অভিযোগ তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তার ১০ হাজার টাকা দাবির অডিও ফাঁস

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পঠিত হয়েছে

ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের দাবি, চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তাঁদের লিখিত অভিযোগের তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

জাজিরা থানা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়।

ইতি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অডিওতে ১০ হাজার টাকা বেশি হয়ে যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অপর প্রান্ত থেকে ‘ধইরা আনতে, মিটমাট করতে আমাগো খরচ আছে না?’ বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে দুলাল মোড়ল টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

ইতি আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন করতেন। কয়েক দিন আগে আমাকে মারধর করলে থানায় লিখিত অভিযোগ করি। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি বলি, আমার ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় এখন আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ইতির মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমাদের কাছে টাকা চাইলে আমরা বলেছি, টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমার ভাতিজা দুলাল বিদেশে থাকে, সে টাকা দেবে। পরে দুলাল ওই পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের ঘটনার কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা থানায় গেলেও পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআই রফিকুল ইসলাম টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে ওসির কক্ষে চলে যান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহমেদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি এবং খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধানের চারা রোপণের সময় স্বপ্ন ছিল ফসল ঘরে তুলবেন। সেই ফসল বিক্রি করে চলবে সংসার, শোধ হবে ধারদেনা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে এখন তলিয়ে আছে তাঁদের ধানখেত। ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রামগড়ের কৃষকদের। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার শত

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে আটক হওয়ার পর কারাভোগ শেষে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন নড়াইলের দুই নারী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

জনপ্রিয় টার্গেট

এক উপজেলাতেই ১০ মাসে ২৫৪ আত্মহত্যা চেষ্টা, মৃত্যু ৩১

অভিযোগ তদন্তে পুলিশ কর্মকর্তার ১০ হাজার টাকা দাবির অডিও ফাঁস

প্রকাশ: ০২:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবারের দাবি, চাহিদামতো টাকা না দেওয়ায় তাঁদের লিখিত অভিযোগের তদন্তে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

জাজিরা থানা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের মালেক শেখের মেয়ে ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার নূর মোহাম্মদ শেখের ছেলে সাত্তার শেখের বিয়ে হয়।

ইতি আক্তারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

অডিওতে ১০ হাজার টাকা বেশি হয়ে যায় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অপর প্রান্ত থেকে ‘ধইরা আনতে, মিটমাট করতে আমাগো খরচ আছে না?’ বলা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে দুলাল মোড়ল টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

ইতি আক্তার বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য আমাকে নির্যাতন করতেন। কয়েক দিন আগে আমাকে মারধর করলে থানায় লিখিত অভিযোগ করি। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই রফিকুল স্যারকে। তিনি আমার কাছে টাকা চাইলে আমি বলি, আমার ভাই প্রবাসে থাকেন, তিনি টাকা দেবেন। পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা না দেওয়ায় এখন আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ইতির মা খাদিজা বেগম বলেন, ‘আমাদের কাছে টাকা চাইলে আমরা বলেছি, টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমার ভাতিজা দুলাল বিদেশে থাকে, সে টাকা দেবে। পরে দুলাল ওই পুলিশকে টাকা না দেওয়ায় আমার মেয়ের ঘটনার কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা থানায় গেলেও পুলিশ গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

তবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআই রফিকুল ইসলাম টাকা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর বিস্তারিত বক্তব্য না দিয়ে তাঁর কক্ষ থেকে বের হয়ে ওসির কক্ষে চলে যান।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহমেদের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনিও মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি এবং খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ধানের চারা রোপণের সময় স্বপ্ন ছিল ফসল ঘরে তুলবেন। সেই ফসল বিক্রি করে চলবে সংসার, শোধ হবে ধারদেনা। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে এখন তলিয়ে আছে তাঁদের ধানখেত। ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রামগড়ের কৃষকদের। গত সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রামগড় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার শত

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে আটক হওয়ার পর কারাভোগ শেষে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন নড়াইলের দুই নারী। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভারতের হরিদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।