মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করছে চীন–ইরান, এখনো চলছে বিলিয়ন ডলারের লেনদেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার পঠিত হয়েছে

একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীনকেও ছাড়মূল্যে ইরানের তেল পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, ইরানে পণ্য রপ্তানি করা চীনা ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক নজরদারি বা শাস্তির ঝুঁকি থেকেও আড়ালে রাখতে সাহায্য করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা কয়েকটি ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে ওয়াশিংটন এখনো বিরত রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপ আরও বাড়িয়েছে। আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তা না হলে তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

তবে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের ফলে এই পণ্য-বিনিময়ভিত্তিক ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, তা রয়টার্স নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি।

তবে সূত্রগুলো চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কথিত এসব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এসব লেনদেন সত্যিই হয়েছে কি না, তা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞাসহ জাতিসংঘের একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। তারও আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ইরানও ওই চুক্তির কিছু শর্ত মানা বন্ধ করে। ইউরোপের দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করায় ইরান ও চীন বলেছে, এই পদক্ষেপ আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ইরানের জাতিসংঘ মিশন রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ‘ইরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুগত উপকরণ থেকে বঞ্চিত করা যায়।’ তবে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সের পণ্য-বিনিময় ব্যবস্থার প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল কেনার মতো ক্রেতা এখন খুব কম। পণ্যবাজারের তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চীনই ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা। ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে পাঠানো মোট তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে। এর পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল। ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। এতে জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তিটির প্রকাশ্য বিস্তারিত তথ্য এখনো খুবই সীমিত।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি চীনা কোম্পানিকে অর্থ না দিয়ে চীন থেকে পণ্য ও সেবা কেনার জন্য ইরান যে কয়েকটি ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তার একটি হলো এই পণ্য-বিনিময় ব্যবস্থা। এ বিষয়ে জানেন এমন তিনজন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে জানেন এমন আরও দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একজন ক্রেতা অন্তত চলতি বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার চীনের একটি অপরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম চু শিন (ChuXin)।

ওই ব্যক্তিরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, এই অর্থ দিয়ে হংকংয়ে নিবন্ধিত এবং ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা পণ্য কেনার অর্থ পরিশোধ করা হতো। এরপর চু শিন চীনা রপ্তানিকারক এবং ইরানে অবকাঠামো নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পাঠাত। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থ চীনের আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হতো।

তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চু শিনের মাধ্যমে পরিচালিত ইরানের তেল বিক্রির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। বাকি অর্থ একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকলের (এসপিভি) হিসাবে রাখা হয়। এই অর্থ ইরানে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, চু শিন হয়তো বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং শুধু একটি স্প্রেডশিটে ব্যবহৃত একটি নাম হতে পারে। জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানি বা এনআইওসি (NIOC) এবং ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করছে বলে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলা হয়েছে, একই নামের কোম্পানি হংকংয়ের কোম্পানি নিবন্ধন দপ্তরে রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কাঠামো বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো প্রকাশ্য রেকর্ড রয়টার্স খুঁজে পায়নি।

এসব কোম্পানি যেসব ঠিকানা নিবন্ধিত করেছে, সেখানে রয়টার্সের পাঠানো প্রশ্নেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ওই ঠিকানাগুলো এমন অফিসে, যেগুলো কোম্পানি সচিবালয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা পরিচালিত।

ইরানের সঙ্গে কথিত লেনদেনের কারণে ঝুহাই ঝেনরং আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একটি সূত্র রয়টার্সকে এমন একটি চিঠি দিয়েছে, যা দেখতে ২০২৫ সালের ২২ জুলাই ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি এনআইওসির পক্ষ থেকে চীনা তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঠানো চিঠি বলে মনে হয়। এতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

ওই সূত্রের দাবি, চিঠিটি এসআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণ। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে নথিটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এনআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংকে ওই চিঠি এবং তাদের কথিত ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল—যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া। এমনটা করতে ইসরায়েলি সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল উর্ধ্বতন মহল থেকে।

চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অভিবাসী, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারী দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গকতাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি এক নোটিশে…

ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদ শহরের একটি শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনের বেলায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে চালানো ওই হামলায় দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জনপ্রিয় টার্গেট

সমর্থন প্রত্যাহার করে এবার ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ফ্রান্স

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থোড়াই কেয়ার করছে চীন–ইরান, এখনো চলছে বিলিয়ন ডলারের লেনদেন

প্রকাশ: ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক চীনকেও ছাড়মূল্যে ইরানের তেল পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, ইরানে পণ্য রপ্তানি করা চীনা ব্যাংক ও কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক নজরদারি বা শাস্তির ঝুঁকি থেকেও আড়ালে রাখতে সাহায্য করেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা কয়েকটি ছোট চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এমন সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে ওয়াশিংটন এখনো বিরত রয়েছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চাপ আরও বাড়িয়েছে। আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, তা না হলে তাদের ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।

তবে ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের ফলে এই পণ্য-বিনিময়ভিত্তিক ব্যবস্থায় কী প্রভাব পড়েছে, তা রয়টার্স নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহালের পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে চীনে যেতে পারেনি।

