ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির গণশুনানি আজ

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০৮:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকার সময় গত বছরের নভেম্বরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম—এমন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি আদায় শুরু করেন বিক্রেতারা। দেশের বহু এলাকায় এলপি গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি শুরু হয়। এরপর ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে শূল্ক হ্রাস, আমদানির সীমা বৃদ্ধি, এলসি খোলা সহজতর করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সবশেষ তিন মাস ধরে আবার এলপি গ্যাসের দামে অরাজকতা চলছে। মাঝে এক মাসে দুইবার দাম বৃদ্ধি করিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতেও নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি পাননি ভোক্তারা।

এবার পর্যাপ্ত আমদানি হওয়া সত্ত্বেও গত সেপ্টেম্বর থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার অন্তত এক হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫০০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। অক্টোবরে পণ্যটির নির্ধারিত দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হয়। কিন্তু তাতেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সরকার। আগের মতোই ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকায়।

বিইআরসির কাছে জমা পড়া আবেদনে দেখা যায়, ১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে পরিবেশকেরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন দিয়েছেন।

এলপিজি আমদানির ব্যবসায় ৩০টি নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কোম্পানি এখন নিয়মিত আমদানি করে থাকে। আর আমদানিকারকদের থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে বোতলজাত করার কাজে যুক্ত আছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। একসময় বাজারে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে থাকা বসুন্ধরা ও বেক্সিমকো পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে।

দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি ও গণশুনানির তারিখ ঘোষণার পরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

দেশে প্রতিমাসে এলপিজির চাহিদা রয়েছে দেড় লাখ টন। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার ও ১ লাখ ৫৭ হাজার টন করে এলপিজি আমদানি হয়েছে। অক্টোবর মাসেও সমপরিমাণ আমদানি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ আমদানি হচ্ছে চাহিদার চেয়েও কিছুটা বেশি।

২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো মাসে মাসে এলপিজির দর ঘোষণার নিয়ম চালু হয়। তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ধরা হয়েছিল ১৪৩ টাকা। তবে আমদানিকারক বা অপারেটরদের দাবির মুখে তা বাড়িয়ে ১৮৬ টাকা এবং পরে ১৯১ টাকা করা হয়।

আওয়ামী লীগ শেষ দফায় টানা দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার সময় বেশ কয়েকবার কমিশন বা মুনাফার হার বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন আমদানিকারকেরা। তবে তখন তাঁরা সফল হননি। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসানের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় আবার তাঁরা এদিকে সচেষ্ট হলেন।

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জরুরি।

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য দুদিনব্যাপী ইনডাকশন ট্রেনিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আগামী

জনপ্রিয় টার্গেট

লক্ষ্মীপুরে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আটক ২

ব্যবসায়ীদের কমিশন বৃদ্ধির গণশুনানি আজ

প্রকাশ: ০৮:০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে থাকার সময় গত বছরের নভেম্বরে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। চাহিদার তুলনায় আমদানি কম—এমন অজুহাত দেখিয়ে প্রতিটি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০-৭০০ টাকা বেশি আদায় শুরু করেন বিক্রেতারা। দেশের বহু এলাকায় এলপি গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তি শুরু হয়। এরপর ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে শূল্ক হ্রাস, আমদানির সীমা বৃদ্ধি, এলসি খোলা সহজতর করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কিন্তু সবশেষ তিন মাস ধরে আবার এলপি গ্যাসের দামে অরাজকতা চলছে। মাঝে এক মাসে দুইবার দাম বৃদ্ধি করিয়ে নেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতেও নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি পাননি ভোক্তারা।

এবার পর্যাপ্ত আমদানি হওয়া সত্ত্বেও গত সেপ্টেম্বর থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডার অন্তত এক হাজার টাকা বাড়িয়ে ২৫০০ টাকায় বিক্রি শুরু হয়। অক্টোবরে পণ্যটির নির্ধারিত দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা করা হয়। কিন্তু তাতেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সরকার। আগের মতোই ১২ কেজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকায়।

বিইআরসির কাছে জমা পড়া আবেদনে দেখা যায়, ১২ কেজি সিলিন্ডারের কমিশন ১৯১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ওমেরা ৪৭৮ টাকা, পেট্রোম্যাক্স ৩৪৯ টাকা, ডেল্টা ৩৬০ টাকা এবং মেঘনা গ্রুপ ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করেছে। অন্যদিকে পরিবেশকেরা ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা, খুচরা বিক্রেতারা ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণের আবেদন দিয়েছেন।

এলপিজি আমদানির ব্যবসায় ৩০টি নিবন্ধিত কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি কোম্পানি এখন নিয়মিত আমদানি করে থাকে। আর আমদানিকারকদের থেকে গ্যাস সংগ্রহ করে নিজস্ব প্ল্যান্টে বোতলজাত করার কাজে যুক্ত আছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। একসময় বাজারে নেতৃত্বস্থানীয় পর্যায়ে থাকা বসুন্ধরা ও বেক্সিমকো পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা বন্ধ রেখেছে।

দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতে ১৫ ও ১৬ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সরকারের কড়া হুঁশিয়ারি ও গণশুনানির তারিখ ঘোষণার পরপরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

দেশে প্রতিমাসে এলপিজির চাহিদা রয়েছে দেড় লাখ টন। গত আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৫৬ হাজার ও ১ লাখ ৫৭ হাজার টন করে এলপিজি আমদানি হয়েছে। অক্টোবর মাসেও সমপরিমাণ আমদানি হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থাৎ আমদানি হচ্ছে চাহিদার চেয়েও কিছুটা বেশি।

২০২১ সালের এপ্রিলে প্রথমবারের মতো মাসে মাসে এলপিজির দর ঘোষণার নিয়ম চালু হয়। তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ধরা হয়েছিল ১৪৩ টাকা। তবে আমদানিকারক বা অপারেটরদের দাবির মুখে তা বাড়িয়ে ১৮৬ টাকা এবং পরে ১৯১ টাকা করা হয়।

আওয়ামী লীগ শেষ দফায় টানা দীর্ঘ দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার সময় বেশ কয়েকবার কমিশন বা মুনাফার হার বাড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন আমদানিকারকেরা। তবে তখন তাঁরা সফল হননি। জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের অবসানের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় আবার তাঁরা এদিকে সচেষ্ট হলেন।

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন: সরকারি ঋণের চাপে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মুদ্রানীতির কার্যকারিতা

ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং প্রবৃদ্ধির গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের মধ্যে নীতিগত সমন্বয় জরুরি।

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউআইইউতে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের ইনডাকশন ট্রেনিং অনুষ্ঠিত

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে নবনিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য দুদিনব্যাপী ইনডাকশন ট্রেনিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির প্রথম দিনের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম আগামী