গত বছর মেয়ের ফোনে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের পর থেকে এতে আগ্রহ জাগে তানের। ট্রিপের প্রস্তুতির জন্য তিনি এআই অ্যাপে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন, ৯৬ বছর বয়সে তিব্বত ভ্রমণ নিরাপদ কি না। এআই নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে না পারলেও তান নিজেই নিজের সফরসঙ্গী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
গত অক্টোবরে তান একাই চেপে বসলেন তিব্বতগামী ট্রেনে। দীর্ঘ ৪৩ ঘণ্টার সফর, ৩ হাজার কিলোমিটারের পথ। ট্রেনের এক তরুণী যাত্রী তানের বয়স শুনে সানন্দে নিজের নিচের বার্থটি তানকে ছেড়ে দেন। তান ভাড়ার বাকি টাকা দিতে চাইলেও সেই তরুণী তা বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেন। অবশেষে ১২ অক্টোবর তান পা রাখলেন লাসায়।
লাসায় পৌঁছানোর পর সেখানকার রেলওয়ে স্টাফরা হুইলচেয়ার দিয়ে তাঁকে রাইড-হেইলিং এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেন এবং হোটেলের কর্মচারীরাও তাঁর প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নেন। তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা, লাসা নদীতে সন্ধ্যাকালীন ক্রুজ উপভোগ করা, বাসে চড়ে শহর ঘুরে বেড়ানো কিংবা ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে হেঁটে বেড়ানো—সবই করলেন তিনি। অলৌকিকভাবে, কোনো উচ্চতাজনিত অসুস্থতা তাঁকে স্পর্শও করতে পারেনি!
লাসায় এক রেস্তোরাঁয় আরেকজন পর্যটক তানের গল্প শুনে তাঁর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তান ভাইরাল হয়ে যান। ২১ অক্টোবর তিনি নিরাপদে নিজ শহর উক্সিতে ফিরে আসেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাঁর এই অদম্য সাহসের প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘স্বপ্নের পিছু ছুটতে বয়স যে কোনো বাধা নয়, মি. তান তা প্রমাণ করেছেন।’ যদিও অনেকে ৪ হাজার মিটার উঁচুতে এই বয়সে একাকী ভ্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কিছুটা চিন্তাও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তান প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা যদি প্রবল হয়, আর সঙ্গে যদি প্রযুক্তির আলো থাকে, তবে ৯৬ বছর বয়সেও তিব্বত জয় করা অসম্ভব নয়!

দৈনিক টার্গেট 


