তবে সূত্রগুলো চীনা নির্মাতাদের সঙ্গে কথিত এসব লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এসব লেনদেন সত্যিই হয়েছে কি না, তা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর বড় ধরনের প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞাসহ জাতিসংঘের একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। তারও আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ইরানও ওই চুক্তির কিছু শর্ত মানা বন্ধ করে। ইউরোপের দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের ব্যবস্থা ব্যবহার করে এসব নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করায় ইরান ও চীন বলেছে, এই পদক্ষেপ আইনগত ও প্রক্রিয়াগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

নিউইয়র্ক ও জেনেভায় ইরানের জাতিসংঘ মিশন রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো জবাব দেয়নি। হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে ‘ইরানকে তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বস্তুগত উপকরণ থেকে বঞ্চিত করা যায়।’ তবে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সের পণ্য-বিনিময় ব্যবস্থার প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল কেনার মতো ক্রেতা এখন খুব কম। পণ্যবাজারের তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চীনই ইরানের প্রধান তেল ক্রেতা। ২০২৫ সালে ইরান থেকে সমুদ্রপথে পাঠানো মোট তেলের ৮০ শতাংশের বেশি চীন কিনেছে। এর পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল। ২০২১ সালে চীন ও ইরান ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। এতে জ্বালানি ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তিটির প্রকাশ্য বিস্তারিত তথ্য এখনো খুবই সীমিত।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি চীনা কোম্পানিকে অর্থ না দিয়ে চীন থেকে পণ্য ও সেবা কেনার জন্য ইরান যে কয়েকটি ব্যবস্থা ব্যবহার করে, তার একটি হলো এই পণ্য-বিনিময় ব্যবস্থা। এ বিষয়ে জানেন এমন তিনজন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।

এক পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে জানেন এমন আরও দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করা একজন ক্রেতা অন্তত চলতি বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার চীনের একটি অপরিচিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দিতেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম চু শিন (ChuXin)।

ওই ব্যক্তিরা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগ্রহ করা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, এই অর্থ দিয়ে হংকংয়ে নিবন্ধিত এবং ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা পণ্য কেনার অর্থ পরিশোধ করা হতো। এরপর চু শিন চীনা রপ্তানিকারক এবং ইরানে অবকাঠামো নির্মাণকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পাঠাত। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থ চীনের আরও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পাঠানো হতো।

তিনটি সূত্র জানিয়েছে, চু শিনের মাধ্যমে পরিচালিত ইরানের তেল বিক্রির অর্থের প্রায় ৭০ শতাংশ অবকাঠামো প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। গত বছরের অক্টোবরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এই ব্যবস্থার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। বাকি অর্থ একটি বিশেষ উদ্দেশ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বা স্পেশাল পারপাস ভেহিকলের (এসপিভি) হিসাবে রাখা হয়। এই অর্থ ইরানে পণ্য সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে অর্থ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, চু শিন হয়তো বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠানই নয়, বরং শুধু একটি স্প্রেডশিটে ব্যবহৃত একটি নাম হতে পারে। জাতীয় ইরানি তেল কোম্পানি বা এনআইওসি (NIOC) এবং ঝুহাই ঝেনরংয়ের হয়ে কাজ করছে বলে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম বলা হয়েছে, একই নামের কোম্পানি হংকংয়ের কোম্পানি নিবন্ধন দপ্তরে রয়েছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানার কাঠামো বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো প্রকাশ্য রেকর্ড রয়টার্স খুঁজে পায়নি।

এসব কোম্পানি যেসব ঠিকানা নিবন্ধিত করেছে, সেখানে রয়টার্সের পাঠানো প্রশ্নেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ওই ঠিকানাগুলো এমন অফিসে, যেগুলো কোম্পানি সচিবালয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা পরিচালিত।

ইরানের সঙ্গে কথিত লেনদেনের কারণে ঝুহাই ঝেনরং আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একটি সূত্র রয়টার্সকে এমন একটি চিঠি দিয়েছে, যা দেখতে ২০২৫ সালের ২২ জুলাই ইরানের জাতীয় তেল কোম্পানি এনআইওসির পক্ষ থেকে চীনা তেল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঠানো চিঠি বলে মনে হয়। এতে বকেয়া অর্থের পরিমাণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল।

ওই সূত্রের দাবি, চিঠিটি এসআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংয়ের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্কের প্রমাণ। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে নথিটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এনআইওসি ও ঝুহাই ঝেনরংকে ওই চিঠি এবং তাদের কথিত ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক লোকজনকে হত্যা করার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল—যেকোনো মূল্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেওয়া। এমনটা করতে ইসরায়েলি সেনাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল উর্ধ্বতন মহল থেকে।

চাকরি হারানোর পর নতুন স্পনসর খুঁজে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির অভিবাসী, বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারী দক্ষ কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার যে ৬০ দিনের সুযোগ রয়েছে, তা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। স্থানীয় সময় গকতাল বৃহস্পতিবার অনলাইনে প্রকাশিত সরকারি এক নোটিশে…

ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদ শহরের একটি শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিনের বেলায় মানুষের ভিড়ের মধ্যে চালানো ওই হামলায় দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।