টাইমস অব ইসরায়েলের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম পার্টি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে দল দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত মঙ্গলবারের নির্বাচনে আরব ভোটারদের রেকর্ড অংশগ্রহণের মধ্যে এই ফলাফল এসেছে। নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রত্যাশায় আরব ভোটাররা ব্যাপকভাবে ভোট দেন। এর আগে আরব দলগুলোর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ছিল ১৫।
বুধবার রাত ৯টার পর প্রকাশিত সিইসির হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়, প্রায় সব নিয়মিত ভোটকেন্দ্রের ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ফলাফল এখনো চূড়ান্ত না হলেও এতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটকে নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে এগিয়ে দেখানো হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর বুথফেরত জরিপেও আইজেনকটের জোটকে দুই থেকে তিনটি আসনে এগিয়ে রাখা হয়। তবে রাতভর ভোট গণনার পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যায়।
সিইসি জানিয়েছে, প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার দ্বৈত খামযুক্ত ভোট গণনা বাকি রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ১টায় এসব ভোট গণনা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং সন্ধ্যার মধ্যে তা শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। সেনাসদস্য, বন্দি, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারা ব্যক্তিরা মূলত এসব ভোট দিয়ে থাকেন। কোনো ভোটার একাধিকবার ভোট দিয়েছেন কি না, তা যাচাই করে এসব ব্যালট গণনা করা হয়।
বাকি সাধারণ ব্যালট গণনাতেও অতিরিক্ত তদারকির প্রয়োজন হওয়ায় ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিটি। দ্বৈত খামযুক্ত ভোটের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাব উল্লেখ করে সিইসি বলেছে, কর্মকর্তারা তখনো ব্যালট গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
বাকি ভোটের ফল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রকাশের কথা ছিল। নির্বাচনের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ নভেম্বর। প্রতিটি সংসদীয় আসনের বিপরীতে আনুমানিক ৪০ হাজার ভোট বিবেচনায় এসব ভোট চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বুধবার দুপুর ২টা ৩২ মিনিটের হিসাব অনুযায়ী, ২৬টি আসন নিয়ে লিকুদ ছিল বৃহত্তম দল। আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছিল ২১টি আসন। নাফতালি বেনেটের বি'ইয়াচাদ এবং ইউসেফ জাবারিনের জয়েন্ট লিস্ট পেয়েছিল ১২টি করে আসন। বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পেয়েছিল আটটি আসন।
কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত, অতি-ধর্মীয় অর্থোডক্স শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম, মানসুর আব্বাসের রা'আম এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পেয়েছিল সাতটি করে আসন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি পেয়েছিল ছয়টি আসন।
ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩ দশমিক ২৫ শতাংশের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করতে পারেনি। অফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পেয়েছিল ১ দশমিক ৬১ শতাংশ ভোট। অতি-ধর্মীয় অর্থোডক্স জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার লক্ষ্যে গঠিত চারেদি পাবলিক পেয়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট।
লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম, ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টিকে নিয়ে গঠিত নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩। বর্তমান নেসেটে জোটটির আসনসংখ্যা ৬৮। ফলে নতুন নির্বাচনে তাদের আসন আটকে যাওয়ার পরিবর্তে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে, ইয়াশার, বি'ইয়াচাদ, ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনুকে নিয়ে গঠিত আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সম্মিলিত ১৯টি আসন নেতানিয়াহুবিরোধী জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটস ছাড়া জায়নিস্ট জোটের অন্য সদস্যরা আরব দল দুটির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

দৈনিক টার্গেট 


























