হয়েছে

• শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত হওয়ায় ফল খারাপ

• জাতীয়করণের পর শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর ৯টি উপজেলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার এইচএসসিতে ভালো ফল করতে পারেননি। ছয়টি কলেজের ফল শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে কম। তবে তিনটি কলেজ তুলনামূলক ভালো করেছে। ২০১৮ সালে এই ৯টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়।

গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬। শহরের কয়েকটি নামকরা সরকারি কলেজ ভালো ফল করলেও গ্রামের কলেজগুলোর অবস্থা করুণ। একই অবস্থা পুরোনো কিংবা ‘ভালো’ হিসেবে জাতীয়করণ করা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোর।

গড় পাসের হার ৪১.১০: রাজশাহী বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার ৯ উপজেলার সরকারি কলেজের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে। এই কলেজ থেকে ২০৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন। জিপিএ-৫ পাননি কোনো শিক্ষার্থী।

এরপর ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ পাসের হার দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে। কলেজটি থেকে ১৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ৩২ জন। এই কলেজেরও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৩৫ জন। পাস করেছেন ১৫৪ জন। ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এই কলেজের ৫৮৪ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করেছেন ১৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন।

পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই কলেজ থেকে ৪১৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১৭৫ জন। তিনজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন জেলার চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এখানে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে বেশি। এই কলেজ থেকে ৩৮৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬১ জন পাস করেছেন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী।

মোহনপুর সরকারি কলেজের ফলও তুলনামূলক ভালো। এখানে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ। কলেজের ৫০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।

এ ছাড়া পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজ কিছুটা ভালো করেছে। এখানে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৪৫১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ২৫৭ জন। ৫ জন পেয়েছেন জিপিএ-৫।

তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কলেজটি থেকে ৪১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এটা কি খুশি হওয়ার মতো রেজাল্ট হয়েছে? আমরা খুশি হতে পারিনি। থাকে। আগামীতে যাতে ভালো হয়, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

অনুপস্থিতিকে দুষছেন শিক্ষকেরা: পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত হওয়াকে দুষছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাঁরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা যায় না। একাদশে শ্রেণিতে শিক্ষার্থী কিছুদিন ক্লাস করে। দ্বিতীয় বর্ষে উঠেই শিক্ষার্থীরা কোচিং-প্রাইভেটের দিকে বেশি মনোযোগী হয়। তারা ক্লাস করতে চায় না। অভিভাবকদের জানিয়েও লাভ হয় না।

শিক্ষকসংকট: বিগত সরকার ২০১৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ জাতীয়করণ করে। তখন এসব কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এই আট বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। কিন্তু নতুন শিক্ষকের পদায়ন হয়নি। ফলে কলেজগুলোতে শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে না।

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

‘তিন মাস আগেই তো হামার ছাওয়াল অনেক আশা করে, সমিতত থ্যাকে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ করে বিদেশ গেছিল। বিদেশ যাইয়ে কামও পাইছিল। কিন্তু সর্বনাশা আগুনে হামার সব শ্যাষ হয়ে গেল। বুকের ধনটা হামাক রেখে চলে গ্যালো। কিসের আশায়, ক্যামন করে হামরা বাঁচমু?

বরেন্দ্র অঞ্চল রক্ষায় আট দফা অঙ্গীকার

বরেন্দ্র অঞ্চল রক্ষায় আট দফা অঙ্গীকার

বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পানিসংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আট দফা অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব…

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে খাতায় লেখা সেই পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে খাতায় লেখা সেই পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্রে দ্বিতীয়বার লেখার সুযোগ পাওয়া রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে তাঁর কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

জনপ্রিয় টার্গেট

এইচএসসির ফল: গ্রামের অধিকাংশ কলেজ পিছিয়ে

প্রকাশ: ০৪:১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

• শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা অনিয়মিত হওয়ায় ফল খারাপ

• জাতীয়করণের পর শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর ৯টি উপজেলা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার এইচএসসিতে ভালো ফল করতে পারেননি। ছয়টি কলেজের ফল শিক্ষা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে কম। তবে তিনটি কলেজ তুলনামূলক ভালো করেছে। ২০১৮ সালে এই ৯টি কলেজ জাতীয়করণ করা হয়।

