যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে ইরানের হাত আছে: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ১২:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ৮ বার পঠিত হয়েছে

আজ বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ‘গত উইকেন্ডে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলমান। আমরা সঠিক সময়ে বিস্তারিত প্রকাশ করব। তবে এটা নিশ্চিত যে, এ ঘটনায় ইরানের হাত রয়েছে।’

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, সন্দেহভাজন এই সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় একটি ‘বিদেশি রাষ্ট্রের হাত’ রয়েছে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার আভাস দেন।

তবে তেহরান এই অভিযোগ শুরু থেকেই সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা তিনটি ভ্যানে কোনো ধরনের বিস্ফোরক না মেলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে জামিনে মুক্তি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ বিষয়ে মার্কিন অসন্তোষ ও জনমনে ওঠা প্রশ্ন খারিজ করে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, ‘মানুষের বোঝা উচিত, জামিনে মুক্তি মানেই ছাড় পেয়ে যাওয়া নয়। কঠোর শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি রাখা হচ্ছে। তদন্তকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

এদিকে দ্য টাইমস ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে আসামিদের মধ্য থেকে একজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেছিলেন। তার পরপরই স্থানীয় এক নারী মুখোশ পরা কিছু মানুষ ও সন্দেহভাজন সাদা ভ্যান দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ শেষ মুহূর্তে পিছু হটতে চেয়েছিলেন নাকি ৯৯৯-এ ফোন করাটা তাঁদের পরিকল্পনারই কোনো অংশ ছিল।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা লরেন্স টেলর জানান, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরক না মিললেও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসী পরিকল্পনার পেছনে মূল ইন্ধনদাতা কারা, তা খুঁজে বের করতে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝআকাশে দুই পাইলটের রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি ও বিমান ভূপাতিত করার চেষ্টার ঘটনায় ককপিটে হামলা চালানো পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বিন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমান। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎই বিমানের ভেতরে সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতিতে বিমানটি প্রায় হাইজ্যাকের ঝুঁকিতে পড়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জনপ্রিয় টার্গেট

বগুড়ার শেরপুর: হাজারো মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে চক্র

যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলার ষড়যন্ত্রে ইরানের হাত আছে: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২:২৮:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

আজ বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, ‘গত উইকেন্ডে আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যা ঘটেছে, তাতে ইরানের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। পুলিশের তদন্ত চলমান। আমরা সঠিক সময়ে বিস্তারিত প্রকাশ করব। তবে এটা নিশ্চিত যে, এ ঘটনায় ইরানের হাত রয়েছে।’

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, সন্দেহভাজন এই সন্ত্রাসী পরিকল্পনায় একটি ‘বিদেশি রাষ্ট্রের হাত’ রয়েছে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে তেহরানের সম্পৃক্ততার আভাস দেন।

তবে তেহরান এই অভিযোগ শুরু থেকেই সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত রয়্যাল এয়ারফোর্সের ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ২৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী পাঁচজন ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা তিনটি ভ্যানে কোনো ধরনের বিস্ফোরক না মেলায় শর্তসাপেক্ষে তাঁদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে জামিনে মুক্তি দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

এ বিষয়ে মার্কিন অসন্তোষ ও জনমনে ওঠা প্রশ্ন খারিজ করে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম বলেন, ‘মানুষের বোঝা উচিত, জামিনে মুক্তি মানেই ছাড় পেয়ে যাওয়া নয়। কঠোর শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি রাখা হচ্ছে। তদন্তকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

এদিকে দ্য টাইমস ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টা আগে আসামিদের মধ্য থেকে একজন জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেছিলেন। তার পরপরই স্থানীয় এক নারী মুখোশ পরা কিছু মানুষ ও সন্দেহভাজন সাদা ভ্যান দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ শেষ মুহূর্তে পিছু হটতে চেয়েছিলেন নাকি ৯৯৯-এ ফোন করাটা তাঁদের পরিকল্পনারই কোনো অংশ ছিল।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা লরেন্স টেলর জানান, ঘটনাস্থলে বিস্ফোরক না মিললেও সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। এই সন্ত্রাসী পরিকল্পনার পেছনে মূল ইন্ধনদাতা কারা, তা খুঁজে বের করতে কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইসরায়েলগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর বিমানে মাঝআকাশে দুই পাইলটের রক্তক্ষয়ী হাতাহাতি ও বিমান ভূপাতিত করার চেষ্টার ঘটনায় ককপিটে হামলা চালানো পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসরায়েলের বিন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমান। কিন্তু মাঝপথে হঠাৎই বিমানের ভেতরে সৃষ্টি হয় চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতিতে বিমানটি প্রায় হাইজ্যাকের ঝুঁকিতে পড়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই, মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এবং অ্যানথ্রপিকের সিইও দারিও আমোদেইসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।