জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্বাচনী প্রতীকের জন্য ‘শাপলা’ পেতে ব্যাপকভাবে জোর দিচ্ছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছেন, শাপলা ছাড়া অন্য কোনো প্রতীক গ্রহণ করা হবে না না পেলে আন্দোলন ও আইনগত পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে দলটি।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, শীঘ্রই এনসিপির শীর্ষনেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করে প্রতীক বরাদ্দের দাবি জানাবেন। একই সঙ্গে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতিও চলছে বলে দল থেকে জানা গেছে। এনসিপি নেতারা মনে করেন, শাপলা না পেলে তা কেবল প্রতীকের বিষয় নয় এটা তাদের রাজনীতির মাঠে টিকে থাকার সক্ষমতা পরীক্ষাও বটে।
এনসিপির বিভিন্ন প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, শাপলা জাতীয় ফুল হলেও এটি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে বাধা নেই। দলটি অভিযোগ করেছে যে, পূর্বে ইসির সঙ্গে তাদের বৈঠকে শাপলা প্রতীক দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু পরে কোন প্রভাবশালী সংস্থার প্রতিবন্ধকতায় ইসি অবস্থান পরিবর্তন করেছে। এনসিপি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে খারাপ নজির গড়তে পারে।
পক্ষান্তরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, তাদের তালিকাভুক্ত ১১৫ প্রতীকের মধ্যে ‘শাপলা’ নেই। নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলকে নির্ধারিত তালিকার মধ্য থেকে প্রতীক বেছে নিতে হবে। ইসির এই অবস্থান প্রকাশিত হতেই এনসিপির পক্ষ থেকে ক্ষোভ উবুঝে ওঠে দলটি বলছে, তালিকাভুক্তি না থাকলেই কেন শাপলা প্রতীকের বাইরে রাখা হচ্ছে, তার আইনগত ব্যাখ্যা নেই।
এক নাম না প্রকাশ করা এনসিপি নেতা দাবী করেন, “ইসির সার্বিক আচরণ একপক্ষীয় হয়ে পড়েছে; তারা যেন কোনো নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।” দলের নেতারা আরও বলেন, যদি ইসি বিকল্প কোনো প্রতীক দেয় বা শাপলা থেকে বিরত রাখে, তাহলে তাদের সামনে রাজপথই শেষ সমাধান হিসেবে বাকি থাকবে। এনসিপির সিনিয়র নেতা অর্থাৎ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আশা রাখি ইসি বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে; নাহলে কঠোর আন্দোলন বেছে নেব তারা।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে কি কারণে ‘জাতীয় ফুল শাপলা’ নির্দিষ্ট কোনো দলীয় প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না? অনেকের দাবি, যদি আইনে বা নিয়মে স্পষ্ট কোনো নিষেধ না থাকে, তাহলে শাপলাকে তালিকাভুক্ত করার নিয়মকানুন পুনর্বিবেচনা হওয়া উচিৎ। অন্যদিকে ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতীকের তালিকা একবার নির্ধারিত হলে তা বদলানো বা নতুন প্রতীক যুক্ত করতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।
নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই এনসিপি তাদের রাজনৈতিক কৌশল সাজাচ্ছে সংযুক্তি হিসেবে প্রশাসন ও আলোকপাত, আদালত-ভিত্তিক আইনি লড়াই এবং প্রয়োজনে রাজপথে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি। দলটির তরফে বারবার জোর দেওয়া হচ্ছে, শাপলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প তারা গ্রহণ করবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে এই বিতর্ক কেবল একটি দলের অভিমতের চেয়ে বড় একটি প্রশ্ন তুলছে নিঃসন্দেহে এটি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, প্রতীকের সাংবিধানিকতা ও ভবিষ্যত নির্বাচনী সংস্কৃতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটে ইসি কীভাবে এই দাবি ও নিয়ম-শৃঙ্খলাকে সামলায়, তা নজর রাখার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এনসিপি তাদের প্রতীকের জন্য ‘শাপলা’ দাবি নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে; শীঘ্রই অঙ্গভুক্ত নেতৃত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করবেন, পাশাপাশি আইনি পথও খোলা রাখছেন। ইসি বলেছে তালিকাভুক্ত নয় বলেই বিকল্প গ্রহণ করতে হবে কিন্তু এনসিপি এটিকে গ্রহণযোগ্যভাবে মেনে নেবে না বলেই স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে চলছে রাজনৈতিক সংগ্রাম।
দৈনিক টার্গেট 















