আরডিএ থেকে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ সালে গোধূলি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে দোকান বরাদ্দ শুরু হয়। ভবনের নিচতলার দোকানগুলো খাবারের হোটেল এবং বিভিন্ন বাসের টিকিট কাউন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। দোতলায় ছিল ১৫৭টি দোকান। এর মধ্যে ৪৬টি দোকান মিলিয়ে ৫ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন ব্যবসায়ী শফিকুল আউয়াল খান। এর পাশাপাশি তিনি আরও ১ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন। আরডিএর আরও শতাধিক দোকানের ভাড়াটের কাছ থেকেও তিনি তাঁদের দোকানগুলো নিয়ে নেন। এসব দোকান থেকে জায়গা পান আরও ৪ হাজার ৩০৭ বর্গফুট। এসব দোকান ভেঙে তিনি বানিয়েছেন একটি ফার্নিচারের শোরুম।
ভবনের নকশা অনুযায়ী, দোতলার ১৫৭টি দোকান ছিল কয়েক সারিতে। এসব দোকানে চলাচলের জন্য ৫ হাজার ৭৬৯ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ছিল প্যাসেজ এবং ক্যান্ডিলিভার। নিজের ফার্নিচারের সুবিশাল একটি শোরুম বানাতে এর সবই দখল করেছেন শফিকুল। দোতলায় তিনি মোট ১৬ হাজার ৬৮৯ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করছেন।
রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট: আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে চতুর্থ তলায় কাজ শুরু হয়। ডেভেলপার হিসেবে চারতলার কাজ পান শফিকুল আউয়াল খান। কিন্তু কাজে ব্যাপক অনিয়ম শুরু করেন তিনি। তখন তাঁকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয় আরডিএ। তবে এর মধ্যে চারতলায় ৪ হাজার ৫২৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন শফিকুল। সেখানে সপরিবারে বসবাস করছেন তিনি। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৫৯০ বর্গফুট জায়গা দখল করে বানিয়েছেন ফার্নিচারের গুদাম।
শফিকুলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম খান ফার্নিচার গ্যালারি। গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, চারতলায় ঢোকার মুখে একটি কলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া। ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুবিশাল আয়তনের ফ্ল্যাটটি দামি দামি সব আসবাবে সজ্জিত।
এই অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর উচ্ছেদ অভিযানে যায় আরডিএ। শফিকুল তখন তাঁর হাইকোর্টের রিটের কাগজ দেখালে উচ্ছেদ করতে পারেনি আরডিএ।
শফিকুলের সঙ্গে কথা বলতে মঙ্গলবার শোরুমে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শোরুমে ছিলেন তাঁর ভাতিজা উলগান হাসান খান। এই প্রতিবেদককে কে পাঠিয়েছে, তিনি বারবার তা জানতে চান।
অসহায় আরডিএ: শফিকুল আউয়াল খান চারতলায় অবৈধভাবে মোট ৯ হাজার ১১৪ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করছেন। আর দোতলায় শোরুমের জন্য অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন আরও ১০ হাজার ৭৬ বর্গফুট জায়গা। শুধু দোতলায় ৬ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গা বৈধভাবে ভাড়া নিয়েছেন তিনি। এই জায়গারও ঠিকমতো ভাড়া পরিশোধ করেন না।
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৩ টাকা। সে হিসেবে তিনি ব্যাংকে মাত্র ২৩ হাজার ১৪২ টাকা ভাড়া দেন। তাও বিপুল টাকা বকেয়া পড়েছে। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে ভবনের ভাড়া প্রতি বর্গফুটের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। তবে সাড়ে ৩ টাকা করেই কিছু দিন ভাড়া পরিশোধ করেন শফিকুল।
আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, ‘আরডিএর ভবনটিকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছেন শফিকুল আউয়াল খান। তিনি অনুমোদন ছাড়া নকশা পরিবর্তন করেছেন। এত দিন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আরডিএ তার কাছে অসহায় ছিল। কিছুই করতে পারেনি।’ আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ভবনটিকে আগের ডিজাইনে ফিরিয়ে আনা হবে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের নেতা–কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা তৌসিক আহমেদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিএনপি ও যুবদলও দুই দফায় মিছিল করেছে।
চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে মোহাম্মদ করিম (৩৬) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তরা তাঁর বুকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ মরদেহ সড়কের পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়…
বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলে ইউনিফর্ম পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তিন বান্ধবী। তবে বিদ্যালয়ে না গিয়ে তারা যাচ্ছিল একটি পার্কে। সঙ্গে নিয়েছিল অতিরিক্ত জামা-কাপড় ও দুপুরের খাবার। তবে পার্কে যাওয়ার সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায় ইউএনও’র হস্তক্ষেপে।
দৈনিক টার্গেট 






















