মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেন্টাগনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইরান যুদ্ধ মূলত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত একটি বিষয় সমাধানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় যুদ্ধটি মূলত যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন অভিযান হয়ে উঠেছে।’
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান নেতা সিএনএনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই এই যুদ্ধের জন্য কাউকে দায়ী করতে চান, তাহলে সেই ব্যক্তি হবেন পিট হেগসেথ। তাঁর ভাষায়, ‘শুরু থেকেই যুদ্ধের সময়সীমা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে পিট হয় অসত্য তথ্য দিয়েছেন, নয়তো ভুল বলেছেন। এর কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভোটারদের পাশাপাশি ট্রাম্পও ইরান যুদ্ধকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গতকাল বুধবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধের কারণে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
এদিকে, কেনটাকির রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ইতোমধ্যে আটটি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদে তাঁর অভিশংসনের বিষয়ে ভোটাভুটি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ম্যাসির।
তবে হেগসেথের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন ট্রাম্প। বুধবার সাংবাদিকদের কাছে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘না, আমার মনে হয়, তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।’ একই দিন ইউএসএ টুডেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলি উইলসন বলেন, ‘পুরো প্রতিরক্ষা বিভাগ মন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমাদের সামরিক সদস্য এবং আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভাগ কাজ চালিয়ে যাবে।’
ইরান যুদ্ধের পক্ষে হেগসেথের ভূমিকার কথাও প্রকাশ্যে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। গত ২৩ মার্চ তিনি বলেন, ‘পিট, আমার মনে হয়, আপনিই প্রথম এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। আপনি বলেছিলেন, আমাদের এটা করা উচিত, কারণ তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের সময় টিলিস বলেন, ‘নির্বাচনের পর আমাদের বিবেচনা করতে হবে, প্রতিরক্ষা খাতের প্রয়োজনীয়তা কংগ্রেসের সামনে তুলে ধরার জন্য হেগসেথই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। বিশেষ করে, চলতি কংগ্রেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি যদি কোনো উদ্যোগ পাস করাতে চান, তাহলে হাতে সময় রয়েছে মাত্র ৬০ দিন।’
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা হেগসেথের দায়িত্ব পালন এবং পেন্টাগন পরিচালনার বিভিন্ন দিক নিয়ে তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট নেতাদের সহযোগীরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য তদন্তে ইরান যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হতে পারে। যাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানও রয়েছেন।
এ ছাড়া ইউক্রেন বিষয়ে হেগসেথের নীতি এবং লাতিন আমেরিকার জলসীমায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার বিষয়েও তদন্তের মুখে পড়তে পারেন তিনি। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার অভিযোগ, এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
আগামী বছর প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ। তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরান যুদ্ধ পরিচালনা থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনীর ‘অরাজনৈতিক ভিত্তির ক্ষয়’ পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
স্মিথের এই অবস্থানের ফলে হেগসেথের দায়িত্ব পালন, সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং পেন্টাগনের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড আগামী বছর ডেমোক্র্যাটদের কঠোর কংগ্রেসীয় তদারকির মুখে পড়তে পারে।

দৈনিক টার্গেট 



























