মামলায় আটকে যাওয়া মন্দ ঋণ এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০২:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পঠিত হয়েছে

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে অর্থঋণ আদালতসহ বিভিন্ন মামলায় আটকে থাকা মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরেই মামলায় আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা দ্বিগুণের বেশি। আবার চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৫, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলতে থাকায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে; যা প্রায় জাতীয় বাজেটের সমান। এতে ব্যাংকিং খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যাংকিং খাতে মামলায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে এখন ত্বরিতগতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৭টি মামলায় জড়িত অর্থ ১ লাখ ১১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকের ১২ হাজার ৭৪৭টি মামলায় ৩১ হাজার ৫৩৯ কোটি ৪২ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের ২২ হাজার ১৩১টি মামলায় ১৯ হাজার ২৪৪ কোটি ৮৪ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৬ হাজার ৬৪১টি মামলায় ১৪ হাজার ৫১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আটকে আছে। এ ছাড়া বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ২৬০টি মামলায় ১৬ হাজার ৪৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২১ হাজার ৭০৪টি মামলায় অর্থ ১৪ হাজার ৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪৮ হাজার ৬০৬টি মামলায় ৫ হাজার ২৩১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২ হাজার ৬১৪টি মামলায় ২ হাজার ৫৯৫ কোটি আটকে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অর্থঋণ আদালতের ওপর চাপ বাড়ছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গভর্নর অতি দ্রুত অর্থঋণ আদালত আইনের সংশোধন জাতীয় সংসদে পাস করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এটি কার্যকর হলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা যায়।

আইএফসি হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই আনসিকিউরড ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সলিউশন (ডব্লিউসিএস) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য হলো নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা…

প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫–৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

মামলায় আটকে যাওয়া মন্দ ঋণ এক বছরে বেড়ে দ্বিগুণ

প্রকাশ: ০২:১৬:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ শেষে অর্থঋণ আদালতসহ বিভিন্ন মামলায় আটকে থাকা মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরেই মামলায় আটকে থাকা অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা দ্বিগুণের বেশি। আবার চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৫, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৩৩।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্থঋণ আদালতে মামলা চলতে থাকায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে আছে; যা প্রায় জাতীয় বাজেটের সমান। এতে ব্যাংকিং খাত যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যাংকিং খাতে মামলায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারে এখন ত্বরিতগতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংকের ১৩ হাজার ১৭টি মামলায় জড়িত অর্থ ১ লাখ ১১ হাজার ৩৬৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। সোনালী ব্যাংকের ১২ হাজার ৭৪৭টি মামলায় ৩১ হাজার ৫৩৯ কোটি ৪২ লাখ, অগ্রণী ব্যাংকের ২২ হাজার ১৩১টি মামলায় ১৯ হাজার ২৪৪ কোটি ৮৪ লাখ, রূপালী ব্যাংকের ৬ হাজার ৬৪১টি মামলায় ১৪ হাজার ৫১১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আটকে আছে। এ ছাড়া বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ২৬০টি মামলায় ১৬ হাজার ৪৩১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ২১ হাজার ৭০৪টি মামলায় অর্থ ১৪ হাজার ৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৪৮ হাজার ৬০৬টি মামলায় ৫ হাজার ২৩১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২ হাজার ৬১৪টি মামলায় ২ হাজার ৫৯৫ কোটি আটকে আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, অর্থঋণ আদালতের ওপর চাপ বাড়ছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গভর্নর অতি দ্রুত অর্থঋণ আদালত আইনের সংশোধন জাতীয় সংসদে পাস করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এটি কার্যকর হলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করা যায়।

আইএফসি হলো বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বেসরকারি খাতবিষয়ক শাখা। ব্র্যাক ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে এই আনসিকিউরড ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সলিউশন (ডব্লিউসিএস) সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই ঋণের মূল লক্ষ্য হলো নারী উদ্যোক্তাদের পরিচালিত ব্যবসা এবং কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা…

প্রকল্পটির আওতায় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে আরও ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের চাহিদার প্রায় ৪৫–৫০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।