গত শনিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬। শহরের কয়েকটি নামকরা সরকারি কলেজ ভালো ফল করলেও গ্রামের কলেজগুলোর অবস্থা করুণ। একই অবস্থা পুরোনো কিংবা ‘ভালো’ হিসেবে জাতীয়করণ করা উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোর।

গড় পাসের হার ৪১.১০: রাজশাহী বোর্ডে গড় পাসের হার ৪৫ দশমিক ৬ শতাংশ হলেও জেলার ৯ উপজেলার সরকারি কলেজের গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ১০ শতাংশ। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ পাসের হার গোদাগাড়ী সরকারি কলেজে। এই কলেজ থেকে ২০৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন মাত্র ৪২ জন। জিপিএ-৫ পাননি কোনো শিক্ষার্থী।

এরপর ২০ দশমিক ৫১ শতাংশ পাসের হার দুর্গাপুরের দাউকান্দি সরকারি কলেজে। কলেজটি থেকে ১৫৬ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ৩২ জন। এই কলেজেরও কেউ জিপিএ-৫ পাননি।

বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৪৩৫ জন। পাস করেছেন ১৫৪ জন। ৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাগমারার ভবানীগঞ্জ সরকারি কলেজে পাসের হার ৩৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। এই কলেজের ৫৮৪ জন পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করেছেন ১৫৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ জন।

পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি কলেজে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৩০ শতাংশ। এই কলেজ থেকে ৪১৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১৭৫ জন। তিনজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।

তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন জেলার চারঘাটের সরদহ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। এখানে পাসের হার ৬৮ দশমিক ১৫ শতাংশ, যা বোর্ডের গড় পাসের হারের চেয়ে বেশি। এই কলেজ থেকে ৩৮৩ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৬১ জন পাস করেছেন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৩ জন শিক্ষার্থী।

মোহনপুর সরকারি কলেজের ফলও তুলনামূলক ভালো। এখানে পাসের হার ৬১ দশমিক ৬০ শতাংশ। কলেজের ৫০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৩০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ জন।

এ ছাড়া পুঠিয়ার বানেশ্বর সরকারি কলেজ কিছুটা ভালো করেছে। এখানে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ৪৫১ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ২৫৭ জন। ৫ জন পেয়েছেন জিপিএ-৫।

তানোরে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে পাসের হার ২৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। কলেজটি থেকে ৪১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১০১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫ জন। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এটা কি খুশি হওয়ার মতো রেজাল্ট হয়েছে? আমরা খুশি হতে পারিনি। থাকে। আগামীতে যাতে ভালো হয়, আমরা সেই চেষ্টা করব।’

অনুপস্থিতিকে দুষছেন শিক্ষকেরা: পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত হওয়াকে দুষছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা। তাঁরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা যায় না। একাদশে শ্রেণিতে শিক্ষার্থী কিছুদিন ক্লাস করে। দ্বিতীয় বর্ষে উঠেই শিক্ষার্থীরা কোচিং-প্রাইভেটের দিকে বেশি মনোযোগী হয়। তারা ক্লাস করতে চায় না। অভিভাবকদের জানিয়েও লাভ হয় না।

শিক্ষকসংকট: বিগত সরকার ২০১৮ সালে প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ জাতীয়করণ করে। তখন এসব কলেজে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। এই আট বছরে অনেক শিক্ষক অবসরে গেছেন। কিন্তু নতুন শিক্ষকের পদায়ন হয়নি। ফলে কলেজগুলোতে শিক্ষকসংকটের কারণে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে না।

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: স্বপ্ন ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

‘তিন মাস আগেই তো হামার ছাওয়াল অনেক আশা করে, সমিতত থ্যাকে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ করে বিদেশ গেছিল। বিদেশ যাইয়ে কামও পাইছিল। কিন্তু সর্বনাশা আগুনে হামার সব শ্যাষ হয়ে গেল। বুকের ধনটা হামাক রেখে চলে গ্যালো। কিসের আশায়, ক্যামন করে হামরা বাঁচমু?

বরেন্দ্র অঞ্চল রক্ষায় আট দফা অঙ্গীকার

বরেন্দ্র অঞ্চল রক্ষায় আট দফা অঙ্গীকার

বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, পানিসংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আট দফা অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন নীতিনির্ধারক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব…

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে খাতায় লেখা সেই পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে খাতায় লেখা সেই পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত

পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে এইচএসসির উত্তরপত্রে দ্বিতীয়বার লেখার সুযোগ পাওয়া রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে তাঁর কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ফলাফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে