০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষায় পায়ে সংক্রমণ এড়াতে যা করবেন

  • দৈনিক টার্গেট
  • প্রকাশ: ০১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৫০ বার পঠিত হয়েছে

পায়ের ছত্রাকজনিত সংক্রমণ

বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টি, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বাইরে চলাচল করা অনেকের জন্যই দৈনন্দিন বাস্তবতা। তবে এই সময় পায়ের পরিচর্যায় সামান্য অসতর্কতাও ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা বা মোজা পরে থাকলে পায়ের আঙুলের মাঝখানে আর্দ্রতা তৈরি হয়। এমন পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুরুতে হালকা চুলকানি বা লালচে ভাব থাকলেও চিকিৎসা না নিলে তা ধীরে ধীরে সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

পায়ে ছত্রাকজনিত সমস্যার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, ত্বক উঠে যাওয়া, দুর্গন্ধ, খসখসে ভাব, গোলাকার দাগ কিংবা ফোলাভাব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংক্রমণ বাড়লে ঘা বা পুঁজও হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বৃষ্টির পানি বা কাদায় পা ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর শুকনো তোয়ালে দিয়ে পুরো পা, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা জুতা বা মোজা পরে দীর্ঘ সময় থাকা একেবারেই উচিত নয়। বাইরে বের হলে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত এক জোড়া স্যান্ডেল বা মোজা সঙ্গে রাখাও উপকারী হতে পারে।

বর্ষাকালে এমন জুতা ব্যবহার করা ভালো, যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। যদি বন্ধ জুতা ভিজে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ শুকানোর পরই পুনরায় ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত জুতা পরিষ্কার রাখলে জীবাণুর বিস্তার কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কয়েক মিনিট পা পরিষ্কার রাখা আরাম দিতে পারে। এছাড়া ত্বক শুষ্ক না রাখতে রাতে নারকেল তেলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো সংক্রমণ দেখা দিলে এসব উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পায়ের সামান্য কাটা, ফোসকা বা ক্ষতও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ তাদের ক্ষত সারতে সময় বেশি লাগে এবং সংক্রমণ দ্রুত জটিল হতে পারে। তাই বর্ষাকালে নিয়মিত পায়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

জনপ্রিয় টার্গেট

বড়াইগ্রামে ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে কিশোর নিহত

বর্ষায় পায়ে সংক্রমণ এড়াতে যা করবেন

প্রকাশ: ০১:০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টি, কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে বাইরে চলাচল করা অনেকের জন্যই দৈনন্দিন বাস্তবতা। তবে এই সময় পায়ের পরিচর্যায় সামান্য অসতর্কতাও ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা বা মোজা পরে থাকলে পায়ের আঙুলের মাঝখানে আর্দ্রতা তৈরি হয়। এমন পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুরুতে হালকা চুলকানি বা লালচে ভাব থাকলেও চিকিৎসা না নিলে তা ধীরে ধীরে সংক্রমণে রূপ নিতে পারে।

পায়ে ছত্রাকজনিত সমস্যার সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে আঙুলের ফাঁকে চুলকানি, ত্বক উঠে যাওয়া, দুর্গন্ধ, খসখসে ভাব, গোলাকার দাগ কিংবা ফোলাভাব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংক্রমণ বাড়লে ঘা বা পুঁজও হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, বৃষ্টির পানি বা কাদায় পা ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর শুকনো তোয়ালে দিয়ে পুরো পা, বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা জুতা বা মোজা পরে দীর্ঘ সময় থাকা একেবারেই উচিত নয়। বাইরে বের হলে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত এক জোড়া স্যান্ডেল বা মোজা সঙ্গে রাখাও উপকারী হতে পারে।

বর্ষাকালে এমন জুতা ব্যবহার করা ভালো, যাতে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। যদি বন্ধ জুতা ভিজে যায়, তাহলে সম্পূর্ণ শুকানোর পরই পুনরায় ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত জুতা পরিষ্কার রাখলে জীবাণুর বিস্তার কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কয়েক মিনিট পা পরিষ্কার রাখা আরাম দিতে পারে। এছাড়া ত্বক শুষ্ক না রাখতে রাতে নারকেল তেলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কোনো সংক্রমণ দেখা দিলে এসব উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পায়ের সামান্য কাটা, ফোসকা বা ক্ষতও অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ তাদের ক্ষত সারতে সময় বেশি লাগে এবং সংক্রমণ দ্রুত জটিল হতে পারে। তাই বর্ষাকালে নিয়মিত পায়ের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।