বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আয়োজিত এক প্রতিযোগিতায় ২৩৯টি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এ সাফল্য অর্জন করেন তাঁরা।
বিজয়ী দুই শিক্ষার্থী হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ১৪তম ব্যাচের মো. মাইদুল ইসলাম মাহিদ ও মো. আজিজুল ইসলাম। তাঁরা যৌথভাবে বাঁশপাতা ব্যবহার করে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব চা উৎপাদনের ব্যবসায়িক ধারণা উপস্থাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশপাতার সম্ভাবনাময় ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগের পরিকল্পনা করেন মাহিদ। পরে সহপাঠী আজিজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেন তিনি। বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন তাঁরা। এতে ২৩৯টি দলের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন দুই শিক্ষার্থী।
বিজয়ী শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ইউনিলিভার, গ্রিন ভয়েস, দ্য আর্থ সোসাইটি ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।
নিজেদের উদ্যোগের বিষয়ে মো. মাইদুল ইসলাম মাহিদ বলেন, ‘আমরা ভাবছিলাম, বাংলাদেশে বাঁশপাতার চা নিয়ে কাজ করা যায় কি না। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের সম্ভাবনাময় পণ্যের বাজার রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আজিজুলকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিযোগিতায় আবেদন করি। পরে নির্বাচিত হয়ে বুটক্যাম্পে অংশ নিই। শেষ পর্যন্ত প্রথম স্থান অর্জন করতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাঁশপাতা পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এতে সিলিকা, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। আমরা বাঁশপাতার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব চা বাজারে আনতে চাই।’
জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন ও এক লাখ টাকার ফান্ড পাওয়ার সুযোগকে নিজেদের উদ্যোগ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় গবেষণা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঁশপাতার মতো সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান কাজে লাগিয়ে দেশে নতুন পরিবেশবান্ধব পণ্যের বাজার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

দৈনিক টার্গেট 
























